Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৪ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বোনাস নিয়ে স্পেনে এখন গৃহযুদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদন
০৮ জুন ২০১৪ ০৩:২৯
দেশে যাই হোক মাথা ঘামানোর সময় নেই কোস্তা, দেল বস্কিদের। ছবি: রয়টার্স

দেশে যাই হোক মাথা ঘামানোর সময় নেই কোস্তা, দেল বস্কিদের। ছবি: রয়টার্স

বিশ্বকাপের ঠিক মুখে নিজেদের দেশেই বিক্ষোভের গনগনে আগুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ঘিরে!

আরও বিস্ময়কর, ক্ষোভটা সরাসরি জড়িত জাতীয় দলের ফের বিশ্বসেরা হতে পারার সম্ভাবনার সঙ্গে!

ইকের কাসিয়াসরা কাপ আবার দেশে ফিরিয়ে আনতে পারলে স্প্যানিশ টিমের প্রত্যেক ফুটবলার এবং টেকনিক্যাল স্টাফ সাত লক্ষ কুড়ি হাজার ইউরো করে পুরস্কার পাবেন। যা গতবারের পুরস্কার মূল্যের থেকে কুড়ি শতাংশ বেশি। মূল্যটা ভারতীয় টাকায় ঠিক কত, হিসাব করতে গুণ হবে একাশি দিয়ে। আর এতেই রেগে অগ্নিশর্মা অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাওয়া স্প্যানিশদের একটা বড় অংশ। বিতর্কে তোলপাড় সে দেশের পার্লামেন্ট। বলা শুরু হয়েছে, আর্থিক মন্দায় যে দেশের নুন আনতে পান্তা ফুরোচ্ছে, তারা কী করে ফুটবলারদের এত টাকার প্রতিশ্রুতি দেয়? টাকার অঙ্ক কমাতে অবিলম্বে স্পেন সরকারের হস্তক্ষেপও দাবি করেছেন কেউ কেউ।

Advertisement

বিরোধী সোশ্যালিস্ট পার্টির দুই পার্লামেন্ট সদস্য পাবলো মার্টিন পেরে এবং সুসানা রস এই বোনাসকে সরাসরি ‘অবিশ্বাস্য রকমের বাড়াবাড়ি’ এবং স্পেনের ‘সাধারণ মানুষকে অসম্মান করা’ বলে তুলোধনা করেছেন। আর এক বিরোধী নেতা, কার্লোস মার্তিনেজ গোরিয়ারান সরকারকে ঠুকে বলেছেন, “দেখে মনে হচ্ছে, বাদবাকি স্পেন একটা বিশ্ব, যেখানে ষাট লক্ষ বেকার, দারিদ্র রাজত্ব করছে। আর ফুটবলাররা একটা অন্য দুনিয়ায়, যেখানে প্রাচুর্যের ঢালাও বন্দোবস্ত!”

দু’দিন আগে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল হর্জে পেরেজের সঙ্গে আর্থিক পুরস্কারের চুক্তি সই করেন বিশ্বকাপ দলের অধিনায়ক কাসিয়াস এবং সহ-অধিনায়ক জাভি। চুুক্তি অনুযায়ী, শেষ চারে পৌঁছলে ফুটবলাররা বোনাস পাবেন ১ লক্ষ আশি হাজার ইউরো। ফাইনালে উঠলে তিন লক্ষ ষাট হাজার। আর জিততে পারলে তো কথাই নেই। এর পরেই তুলনা শুরু হয়, ব্রাজিল যেখানে কাপ জেতার বোনাস ঘোষণা করেছে ৩ লক্ষ তিরিশ হাজার ইউরো, জার্মানি দেবে বলেছে ৩ লক্ষ ইউরো করে, সেখানে স্পেনের এই বড়লোকি কেন? মনে করানো হচ্ছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশের গড় মাসিক আয়ের তুলনায় স্প্যানিশদের মাসিক আয় অনেক কম এবং জার্মানদের আয়ের প্রায় অর্ধেক। কাতালান ন্যাশিওনাল পলিটিক্যাল গ্রুপ-এর প্রধান দুরান ই লেইদার টুইট উত্তেজনা আরও ছড়িয়েছে। তিনি লিখেছেন, “ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য জার্মানি ওদের ফুটবলারদের যে টাকা দিচ্ছে, স্পেন দেখছি তার দ্বিগুনেরও বেশি দেবে বলেছে। হল কী! আমরা কি রাতরাতি জার্মানির দ্বিগুন বড়লোক হয়ে গেলাম?”

প্রবল সমালোচনার মুখে নিজের ফুটবলারদের হয়ে আবশ্য রুখে দাঁড়িয়েছেন স্পেনের কোচ ভিসেন্তে দেল বস্কি। এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, “আমরা চাই বোনাস নিয়ে সবকিছু স্বচ্ছ থাকুক। আশা করছি কাপটা নিয়েই ফিরতে পারব। তার পরে পরিশ্রম করে যা অর্জন করেছি, তার বিলটা কোষাধ্যক্ষকে ধরিয়ে দেব।” খুয়ান মাতা আবার দেশজোড়া সমালোচনার প্রতিবাদে বলেছেন, “আমাদের টাকা পেতে দেখলে অনেকের চোখ কটকট করে। এঁরা বোনাস ব্যাপারটাকে আমাদের বিরুদ্ধে কাজে লাগাতে চান। কিন্তু জেনে রাখুন, টাকার জন্য নয়, মাঠে নেমে আমরা দেশের সম্মানের জন্যই জানপ্রাণ দিয়ে লড়ি। ছোট বেলা থেকে বিশ্বকাপ নিয়ে যে আগ্রহ অনুভব করতাম, সেই আগ্রহেই আরও একটা বিশ্বকাপ জেতার চেষ্টায় ঝাঁপাব আমরা।”

ফুটবলারদের পাশে দাঁড়িয়ে স্প্যনিশ ফেডারেশনও দাবি করেছে, মাঠে কাসিয়াসদের সাফল্য দেশকেই আরও এগিয়ে দেবে। বলা হয়েছে, ব্রাজিল থেকে বিশ্বকাপ নিয়ে ফিরতে পারলে স্প্যানিশ ফুটবলে আরও স্পনসর আসবে, লগ্নি বাড়বে। আর টাকা এলে সরকারের ঘরেই কর ঢুকবে আরও বেশি।

আরও পড়ুন

Advertisement