Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৫ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

চাবুক নয়, আটলেটিকো মন্ত্রে মনোজদের আশ্বাস সৌরভের

ওই আগুনে লাল টি-শার্টের রঙের মতো মেজাজটাও গনগনে নাকি? সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ইডেনে ঢুকতেই যে ভাবে মনোজ তিওয়ারি, অশোক দিন্দারা ড্রেসিংরুমের দিকে

রাজীব ঘোষ
কলকাতা ১৩ জানুয়ারি ২০১৫ ০২:১১
ব্যস্ত সিএবি সচিব। কখনও সুদীপ-অভিমন্যুর ব্যাটিং মেন্টর। কখনও পিচে গভীর মনোযোগ।

ব্যস্ত সিএবি সচিব। কখনও সুদীপ-অভিমন্যুর ব্যাটিং মেন্টর। কখনও পিচে গভীর মনোযোগ।

ওই আগুনে লাল টি-শার্টের রঙের মতো মেজাজটাও গনগনে নাকি?

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ইডেনে ঢুকতেই যে ভাবে মনোজ তিওয়ারি, অশোক দিন্দারা ড্রেসিংরুমের দিকে দৌড় মারলেন, দূর থেকে দেখে তেমন মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। ভাবখানা যেন, ‘ওই যে হেডস্যার আসছেন, চল পালাই’, বলে দুই দস্যি ছাত্রের দে ছুট।

দু’দিন আগে এই দুই তারকার বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল বঙ্গ ক্রিকেটের ইমারত। এমন বিস্ফোরণ যে, তার জেরে জগমোহন ডালমিয়ার ভিতর থেকে তাঁর একদা ভারতীয় ক্রিকেটের দাপুটে শাসকের পুরনো মেজাজটা বেরিয়ে এসেছিল। বিদ্রোহী ক্রিকেটারদের কড়া হাতে দমনের বার্তা দিয়েছিলেন তিনি।

Advertisement

সেই সময় অস্ট্রেলিয়া থেকে সিএবি কর্তাদের যিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, “আমি ফিরে সব ঠিক করে দেব,” সেই সিএবি যুগ্মসচিব সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় যখন ঢুকলেন ইডেনে, তখন তেমনই আবহাওয়া। এ বার বোধহয় চাবুক পড়ল পিঠে!

কিন্তু কোথায় চাবুক?

তিনি ইডেনে ঢোকার কয়েক মিনিটের মধ্যে বোঝা গেল জামার লাল নয়, ইডেনের ঘাসের রঙের মতো সবুজ ও গঙ্গা থেকে বয়ে আসা হাওয়ার মতোই ফুরফুরে মেজাজে মহারাজ। সে দিন সিএবি প্রেসিডেন্ট যে কড়া শাসন-নীতির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তার ধারেকাছেও গেলেন না প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। বাংলা শিবিরের অবাধ্য দামালদের সামলাতে দাদাগিরি নয়, গাঁধীগিরিই তাঁর মূল অস্ত্র। আটলেটিকো দে কলকাতার লড়াই তাঁর মূল মন্ত্র।

সব ঠিক করে দেওয়ার বৈঠক সেরে বাংলার ড্রেসিংরুম থেকে বেরিয়ে আসা সৌরভকে বাংলা শিবিরের ‘আনরেস্ট’ (ভারতীয় দল সম্পর্কে কয়েক দিন আগেই ব্যবহার করা মহেন্দ্র সিংহ ধোনির বিশেষণ) নিয়ে জিজ্ঞাসা করতেই তিনি বললেন, “পুরো আইএসএলেই তো আটলেটিকোর ‘আনরেস্ট’ অবস্থা ছিল। তা সত্ত্বেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছি।”

শোনা গেল, একই মন্ত্র দিয়ে এসেছেন লক্ষ্মীরতন শুক্লর সংসারে। আটলেটিকোয় ঝামেলা ও সাফল্যের সহাবস্থানের উদাহরণ তিনি মনোজ, দিন্দাদেরও দিয়েছেন বলে শোনা গেল। সৌরভ নাকি বলেছেন, “সব দলেই এমন ছুটকো-ছাটকা ঝামেলা-অশান্তি লেগে থাকে। আটলেটিকোতেও ছিল। ওগুলো মাথায় রেখে পারফরম্যান্সের বারোটা বাজানোর মানে হয় না। যে যার নিজের খেলা খেলো। চেষ্টা করো নিজের সেরাটা দেওয়ার। ব্যস, তা হলেই হবে। আমি তোমাদের পাশে আছি।” তিনি নিজেও দলেরই একজন, এটা বোঝাতে লক্ষ্মীদের আরও বলেন, “আমরা ক্রিকেটার। আমাদের কাজ মাঠে নেমে ভাল খেলা। মাঠের বাইরে কে কী বলছে, ও সব নিয়ে ভাবা নয়।” পরে ক্লাব হাউসে নিজের ঘরে আলাদা বৈঠক করেন লক্ষ্মী, মনোজের সঙ্গে। সেখানেও আশ্বাস বেশি।


সোমবার ইডেনে সৌরভ।



রঞ্জি ট্রফিতে বাংলার বিপর্যয়ের প্রসঙ্গ তুলতে সাংবাদিক বৈঠকে সৌরভের উত্তর, “বিপর্যয়? কীসের বিপর্যয়? সব ঠিক আছে। চারটেয় একটা হেরেছি আমরা। বাকিগুলো ড্র। সাতটা পয়েন্ট আছে আমাদের। এখনও চারটে ম্যাচ বাকি। বিপর্যয়ের কিছু হয়নি। আর চার দিনের ম্যাচে পুরো ছ’পয়েন্ট তোলা অত সোজা নয়।” বক্তার নাম বলে না দিলে মনে হতে পারে যেন দলেরই কোনও ক্রিকেটার বলছেন কথাগুলো।

আপসের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে সৌরভই ফতোয়া জারি করেছিলেন, ইডেনে রঞ্জির সব ম্যাচই বাংলাকে গ্রিনটপে খেলতে হবে। তবে সেই ফতোয়া এ দিন নিজ হাতেই খারিজ করলেন। ঘাসহীন, ঘূর্ণি উইকেট দেখে তাতে জম্মু-কাশ্মীরের বিরুদ্ধে খেলার অনুমতি দিয়ে। যদিও মানতে চাইলেন না, এটা ঘূর্ণি উইকেট। বললেন, “আগে বল পড়ুক, তার পর তো বুঝব কেমন উইকেট।” তবে শোনা গেল এই উইকেটে বাংলার ক্যাপ্টেনকে তিন স্পিনারে নামার পরামর্শ দিয়েছেন। তাই মঙ্গলবার ইডেনে সৌরাশিস লাহিড়ীর সঙ্গে আরও দুই স্পিনারকে দেখা যেতে পারে। নামছেন অস্ট্রেলিয়া ফেরত ঋদ্ধিমান সাহাও। পাঁচ ম্যাচে দশ পয়েন্টে থাকা জম্মু-কাশ্মীরের অধিনায়ক স্পিনার পরভেজ রসুলও আবার উইকেট দেখে সম্ভাব্য সাফল্যের গন্ধ পেয়ে উত্‌ফুল্ল। বললেন, “টার্নিং উইকেট আমাদের পক্ষেও ভাল হবে।” সৌরভ অবশ্য উইকেট নিয়ে বেশি না ভাবতে বলে ভাল ক্রিকেটে মনটা বেশি রাখতে বলেছেন।

দর্শন তাঁর খুব সহজ। টার্নার নয়, পারফরম্যান্সেই লুকিয়ে আসল টার্নিং পয়েন্ট।

ছবি: শঙ্কর নাগ দাস

আরও পড়ুন

Advertisement