Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২১ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

রেকর্ডটা বড় নয়, বলছেন ক্লোজে

ব্রাজিলকে উড়িয়ে উচ্ছ্বাস নেই, কষ্ট আছে জার্মান শিবিরে

বারো বছর আগে রোনাল্ডো-রোনাল্ডিনহো-রিভাল্ডোর ব্রাজিলের কাছে এশিয়ার মাটিতে অপদস্থ হয়ে ফিরতে হয়েছিল তাঁর টিমকে। মাঠে দাঁড়িয়ে দেখতে হয়েছিল কী ভা

নিজস্ব প্রতিবেদন
১০ জুলাই ২০১৪ ০৪:৩৮
Save
Something isn't right! Please refresh.
তখন গোলের মালা পরানো চলছে। ছবি: উত্‌পল সরকার।

তখন গোলের মালা পরানো চলছে। ছবি: উত্‌পল সরকার।

Popup Close

বারো বছর আগে রোনাল্ডো-রোনাল্ডিনহো-রিভাল্ডোর ব্রাজিলের কাছে এশিয়ার মাটিতে অপদস্থ হয়ে ফিরতে হয়েছিল তাঁর টিমকে। মাঠে দাঁড়িয়ে দেখতে হয়েছিল কী ভাবে রোনাল্ডোর বুটে আস্তে আস্তে তৈরি হচ্ছে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। চব্বিশ বছরের মিরোস্লাভ ক্লোজে সে দিন ভাবতে পেরেছিলেন, প্রতিশোধ আসবে ব্রাজিলের মাটিতে, স্বয়ং রোনাল্ডো নাজারিও দি লিমার সামনে?

রোনাল্ডোর বিশ্বকাপে পনেরো গোলের রেকর্ড ছত্রিশের ক্লোজে ছুঁয়ে ফেলেছিলেন ঘানা ম্যাচে। রোনাল্ডো তখন তাঁকে টুইটারে অভিনন্দনও জানিয়েছিলেন। মঙ্গলবার অভিশাপের মিনেইরোর পর আর টুইট আসেনি। রোনাল্ডো ছিলেন কমেন্ট্রি বক্সে। এবং দেখেছেন কী ভাবে চূর্ণ হচ্ছে ব্রাজিল, কী ভাবে হাত বদলাচ্ছে তাঁর এত দিনের মালিকানার।

ব্রাজিলকে ৭-১ উড়িয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে জার্মানির গোলসংখ্যা দাঁড়াল ২২৩। তার উপরে আবার ব্রাজিলের গোলে বলটা জড়িয়ে, ১৬ নম্বর বিশ্বকাপ গোলটা করার পর ক্লোজেকে দেখা যায় আঙুল তুলে কমেন্ট্রি বক্সের দিকে কিছু দেখাচ্ছেন। ওটা গোলের উচ্ছ্বাস, না রোনাল্ডোর সামনে তাঁর রেকর্ড কেড়ে নেওয়ার হুঙ্কার, উত্তর পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া বাড়তি উচ্ছ্বাসও দেখাননি ক্লোজে। সে যতই তাঁকে কোচ জোয়াকিম লো ‘মিরো ইজ ইনক্রেডিবল’ বলে যান।

Advertisement

“গোলে শটটা ঠিকঠাক নিতে পারিনি। রেকর্ড করে ব্যাক-ফ্লিপও করতে পারলাম না চোটের জন্য! তবে আমার রেকর্ড নয়, আমরা যে টিম হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছি, সেটাই বড়,” বলে দেন ক্লোজে। কিন্তু লো ও সব শুনতে রাজি নন। পরিষ্কার বলে দিচ্ছেন, “ব্রাজিলে এই রেকর্ড করাটা বিশাল পারফরম্যান্স। যেটা শুধু টমাস মুলারই ভাঙতে পারে।”

তবে ক্লোজে প্রসঙ্গেই লো যা উচ্ছ্বসিত। পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন-কে সাত গোল মেরে বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠা একটা টিমের যা যা অভিব্যক্তি হওয়া উচিত, তার সিকি ভাগও নেই লো-সহ জার্মান শিবিরে। বরং ম্যাচ শেষে অবাক করা সব ছবি! স্কোলারিকে জড়িয়ে ধরেছেন ক্লোজে, দাভিদ লুইজকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন মুলার, দাঁতেকে বায়ার্ন মিউনিখ ইউনিটটাই ঘিরে ফেলেছে। পরে মেসুট ওজিল বলেছেন, “ব্রাজিল, তোমাদের দেশটা অবিশ্বাস্য সুন্দর। তোমরাও অবিশ্বাস্য রকম ভাল। আর তোমরা দুর্ধর্ষ ফুটবলার। এই ম্যাচ তোমাদের গর্বে আঘাত করবে না!” মুলার আবার বলেছেন, “এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না। কিন্তু ব্রাজিলিয়ান প্লেয়াররা অসাধারণ। এটা ওদের প্রাপ্য ছিল না। এতে আমাদেরও প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছে। ১-৭ হারার মতো টিম ব্রাজিল নয়। ওরা ভাল খেলেছে কাপটায়। কিন্তু সেটা বোধহয় এখন যথেষ্ট সান্ত্বনা নয়।”

তেমনই বোধহয় ইয়োগি লো-র জন্যও কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। ব্রাজিল বিশ্বকাপ শুরুর আগে তাঁকে নিয়ে যা সমালোচনা হয়েছে, অবাক করার মতো। জিতলেও তাঁর মুণ্ডপাত হয়েছে, বলা হয়েছে জার্মানিকে আর দেওয়ার কিছু নেই তাঁর। আন্তর্জাতিক ফুটবলে কেরিয়ার বলে তো কিছু নেই-ই, ক্লাব ফুটবলেও লো-র তেমন কিছু ছিল না। সেখান থেকে পরপর তিনটে বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল, ব্রাজিলকে ব্রাজিলের মাটিতে ৭-১, লাতিন আমেরিকার সামনে জার্মানিকে নেমেসিস হিসেবে উপস্থিত করা কোনটা আজ নেই লো-র? ইয়োগি দেখিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বমঞ্চে সফল হতে গেলে বড় ফুটবলার না হলেও চলে। দুর্দান্ত সিভি না থাকলেও চলে। প্রখর বুদ্ধিমত্তা আর ফুটবলবোধই যথেষ্ট।

অনেকটা ঠিক মিরোস্লাভ ক্লোজের দর্শনের মতো। তিনিও তো দেখিয়ে গেলেন, ফুটবলে বয়সটা আর কোনও ফ্যাক্টর নয়। ফিট থাকলেই চলে। গোলের খিদেটা রেখে গেলেই চলে।

চারটে বিশ্বকাপে তখন আপনাআপনি নেমে পড়া যায়। গোল করে রেকর্ড করা যায়। আর এক নম্বর প্রতিদ্বন্দ্বী তখন সেটা স্যুট-টাই পরে দেখে কমেন্ট্রি বক্স থেকে!

ম্যাচের সেরা

টনি ক্রুজ

প্রথম দুটো গোল সাজিয়ে দেওয়া, নব্বই সেকেন্ডের মধ্যে নিজে দুটো

গোল করা ব্রাজিলের কাছ থেকে প্রায় একা হাতে ম্যাচ ছিনিয়ে নিলেন টনি ক্রুজ।

মেসি-রোনাল্ডোর মতো অসাধারণ বল-স্কিল বা গতি না থাকলেও জার্মান মিডফিল্ডার

তাঁর ভিশন, এনার্জি আর ছোট ছোট পাসে আধুনিক ফুটবলের আদর্শ প্লেমেকার।



Something isn't right! Please refresh.

আরও পড়ুন

Advertisement