Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২০ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

সাত নম্বরে কে, খুঁজে বের করাই ধোনির চ্যালেঞ্জ

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়
১৮ জানুয়ারি ২০১৫ ০২:০৬

ভারতের আসল বিশ্বকাপ প্রস্তুতি এই বার শুরু হল। গত ছ’মাসে ভারত অবশ্য অনেকগুলো এক দিনের ম্যাচ খেলেছে। আর প্রতিবারই লোকে একটাই প্রশ্ন তুলেছে-- তা হলে বিশ্বকাপের জন্য ভারতীয় টিম কি তৈরি হতে শুরু করে দিল? আমি অবশ্য মনে করি ভারতের সামনে নিজেদের শক্তি-দুর্বলতা যাচাই করে নেওয়ার সেরা সুযোগ এই ত্রিদেশীয় সিরিজ। বিশ্বকাপের ঠিক মুখে হচ্ছে বলেই প্রস্তুতির খামতিগুলো দেখে নিয়ে সেই মতো নিজেদের সমস্যাগুলো শুধরে ফেলার সুযোগ পাওয়া যাবে এবং বিশ্বকাপে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নামা যাবে।

আমি আগেও বলেছি, আবার বলছি, বিশ্বকাপের জন্য এটাই সম্ভবত ভারতের সেরা টিম। এটা ঠিক যে টিমে দু’এক জন ক্রিকেটারকে রাখা বা না রাখা নিয়ে বিতর্ক থেকেই যাবে। তবে আমি বলব, বিশ্বকাপের দলে যারা নির্বাচিত হয়েছে, তারা প্রত্যেকে যোগ্যতা দিয়েই টিমে জায়গা করে নিয়েছে।

প্রস্তুতির কথায় বলব, সিডনির ম্যাচে যা দেখলাম তাতে মেলবোর্নে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের কাজটা সহজ হবে না। ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলীয় বোলিংয়ের বিরুদ্ধে রান করার সুনির্দিষ্ট একটা পরিকল্পনা ভেবে বের করতে হবে ওদের। ভারতীয় পিচে খেলার মতো ‘বলের লাইনে যাও আর মারো’র সহজ পদ্ধতি কিন্তু এখানে খাটবে না। বরং ছবিটা অনেকটাই অন্য রকম হবে। ভারতীয় ওপেনাররা আজ নতুন বল কী ভাবে সামলায় সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। বিশেষ করে প্রথম দশ ওভারে। মনে রাখতে হবে, একটা নয়, দু’টো নতুন বল থাকবে। শুরুতেই যাতে পর পর উইকেট হারিয়ে বসে দল চাপে পড়ে না যায়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে ব্যাটসম্যানদের।

Advertisement

এখানে সিডনি ম্যাচে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং থেকে প্রেরণা নিতে পারে ধোনিরা। সিডনিতে শুরুতেই পর পর উইকেট হারিয়ে বসেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু তা সত্ত্বেও পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা দায়িত্ব নিয়ে খেলে বোর্ডে ভদ্রস্থ রান তুলে দিয়েছিল। ভারতকে খালি একটা ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে যে, এই পিচে দু’টো নতুন বল আর এক দিনের ক্রিকেটের নতুন নিয়মকানুনের পরিপ্রেক্ষিতে হাতে উইকেট রেখে খেলতে পারলে বড় রান আসবেই।

ভারতীয় টিম কম্বিনেশন নিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই। ওপেনিংয়ে শিখর ধবন আর অজিঙ্ক রাহানে পারফরম্যান্সের জোরেই জায়গা করে নেবে। তবে আমি চাইব, তিন নম্বরে আসুক রোহিত শর্মা। ব্যাটিং অর্ডারে বাকিটা ঠিকই আছে। শুধু চিন্তার বিষয় সাত নম্বর স্লট। ধোনির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে সাত নম্বরে কাকে পাঠাবে সেটা ঠিক করা। এই সিরিজে রবীন্দ্র জাডেজাকে পাচ্ছে না ভারত। ওর জায়গায় কাকে নেওয়া হয় সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি। টিম ম্যানেজমেন্ট কি অক্ষর পটেলের দিকে ঝুঁকবে? ওকে সাতে নামানোর ফাটকাটা কি খেলবে ধোনি? অক্ষরের জন্য ব্যাটিং অর্ডারে সাত নম্বরটা একটু বেশি উপরের দিকে হয়ে যাবে না কি? আবার ভারত যদি দুই স্পিনারে আস্থা রাখে, তা হলে সাতে আসতে পারে স্টুয়ার্ট বিনি। সে ক্ষেত্রে স্টুয়ার্ট কি তৃতীয় সিমারের ভূমিকাটা ঠিকঠাক পালন করে দিতে পারবে?

এই পরিবেশে টেল এন্ডাররা কেমন ব্যাট করল সেটাও কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে। ধোনির মতো অভিজ্ঞ নেতা সেটা খুব ভাল করেই জানে। ভারতের প্রথম ছয় ব্যাটসম্যানের মধ্যে আবার এমন কেউ নেই যে বল হাতে পুরো দশ ওভারের কোটা করে দিতে পারে। ধোনিকে তাই বিশেষজ্ঞ বোলার খেলাতেই হবে। এই অবস্থায় ও কম্বিনেশনটা কী ভাবে সাজায়, সেই ধাঁধার সমাধান ধোনিকে নিজেকেই করতে হবে।

অন্য দিকে, ইংল্যান্ড সিরিজের প্রথম ম্যাচে হারলেও দারুণ লড়াই করেছে। আর অস্ট্রেলিয়া তো নিজেদের উঠোনেই খেলছে, যেখানে ওরা এক রকম অপ্রতিরোধ্য! সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া টিমটার ভারসাম্য দারুণ। বোলিং আক্রমণও বেশ ভাল। এই দুই টিমকেই হারানো সহজ হবে না। তবে ভারতও প্রতিপক্ষ হিসাবে টেস্টের তুলনায় এক দিনের ক্রিকেটে অনেক বেশি বিপজ্জনক। তার উপর নিজের সবচেয়ে পছন্দের ফরম্যাটে ক্যাপ্টেনের আসনে ফিরে এসেছে ধোনি। আমাদের দলে কয়েক জন অসাধারণ ম্যাচ উইনার আছে যারা একাই জয় ছিনিয়ে আনার ক্ষমতা রাখে। তবে ভারতের শুরুটা কেমন হচ্ছে তার উপর কিন্তু অনেক কিছু নির্ভর করবে।

এটা ঠিক যে ভারত টেস্ট সিরিজে সদ্য ০-২ হেরেছে। তবে ত্রিদেশীয় সিরিজটা জেতার মতো গোলাবারুদ কিন্তু ধোনির এই টিমের আছে।

আরও পড়ুন

Advertisement