Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২০ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

মারাকানা আজ তুমি কার

মাঝমাঠ জার্মানদের সামনে মেসিকে আটকাবে কে

১৩ জুলাই ২০১৪ ০৩:৩২

চুনী গোস্বামী

Advertisement



ফরোয়ার্ড

আর্জেন্তিনা ৯/১০

জার্মানি ৮/১০

(দি’মারিয়া না খেললে পয়েন্ট সমান সমান হবে)

মেসি তো আছেই, দি’মারিয়া যদি খেলে তা হলে আমি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে আর্জেন্তিনাকে অনেক এগিয়ে রাখব। দি’মারিয়া থাকলে মেসি কিন্তু আগুন হয়ে যাবে স্বপ্নপূরণের জন্য। কারণ দি’মারিয়ার মতো প্লে মেকার আর্জেন্তিনা টিমে কেউ নেই। মেসির সঙ্গে দি’মারিয়ার একটা কম্বিনেশন-ও তৈরি হয়েছে। যদি ও না খেলে তা হলে সমস্যা। সেক্ষেত্রে লাভেজ্জি, ইগুয়াইন বা আগেরো কী করতে পারবে, সন্দেহ আছে। কারণ বোয়াতেং-লামদের নিয়ে তৈরি জার্মান ডিফেন্স মেসিকে আটকে দিতে পারে। মেসিও বল ঠিকঠাক পাবে না তখন। জার্মানি টিমে মুলারকে আমি বলব ‘কোচেস প্লেয়ার’। স্ট্রাইকারের পিছনে ও খেলে রিভলভিং সাপোর্টিং স্ট্রাইকার হিসাবে। মাঝমাঠ থেকে স্ট্রাইকারঅনেকখানি জায়গা নিয়ে খেলে মুলার। ক্লোজেও গোল করে চনমনে রয়েছে। মনের আনন্দে খেলছে। ওকে আমার গার্ড মুলার বা পাওলো রোসির মতো মনে হয়। হঠাৎ-ই একটা অপ্রত্যাশিত গোল করে দেয়। গোটজে ছেলেটা প্রতিভাবান। ওকে পরিবর্ত হিসাবে নামানো হচ্ছে। ও নামলেও কিন্তু জার্মানি লাভবান হবে।

অ্যালভিটো ডি’কুনহা



মাঝমাঠ

জার্মানি ৮/১০

আর্জেন্তিনা ৭.৫/১০

ফাইনালে আমি জার্মানির মাঝমাঠকেই এগিয়ে রাখব। আসলে জোয়াকিম লো-র প্রধান অস্ত্রই মাঝমাঠ। খেদিরা, সোয়াইনস্টাইগার, ওজিল, ক্রুজ এরা যথেষ্ট অভিজ্ঞ। কেউ রিয়ালে খেলে, কেউ বায়ার্ন মিউনিখ বা আর্সেনালে। পরিবর্তে নামা শুরলেও তো সেমিফাইনালে দু’গোল করেছে। আর্জেন্তিনা টিমে মাসচেরানো ছাড়া অভিজ্ঞ বা নামী মিডিও কোথায়? জার্মানি মূলত পেনিট্রেটিং পাস খেলে। ছোট ছোট পাসের মাধ্যমে বিপক্ষ টিমকে নাজেহাল করে দেয়। মাঝমাঠ থেকেই জার্মানি খেলাটা তৈরি করে।

জার্মানির মাঝমাঠ সামলাতে না পারলে আর্জেন্তিনা সমস্যায় পড়তে পারে। মাসচেরানোকে নিশ্চয়ই বাড়তি দায়িত্ব দেবেন সাবেয়া। আর্জেন্তিনার বড় সুবিধে মেসির মতো মহাতারকা আছে। মেসি সাধারণত দুই স্ট্রাইকারের একটু পিছন থেকে খেলে। ওকে আটকানোর জন্য জার্মানির মাঝমাঠকে অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে। আর এর জন্য ওজিল-খেদিরাদের স্বাভাবিক ছন্দটা কিছুটা হলেও ব্যাহত হবে।

সুব্রত ভট্টাচার্য



রক্ষণ

আর্জেন্তিনা ৮/১০

জার্মানি ৭/১০

দু’দলের রক্ষণের মধ্যে অদ্ভুত একটা বৈপরীত্য আছে। ডিফেন্স থেকে আক্রমণ তৈরি করার কথা ধরলে জার্মানি এগিয়ে থাকবে। আবার রক্ষণ জমাট বাধার কথা ভাবলে এগিয়ে আর্জেন্তিনা। শুরুতে একটু নড়বড়ে লাগলেও সেমিফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে মেসির দলের রক্ষণকে দেখে আমার বেশ ভাল লেগেছে। রোজো, জাবালেতা, গ্যারেদের গতি, ট্যাকল করার দক্ষতা, নিজেদের মধ্যে সমঝোতা, হেডিং দক্ষতা, অফসাইড ট্র্যাপ-- সত্যিই ভাল। আমার ধারণা জার্মানির ক্লোজেকে ওরা আটকে দেবে সহজেই। মুলার একটু অন্য রকম খেলে। ওকে থামাতে নিশ্চয়ই শুধু রক্ষণের উপর নির্ভর করবেন না সাবেয়া। জার্মানির রক্ষণ একটু নরম ধরনের। মেসিকে আটকাতে হলে মাঝমাঠের সাহায্য ওদের চাই-ই। বোয়াতেং-হুমেলসরা পজেশনাল ফুটবল খেলে। শেষ দুটো ম্যাচে দেখলাম, অনুমান ক্ষমতা এবং স্ন্যাচিং দু’টো ব্যাপারেই লামরা বেশ দক্ষ। সাইডব্যাক থেকে উঠে দিয়ে আক্রমণ তৈরির কাজটাও জার্মানি ভালই করছে।

সুব্রত পাল



গোলকিপার

নয়্যার ৯/১০

রোমেরো ৯/১০

বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স দেখার পর আমি নয়্যার বা রোমেরো কোনও একজনকে এগিয়ে বা পিছিয়ে রাখতে পারছি না। দু’জনেই খুব ভাল ফর্মে। রোমেরো আগের ম্যাচেই টাইব্রেকার বাঁচিয়ে টিমকে ফাইনালে তুলেছে। আবার নয়্যারও প্রত্যেকটা ম্যাচেই খুব ভাল কিছু সেভ করেছে। এদের দু’জনের খেলার স্টাইল কিন্তু একেবারে আলাদা। নয়্যার অকুতোভয়। পা থেকে শরীরের সব অংশ দিয়ে বল বাঁচায়, ছয় গজ বক্সের বাইরে বেরিয়ে এসে বল ধরে। স্টপারের পিছন থেকে বল ধরতে দেখা যায় ওকে। নয়্যারকে বলা যায় সুইপার-কিপার। আবার রোমেরো ছোট বক্সের মধ্যে খেলতেই বেশি স্বচ্ছন্দবোধ করে। গ্রিপিং, আউটিং খুব ভাল। অনেক শান্ত স্বভাবের। বায়ার্নের হয়ে ক্লাব ফুটবলেও নয়্যারের পারফরম্যান্স ভাল। রোমেরো অবশ্য মাত্র তিনটি ম্যাচ খেলছে ক্লাবের জার্সি পরে। বিশ্বকাপ শুরুর দিকে ওকে একটু নড়বড়ে লেগেছিল ঠিকই, তবে যত সময় গড়িয়েছে ততই ওর পারফরম্যান্স ক্ষুরধার হয়েছে। ওর কিছু দুর্দান্ত সেভ আর্জেন্তিনাকে ফাইনালে উঠতে সাহায্য করেছে। খেলা যদি টাইব্রেকারে যায় তা হলে কে এগিয়ে? একটা কথা শুধু বলে রাখি, টাইব্রেকার দিয়ে কোন কিপারের পারফরম্যান্স মাপা ঠিক নয়।

আরও পড়ুন

Advertisement