×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০৭ মে ২০২১ ই-পেপার

উত্তেজিত টমসন বললেন, হিউজের মৃত্যু নিয়ে চ্যানেল মারাত্মক বাড়াবাড়ি করেছে

গৌতম ভট্টাচার্য
ব্রিসবেন ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪ ০৩:৪১
যখন আগুন ঝরাতেন। —ফাইল চিত্র

যখন আগুন ঝরাতেন। —ফাইল চিত্র

ফিল হিউজের মৃত্যু পরবর্তী মিডিয়া কভারেজে তিনি এতই বীতশ্রদ্ধ যে এখন ইন্টারভিউ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। এবিপি-কেও দিতে রাজি না। শুধু কলকাতার কাগজের অনুরোধ রেখে তাঁর দেখা সেরা পাঁচ ব্যাটসম্যানের তালিকা করে দিলেন। এর আগে অবশ্য গাব্বা মাঠের মেম্বারদের জন্য বিশেষ আফটার লাঞ্চ শো-তে হাজির ছিলেন জেফ টমসন। বিশেষ অতিথি হিসেবে। তাঁর মন্তব্যের বাকি অংশ বৃহস্পতিবার দুপুরের সেই চ্যাট শো থেকে নেওয়া। কাহিনির সারমর্ম— জেফ্রি রবার্ট টমসন চৌষট্টি বছর বয়সেও ফাস্ট বোলিং করে যাচ্ছেন।

সেরা ব্যাটসম্যান তালিকা

Advertisement

১) গ্রেগ চ্যাপেল: ওকে আউট করা যেত না। আবার রানও করে দিত। ভিভ তবু সুযোগ দিত।

২) ভিভ রিচার্ডস: আমার দেখা সেরা ধ্বংসাত্মক ব্যাটসম্যান। কিন্তু ভিভ অনেক সুযোগ নিত। জানতাম, একটু ধৈর্য ধরলে ওকে পেয়ে যেতে পারি।

৩) ব্যারি রিচার্ডস: দুর্ধর্ষ ব্যাটসম্যান। ওর নিজের দিনে বল ফেলা যেত না।

৪) সুনীল গাওস্কর: সলিড ওপেনিং ব্যাটসম্যান। ভয় পাওয়ানো যেত না। ঠিক উইকেটে থাকবে।

৫) মোহিন্দর অমরনাথ: অসম্ভব সাহসী।


গ্যারি সোবার্স: কোনও দিন বল করার সুযোগ হয়নি। তবে ফিল্মে যা দেখেছি সুযোগ যে হয়নি ভাগ্যের কথা।

তেন্ডুলকর-লারা-পন্টিং: তিন জনই খুব ভাল। কিন্তু যেহেতু ওদের বল করিনি কোনও রেটিংয়ে ফেলতে পারলাম না।

সেই অমর মন্তব্য যে, হয় ব্যাটসম্যানের রক্ত দেখতে চাই নয় উইকেট। মাঝামাঝি কিছু নেই: প্রথমেই বলি ফিল হিউজ মারা যাওয়ার পর থেকে প্রতি দিন অন্তত দুটো করে প্রেসের লোক ফোন করছে আর বলছে আপনার কি কোনও অনুশোচনা হচ্ছে সেই সময় এত হিংস্র বোলিং করেছেন বলে? কীসের অনুতাপ? আমি তো ভেবে পাচ্ছি না। এই যে চ্যানেল নাইন ফিল মারা যাওয়ার পর যা করল— উফ্ জঘন্য। কোনও সন্দেহ নেই, খুব মর্মান্তিক মৃত্যু। খুব দুঃখজনক। তা বলে সেটা নিয়ে একটা ফিল্ম বানাচ্ছ কেন? এটা নিছকই একটা দুর্ঘটনা। তার মানে কি পেস বোলিং বন্ধ করে দিতে হবে? মানেটা কী ব্যাটসম্যান তুমি হেলমেট পরবে, এলবো গার্ড পরবে, কাঁধে তুলো গুঁজবে, পেটে তুলো গুঁজবে। আমায় এসে রিভার্স সুইপ মারবে, আপার কাট মারবে আর আমি বলব খোকাবাবু, মারো যত ইচ্ছে। সহজ কথা শুনে নিন। ব্যাটসম্যান যদি আজেবাজে শট খেলে বোলারকে রেসপেক্ট না দেখায়, তাকে সব যুগেই পাল্টা খাওয়ার জন্য তৈরি থাকতে হবে। ননসেন্স কভারেজ চ্যানেল নাইনের।



গাব্বার সদস্যদের জন্য বিশেষ আফটার লাঞ্চ শোয়ে জেফ টমসন। ছবি গৌতম ভট্টাচার্য



নিজের ফাস্ট বোলিং মন্ত্র এবং সেরা প্রতিদ্বন্দ্বী: মন্ত্র খুব সহজ। আমায় যদি ঠিকমতো খেলতে না পারে, চোট লাগবেই। কেউ বাঁচাতে পারবে না। সে যে-ই হোক। সবচেয়ে সহজ বিকল্প হল ক্রিজে দাঁড়িও না। তবে মরদ ব্যাটসম্যান আমি দেখেছি ভিভ আর গ্রেগ চ্যাপেল। গ্রেগ যখন আমাকে কুইন্সল্যান্ডে সই করায়, বলেছিল প্রধান কারণ হচ্ছে আমার জীবনে আর তোমায় খেলতে চাই না। আমি মনে মনে বলেছিলাম, ভালই হল, আমাকেও তোমায় বল করতে হবে না। ক্লাইভ লয়েডও তো আমায় একটা সময় হেলমেট ছাড়াই খেলেছে। পালায়নি তো। চ্যানেল নাইনের কাছে গিয়েও বলেনি মারা যেতে পারি। আমাকে নিয়ে একটা ন্যাকামির ফিল্ম করো শিগ্‌গির!

আধুনিক ফাস্ট বোলার ট্রেনিং টেকনিক: এখনকার ছেলেদের তৈরি হওয়ার ধরণ দেখলে আমার অবাক লাগে। এত দৌড়োব কেন? আমি জীবনে এক ল্যাপের বেশি দৌড়োইনি। আমার ১০ মিটারের রান-আপ ছিল। ১৫০০ মিটার দৌড়তে যাব কেন? এরা দেখছি বারবার করে জল খায়, এনার্জি ড্রিঙ্ক খায়, এত কী দরকার? আর যদি দরকারই, তা হলে আর ফিটনেস কোথায় তোমাদের? ফার্স্ট দিন গাব্বায় দেখলাম, একটু পরপর অস্ট্রেলিয়ার এক এক জন শুয়ে পড়ছে। এত সখী অবস্থা যদি শরীরের, তা হলে কীসের ট্রেনিং করলি? আজ আমার আটত্রিশতম বিবাহবার্ষিকী। তো আমার বউয়েরও বোধহয় এর চেয়ে ভাল ফিটনেস। তা ছাড়া আমি বুঝি না কোচের পরামর্শ মেনে আমায় বল করতে হবে নাকি? আমি একজন পেশাদার প্লেয়ার। নিজের ভালমন্দ বুঝি। তোমার যদি আমার পারফরম্যান্স ভাল না লাগে, আমায় বাদ দিয়ে দাও। কিন্তু দোহাই আমাকে শেখাতে যেও না কী করতে হবে। কিথ মিলার আমায় খুব উত্‌সাহ দিতেন। উনি আমায় বলেছিলেন, বাবা দুশো গজ দূরে বসেও তো তোমার বোলিং দেখে ভয় করছে। আমি বলেছিলাম থ্যাঙ্ক ইউ।

লিলি আর আমি: লোকে আমাদের পছন্দ করত না। জানত, এ না পারলে ও খেয়ে নেবে। লয়েড যখন এসে বলেছিল, তোমাদের খেলতে আমার টিম ভয়ঙ্কর অপছন্দ করে, তখন মনে হয়েছিল, এটাই তো সেরা প্রশংসা। সেই ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানদের আমরা ৫-১ হারিয়েছিলাম। তার পর ওরা ফিরে এসে আমাদের মেরেছিল। দারুণ এক্সাইটিং ছিল সেই সিরিজগুলো। কুইন্সল্যান্ডে কোচিং করাবার সময় আমি ওই জঙ্গি স্পিরিটটা আনতে চেয়েছিলাম। কাজ এগিয়েওছিল। তার পর ওরা নিয়ে এল ওই লোকটাকে কোচ করে। জন বুকানন। যে মালটা...(ছাপা যাবে না)।

ডেভিড ওয়ার্নার: ভাল খেলে ছেলেটা। লারা-তেন্ডুলকরের পর্যায়ে অবশ্যই যায়নি, কিন্তু ছেলেটার একটা জিনিস ভাল। তা হল ডিফেন্স। লোকে ভাবে ফাস্ট বোলার মানে সে বিপক্ষের অ্যাটাকিং শট শুধু বিচার করে। ভুল— সে প্রথমে ডিফেন্সটা বিচার করে। ওয়ার্নারের ডিফেন্স খুব ভাল। তার সঙ্গে অ্যাটাকিং শটগুলো তো আছেই। আধুনিক ব্যাটসম্যানকে দেখলে আমার মনে হয় আর কত সেজেগুজে আসবি? ওয়ার্নার সাজলেও ছেলেটার সাহস আছে।



Advertisement