মাস চার-পাঁচেক আগেও হয়তো ভাবা যায়নি এ রকম কিছু হতে পারে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জার্সিতে আবার বিশ্বকাপে খেলতে পারেন ক্রিস গেল। কিন্তু সেটাই আবার ঘটতে চলেছে। আর অল্প কিছু দিনের মধ্যেই নিজের পঞ্চম বিশ্বকাপে নামতে চলেছেন এই ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি। 

কিন্তু ৩৯ বছর বয়সেও কী ভাবে নিজেকে ফিট রাখছেন বিশ্বক্রিকেটের ‘ইউনিভার্স বস’? ফিট থাকার জন্য বিশেষ একটি রুটিন বানিয়ে ফেলেছেন গেল। শুনলে অবাক হতে হবে যে, গেলের এই রুটিনে জিমের কোনও জায়গা আপাতত নেই। গত দু’মাস ধরে তিনি নিজেকে জিম থেকে দূরে রেখেছেন ফিট থাকার চেষ্টায়!

কী সেই রুটিন? বুধবার সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গেল তাঁর সেই রুটিনের কথা ফাঁস করেছেন। গেলের সেই ফিটনেস ফর্মুলায় আছে যোগব্যায়াম এবং মাসাজ। যা গেলকে মাঠের ধকল সামলে উঠতে সাহায্য করে। শারীরিক ভাবে বড় এবং শক্তপোক্ত চেহারার মালিক হওয়ার ফলে জিমে না গেলেও সমস্যা হচ্ছে না ক্যারিবিয়ান ওপেনারের। আপাতত গেলের এই রুটিন যথেষ্ট ফল দিচ্ছে। তাঁর শারীরিক শক্তিতে কোনও ঘাটতি দেখা যায়নি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুরন্ত প্রত্যাবর্তনের পরে আইপিএলেও ভাল রান পেয়েছেন গেল। কিংস ইলেভেন পঞ্জাবের হয়ে ৪৯০ রান করেছেন, ৪০.৮৩ গড়ে। 

বিশ্বকাপের আগে তাঁর প্রস্তুতি নিয়ে খুশি গেল। ক্যারিবিয়ান তারকা বলেছেন, ‘‘ক্রিকেট মজার খেলা। তবে আশা করছি, বিশ্বকাপেও এই ভাবে রান করে যেতে পারব। আমার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আছে বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে খেলার ব্যাপারে। জানি, ওখানে কী করতে হবে। ইদানীং যে ভাবে ব্যাট করছি, তাতে আমি খুশি। এখন দেখা যাক, কী হয়।’’

জিমে না গেলেও গেলের ব্যাট থেকে বিশাল, বিশাল ছয়ের স্রোত কিন্তু কমে যায়নি। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চারটে ওয়ান ডে-তে ৩৯টি এবং তার পরে আইপিএলে ৩৪টি ছয় মেরেছেন তিনি। বয়স ক্রিকেটারদের রিফ্লেক্সে থাবা বসায়, এই ধারণাটা গেলের ক্ষেত্রে এসে ধাক্কা খাচ্ছে। কী ভাবে সম্ভব হচ্ছে এখনও এ রকম বিধ্বংসী ব্যাটিং? গেলের জবাব, ‘‘আমার যে বয়স বাড়ছে, এ নিয়ে তো কোনও সন্দেহ নেই। আমার কাছে এখন খেলার মানসিক দিকটা শারীরিক দিকের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমার মস্তিষ্ক যদি বলে আমি শটটা খেলতে পারব, তা হলে শরীর সে ভাবে মানিয়ে নেয়।’’ গেল স্বীকার করে নিচ্ছেন, এখন শারীরিক ক্ষমতা তাঁর কাছে অতটা প্রাধান্য পায় না, যতটা পায় মানসিকতা। ‘‘গত দু’মাসে আমি সে ভাবে কোনও ফিটনেস রুটিন মেনে চলিনি। জিমে যাইনি। আমি অভিজ্ঞতা আর মানসিক দিকটা কাজে লাগাতে চাইছি এখন,’’ বলেছেন তিনি।

নিজের নতুন রুটিনও পরিষ্কার করে দিয়েছেন গেল। বলেছেন, ‘‘আমি এখন প্রচুর বিশ্রাম নিচ্ছি, মাসাজ নিচ্ছি। স্ট্রেচিং করছি। পরের ম্যাচে নামার জন্য তরতাজা থাকার চেষ্টা করছি। আমি জানি, মাঠে নেমে সেরাটা দিতে গেলে আমাকে কী করতে হবে।’’ গেল জানেন, বিরাট কোহালি যে পদ্ধতি মেনে সাফল্য পাচ্ছেন, সেটা তাঁর পক্ষে মেনে চলা সম্ভব নয়। ‘‘আমাকে আমার নিজের ফর্মুলা মেনে চলতে হবে,’’ বলেছেন ওয়ান ডে ক্রিকেটে ১০ হাজার ১৫১ রানের মালিক। 

তাঁর ক্রিকেট জীবনের পরিসংখ্যান বলছে ১০৩ টেস্ট খেলা হয়ে গিয়েছে, ওয়ান ডে খেলেছেন ২৮৯। বিশ্বের সর্বত্র টি-টোয়েন্টি লিগেও দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। আর কী পাওয়ার আছে তাঁর ক্রিকেট থেকে? গেল স্বীকার করে নিয়েছেন, তাঁর আর কিছু পাওয়ার নেই, প্রমাণ করার নেই। তিনি শুধু এখন খেলে চলেছেন তাঁর ভক্তদের জন্য। গেলের মন্তব্য, ‘‘আমি মিথ্যা বলছি না। ভক্তদের কথা ভেবেই এখনও ক্রিকেটটা খেলে যাচ্ছি। বছর দুয়েক আগে হয়তো অবসর নেওয়ার একটা ভাবনা এসে থাকতে পারে, কিন্তু তার পরেই ভক্তরা বলতে থাকল, খেলা ছেড়ো না। ওরাই আমাকে এখনও চালিয়ে নিয়ে চলেছে।’’ 

এর পরে তিনি যোগ করছেন, ‘‘জানি, কোনও কিছুই চিরস্থায়ী নয়। আশা করছি ওদের জন্য আরও কয়েকটা ম্যাচ খেলে যেতে পারব। বিশ্বকাপ জেতার জন্য ওরাই 

তো প্রেরণা।’’

সেই ১৯৯৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে অভিষেক হয়েছিল গেলের। ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি স্বীকার করে নিচ্ছেন, এত দিন ধরে যে দেশের জার্সিতে মাঠে নামতে পারবেন, তা তিনিও ভাবেননি। ‘‘সত্যি, সময়টা কত দ্রুত চলে যায়,’’ বলেন গেল, ‘‘কখনও ভাবিনি এতগুলো বিশ্বকাপে খেলতে পারব। কিন্তু পারলাম। এটাই প্রমাণ করছে, ক্রিকেট জীবনে আমি কতটা ধারাবাহিক ছিলাম। এই ধারাবাহিকতার প্রশংসাই তো সবাই করে। গত দু’বছরে প্রচুর পরিশ্রম করেছি। আর তার ফল পাচ্ছি। ভক্তরা আমাকে দেখতে চাইছে আর আমিও ভক্তদের চাহিদা মেটাতে পারছি।’’