Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৫ জুন ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

স্কোলারির ‘নকল’ নিয়ে ধুন্ধুমার

বিশ্বকাপ চলছে। ফেভারিট টিম ব্রাজিল নিয়ে আগ্রহে লাগাম রাখা যাচ্ছে না। নেইমারদের চাহিদা আকাশ ছোঁয়া। এর মধ্যে ব্রাজিলের কোচের একটা ইন্টারভিউ কো

নিজস্ব প্রতিবেদন
২২ জুন ২০১৪ ০৩:৫৬
Save
Something isn't right! Please refresh.
Popup Close

বিশ্বকাপ চলছে। ফেভারিট টিম ব্রাজিল নিয়ে আগ্রহে লাগাম রাখা যাচ্ছে না। নেইমারদের চাহিদা আকাশ ছোঁয়া। এর মধ্যে ব্রাজিলের কোচের একটা ইন্টারভিউ কোনও ভাবে ম্যানেজ করার থেকে বিশ্বকাপ কভার করতে আসা সাংবাদিকদের কাছে মহার্ঘ আর কী হতে পারে! মেক্সিকো আটকে দেওয়ার পর এমনিতেই কোচের প্রতিক্রিয়া জানতে গোটা বিশ্ব উন্মুখ হয়ে রয়েছে। এই বাজারে স্কোলারির একটা সাক্ষাৎকার পাবলিক ‘গপ গপ’ করে খাবে।

বুধবার রিও থেকে সাও পাওলোগামী বিমানে চড়ার সময় এটাই বোধহয় ভাবছিলেন অভিজ্ঞ ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিক মারিও সের্জিও কন্তি। কিছুক্ষণ পর নিজের ভাগ্যকে নিজেই কুর্নিশ করতে শুরু করেন ভদ্রলোক। বিমানে তাঁর পাশের সিটেই এসে বসেছেন কিনা স্বয়ং লুই ফিলিপ স্কোলারি! আরে! নেইমারও তো উঠলেন। তবে একটু দূরে গিয়ে বসেছেন ‘ওয়ান্ডার কিড’। এ যে গাছে না উঠতেই এক কাঁদি। সাও পাওলো পৌঁছতে বেশিক্ষণ লাগবে না। হাতে সময় কম। দু’জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া যাবে না। কিছুক্ষণের মধ্যে বেশ গুছিয়ে কন্টি তাই সাক্ষাৎকার নেন শুধু সেলেকাও কোচেরই। ব্রাজিলের দুটি সংবাদপত্রে যা বেরিয়েও যায়। কিন্তু এর পরই ঘটে বিপত্তি।

হঠাৎ আবিষ্কার হয়, ব্রাজিল কোচ সে দিন ফোর্তালেজা ছেড়ে কোথাও যাননি। খবরটা নিশ্চিত করার পরই তাজ্জব হয়ে যান কন্তি। তা হলে সাও পাওলোর বিমানে তাঁকে সাক্ষাৎকার দিল কে? কিছুক্ষণ পরই রহস্যটা পরিষ্কার হয়। বিমানে সেদিন স্কোলারি নন, হুবহু তাঁর মতো দেখতে এক ব্যক্তি তাঁর পাশে বসেছিলেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায় তাঁর নাম ভ্লাদিমির পালোমো। রিও-তে এক কমেডি শো সেরে তিনি সাও পাওলো ফিরছিলেন। বলা বাহুল্য শো-তে স্কোলারির ভূমিকাই নিয়েছিলেন তিনি।

Advertisement

সঙ্গে সঙ্গে সংবাদপত্র দুটি পাঠকদের কাছে ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন। কিন্তু ততক্ষণে সোশ্যাল মিডিয়ায় হইচই পড়ে গিয়েছে। ক্ষমা চেয়ে সংবাদপত্রটির ওয়েবসাইটে ভুলের ব্যাখ্যা প্রথম পাঁচটা সবচেয়ে পছন্দের খবরের তালিকায় উঠে এসেছে। কিন্তু এত অভিজ্ঞ এক সাংবাদিকের চোখও কী ভাবে ধোঁকা খেল? কন্তির সাফাই, “বিরাট একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়ে গিয়েছিল। আমি সত্যিই ভদ্রলোকেকে স্কোলারি ভেবেছিলাম। তার মধ্যে অবশ্য কোনও খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না। অন্তত এতে কারও কোনও ক্ষতি হয়নি। নির্বাচন বা শেয়ার মার্কেটে প্রভাব পড়ার মতো তো কিছু হয়নি খবরটায়।”

আর সেই হুবহু স্কোলারির মতো দেখতে পালোমো? তিনি কী ভেবে দিব্য সাক্ষাৎকারটা দিয়ে বসলেন? নেইমারের প্রশংসা, গত বারের চ্যাম্পিয়ন স্পেনের ছিটকে যাওয়ায় বিস্ময়, এমনকী বিশ্বকাপ জেতার পথে ব্রাজিল-মেক্সিকোর ম্যাচটা ড্র হলেও নেইমারদের অনেক কাজে আসবে, সেটাও তো বলেছিলেন। একেবারে বিশেষজ্ঞের মতো। যেন নিজের হাতে গড়া টিম নিয়েই বলছেন!


নকল ‘স্কোলারি’ ভ্লাদিমির পালোমো।



পালোমো নাকি ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি, তাঁকে স্কোলারি ভেবে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। সাও পাওলো পৌঁছনোর পরই নাকি তিনি বুঝতে পারেন ভ্লাদিমির পেশায় সাংবাদিক। “আমরা তো হালকা চালেই কথা বলছিলাম। বিশ্বকাপ আর আমাদের জাতীয় দল নিয়ে আমার ব্যক্তিগত মতামতই দিচ্ছিলাম ওঁকে। অন্য যে-কোনও ব্রাজিলিয়ানের মতোই। বিশ্বকাপ চলার সময় তো ব্রাজিলের সবাই কোচ হয়ে ওঠে,’’ বলেন তিনি।

‘ভুল বোঝাবুঝির’ ব্যাপারটা ছড়িয়ে যাওয়ার পর পালোমো আবার একটু ভয়ে ভয়ে আছেন। কেন? “গত ২৪ ঘণ্টায় আমার ফোন বাজা বন্ধ হচ্ছে না। অন্তত দশটা সাক্ষাৎকারের অনুরোধ পেয়েছি। সবার প্রশ্নের জবাব দিতে আমায় হয়তো একটা সাংবাদিক সম্মেলনই ডাকতে হবে এ বার।” মজা করে বলছিলেন তিনি।

আমুদে মানুষটির ‘ভিসিটিং কার্ড’ দেখেও সে দিও সাক্ষাৎকারের মাঝে বেশ মজা পেয়েছিলেন কন্তি। যাতে লেখা ছিল, ‘ভ্লাদিমির পালোমো, স্কোলারির লুক-আ-লাইক’ অর্থাৎ স্কোলারি আর তাঁর চেহারায় সাদৃশ্য রয়েছে। কিন্তু কন্তির দুর্ভাগ্য, সেটা ‘ইয়ার্কি’ ছিল না।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)


Something isn't right! Please refresh.

Advertisement