Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৮ জুন ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

বিরাট হওয়ার দৌড় কোহলি শুরু করল বিশ্বকাপ থেকেই

এ বারের বিশ্বকাপে যদি কেউ মহাতারকা হয়ে উঠতে পারে, তো সে বিরাট কোহলি। ওর ব্যাটিং শক্তি নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। বলের টাইমিং সুন্দর, স্ট্রোক প্লে

রিচার্ড হ্যাডলি
২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৩:৫০
Save
Something isn't right! Please refresh.
Popup Close

এ বারের বিশ্বকাপে যদি কেউ মহাতারকা হয়ে উঠতে পারে, তো সে বিরাট কোহলি। ওর ব্যাটিং শক্তি নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। বলের টাইমিং সুন্দর, স্ট্রোক প্লে অসাধারণ। ক্রিজে ওর উপস্থিতি অমান্য করা যায় না। ওকে আউট করার জন্য বোলারদেরও খাটতে হয়। ক্রিজে ওর ফোকাসও খুব ভাল। ব্যাটসম্যান হিসেবে বিরাট হল সম্পূর্ণ একটা প্যাকেজ। যখন ওর কেরিয়ার শেষ হবে, তখন দেখবেন দুর্ধর্ষ সব রেকর্ডের মালিক বিরাট। তিন নম্বরটা ব্যাটিংয়ের খুব গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। বেশির ভাগ টিমই তাদের সেরা ব্যাটসম্যানকে তিন বা চারে নামায়। কারণ তাদের নানা পরিস্থিতি মোকাবিলা করার ক্ষমতা আছে। দ্রুত উইকেট পড়লে ওরা ইনিংসটা নতুন করে গড়তে পারে। টিম ভাল শুরু করলে ওরা রান রেটটা আরও বাড়িয়ে টিমকে বড় স্কোরের দিকে নিয়ে যেতে পারে। আমি নিঃসন্দেহ যে, কিংবদন্তি হিসেবে কেরিয়ার শেষ করবে বিরাট। সচিন তেন্ডুলকর, রাহুল দ্রাবিড়, সুনীল গাওস্করদের সঙ্গে ওর নামটাও উঠবে।

বিরাট এখন ভারতের টেস্ট অধিনায়ক। মহেন্দ্র সিংহ ধোনি অবসর নিলে ওয়ান ডে নেতৃত্বটাও পাবে। এত তাড়াতাড়ি বিরাটের সার্বিক পারফরম্যান্সকে নম্বর দিতে বসা ঠিক নয়। কিন্তু যা ইঙ্গিত, তাতে নিজের কাজটা সফল ভাবে করার ক্ষমতা ওর আছে। কাজটার জন্য বিরাটই সঠিক লোক কি না, সেটা সময় বলবে। যে দেশের দর্শক ক্রিকেট-পাগল, যারা টিমের কাছ থেকে সাফল্য আশা করে না, দাবি করে সেই দেশকে নেতৃত্ব দিতে যখন বিরাটকে বেছে নিয়েছেন নির্বাচকেরা, তখন তাঁদের আস্থা তো আছেই ওর উপর। অধিনায়ক হিসেবে বিরাটের সাফল্য নির্ভর করছে ওর টিমের জয়ের শতাংশের উপর। আর অধিনায়ক বিরাটের রান করার ক্ষমতা কমে কি না, তার উপরেও।

একটা চলতি কথা হচ্ছে, দারুণ ক্রিকেটার সব সময় দারুণ অধিনায়ক না-ও হতে পারে। একটা দেশকে নেতৃত্ব দেওয়া সম্পূর্ণ আলাদা একটা ভূমিকা। মাঠ আর মাঠের বাইরে যার প্রচুর বাড়তি দায়িত্ব আছে। একজন অধিনায়কের কিছু গুণ থাকা দরকার। ক্যাপ্টেন্সি হল টিমের ‘লিডার’ হয়ে ওঠা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চৌত্রিশতম প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট ডি আইসেনহাওয়ার বলেছেন, “নেতৃত্ব দেওয়া হল সেই শিল্প, যেখানে তুমি যে কাজটা করতে চাও সেটা অন্য কাউকে দিয়ে করানো, কারণ সে-ও কাজটা করতে চায়।” এটা করতে গেলে টিমের সবাইকে ক্যাপ্টেন আর তার ভিশনকে সমর্থন করতে হবে। তারও আগে ক্যাপ্টেনের দরকার তার টিমের সবার বিশ্বাস আর সম্মান। এটা আদায় করা হয় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে, ট্রেনিংয়ে ভাল প্রস্তুতি নিয়ে, মাঠে ভাল ক্রিকেট খেলে, বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে, ক্ষুরধার ট্যাকটিক্স দিয়ে, প্লেয়ারদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে, ওরা ভাল খেললে ওদের প্রশংসা করে। ব্যক্তিগত স্বার্থ সরিয়ে আদর্শটা করতে হবে প্রথমে টিম। যে ক্যাপ্টেন বা প্লেয়ার শুধু নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত, তার জন্য কোনও টিমেই কিন্তু জায়গা নেই।

Advertisement

বিরাটের ব্যক্তিত্ব ওর দুর্বলতা হিসেবে দেখা দিতে পারে। টিমের উপর যার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ও বিপক্ষের সঙ্গে ঝামেলা তো করেই, সঙ্গে হাত-পাও নাড়ে। কখনও আঙুল দেখাচ্ছে তো কখনও হতাশায় আকাশে হাত তুলছে। আম্পায়ররা কিন্তু এ সব আচরণ পছন্দ করেন না। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হওয়া ভাল, কোনও কিছু নিয়ে পরিষ্কার হতে চাইলে সেটা আম্পায়ারকে জিজ্ঞেস করাও ভাল। কিন্তু বিপক্ষ প্লেয়ারদের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়াটা আজকাল বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ব্যাপারটা নাগালের বাইরে চলে গেলে ক্যাপ্টেনের জরিমানা বা নির্বাসনও হতে পারে। এটা টিমের পক্ষে মোটেও ভাল নয়। ক্রিকেটের স্পিরিট যাতে সব সময় মেনে চলা হয়, সেটা দেখা কিন্তু অধিনায়কেরই দায়িত্ব।

সফল অধিনায়কেরা ম্যাচের রং পাল্টাতে ছক কষে কিছু ঝুঁকি নেয়। কোহলি নিশ্চয়ই সব ফর্ম্যাটেই ভারত অধিনায়ক হবে। আমি আশা করব ও প্রোঅ্যাক্টিভ ক্যাপ্টেন হবে। মানে, ও নিজে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। নিজেই জয়ের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করবে। রক্ষণাত্মক বা নেগেটিভ ক্যাপ্টেনরা ম্যাচগুলো নিজেদের হাত থেকে বেরিয়ে যেতে দেয়।

যাই হোক, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বড় ম্যাচটা প্রায় এসে পড়ল। আমি জানি কোটি কোটি ভারতীয় আশা করে আছেন, এই ম্যাচটাতেও ব্যাট হাতে কোহলি দেশকে আর একটা জয়ের দিকে নিয়ে যাক!

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)


Something isn't right! Please refresh.

Advertisement