Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৮ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

মানসিকতাই ডোবাচ্ছে ভারতীয় বোলারদের

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়
২৮ ডিসেম্বর ২০১৪ ০১:২০
ঘাতক: শনিবার স্টিভ স্মিথ। ছবি: গেটি ইমেজেস

ঘাতক: শনিবার স্টিভ স্মিথ। ছবি: গেটি ইমেজেস

দ্বিতীয় দিনের শেষে দাপটে মেলবোর্ন টেস্ট শাসন করছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ইনিংসে ৫৩০ রান তুলে ভারতকে ওরা প্রবল চাপে ফেলেছে। সেই চাপ সামলে ম্যাচ বাঁচাতে হলে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের নিজেদের সেরা ব্যাটিংটা করে পাল্টা জবাব দিতে হবে।

অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা প্রথম দিন যে ভাবে শুরু করেছিল, তাতে লড়াইয়ে থাকার জন্য ভারতের কাছে শনিবার সকালের সেশনটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু আবার সবাইকে স্তম্ভিত করে লাগাতার শর্ট বল করে গেল ভারতীয় পেসাররা! এমন একটা বিস্ময়কর লাইন-লেংথে বোলিং করল যে, অস্ট্রেলিয়া হেসেখেলে ওভার পিছু পাঁচ রান করে তুলে গেল।

আগের দু’টো টেস্টেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যখন দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসা উচিত ছিল, তখন ডুবিয়েছে ভারতীয় বোলিং। মেলবোর্নেও একই ব্যাপার হল। আমার সবচেয়ে আশ্চর্য লাগছে এটা দেখে যে, একেবারে প্রাথমিক ব্যাপারগুলো বারবার ভুল করছে আমাদের বোলাররা!

Advertisement

অথচ ভারতীয় আক্রমণে প্রতিভার অভাব নেই। ধারাবাহিক ভাবে ১৪০ কিলোমিটারে বল করে যাওয়ার বোলার বিশ্বের ক’টা টিমের আছে? যে কোনও পর্যায়ের ক্রিকেটে লাইন-লেংথের ব্যাপারগুলো বোলারকে সবার আগে শেখানো হয়। অথচ গতি আর প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় পেসাররা বারবার সেই জায়গাতেই গোলমাল করে ফেলছে। আমার মনে হয় ওদের আসল সমস্যা হচ্ছে মানসিকতায়। যে কারণে মাঠে নেমে নিজেদের কাজ ঠিকমতো করতে পারছে না। ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের মধ্যে কাউকে দায়িত্ব নিয়ে এটা ওদের মাথায় ঢোকাতে হবে যে, বাদবাকি সব ভুলে যাও। স্রেফ ওভারের ছ’টা বল পরপর এক জায়গায় ফেলার চেষ্টা করো!

তবে বোলিং যা-ই হয়ে থাক, অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যানদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। ব্র্যাড হাডিন পর্যন্ত হাফসেঞ্চুরি করার রাস্তা বের করে ফেলল। আমার কাছে ওদের ইনিংসের সেরা দুই ব্যাটসম্যান অবশ্যই স্টিভ স্মিথ আর রায়ান হ্যারিস। আইপিএলে স্মিথের সঙ্গে আমি নিজেও খেলেছি। ছেলেটার অবিশ্বাস্য উন্নতি দেখে দারুণ লাগছে। পরপর তিনটে টেস্টে সেঞ্চুরি করাটা স্পেশ্যাল ব্যাটসম্যানের লক্ষণ। সবচেয়ে বড় কথা, ও রানগুলো তখনই করে দেখাল, যখন মাইকেল ক্লার্কের অনুপস্থিতিতে গোটা টিম ওর দিকে তাকিয়ে। অ্যাডিলেডের পর থেকে টিমে ক্লার্কের না থাকা এই অনভিজ্ঞ অস্ট্রেলীয় ব্যাটিংয়ের জন্য যথেষ্ট চাপের ছিল। স্মিথ চাপটা নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে দায়িত্বের সঙ্গে পারফর্ম করে গেল। এটা শুধু নির্বাচকরা নয়, টিমমেটরাও মনে রাখে। প্লেয়ারের প্রতি ড্রেসিংরুমের শ্রদ্ধা বেড়ে যায়। স্মিথকে যে কারণে এর মধ্যেই ক্লার্কের পরবর্তী ক্যাপ্টেন বলে স্বীকার করে নেওয়াও হয়েছে।

ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আরও এক বার মুরলী বিজয় আলাদা করে নজর কাড়ল। ছেলেটা প্রতি টেস্টে উন্নতি করছে। ওর মধ্যে সব ধরনের পরিস্থিতি আর পিচে ভরসা রাখতে পারার মতো এক ওপেনারকে দেখতে পাচ্ছি। টেস্ট ক্রিকেটে ওপেনিংটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

রবিবার ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত যতটা সম্ভব অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের রানের কাছাকাছি পৌঁছনো। অ্যাডিলেডে যা করেছিল। একমাত্র তা হলেই ওরা ম্যাচে ফিরতে পারবে। তবে দুশ্চিন্তা, সকালে আবার নতুন করে ‘সেট’ হতে হবে ভারতকে। যে কাজটা এখনও পর্যন্ত ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা তেমন ভাল ভাবে করতে পারেনি। এই টেস্ট কোন দিকে গড়ায়, নির্ভর করছে আজ প্রথম সেশনের উপর।

অবশ্য শেষ বাক্যটা এই সিরিজ নিয়ে এ পর্যন্ত কত বার যে লিখেছি!

ইশান্ত ৩২ ওভারে ০-১০৪

উমেশ ৩২.৩ ওভারে ৩-১৩০

শামি ২৯ ওভারে ৪-১৩৮

অশ্বিন ৪৪ ওভারে ৩-১৩৪

আরও পড়ুন

Advertisement