Advertisement
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

স্কিলের পাশে আবেগেও মারাদোনা হল না মেসি

চব্বিশ বছর আগের কাপ ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে পেনাল্টিতে হারার পর দিয়েগো মারাদোনার ফুঁপিয়ে-ফুঁপিয়ে কান্না মনে আছে? অসহায় যন্ত্রণার কান্নাটা বিদ্ধ করেছিল আমার মতো অনেককেই। খেলার মাঠে চেষ্টা করলেই কাঁদা যায় না। জাতীয় দলের জন্য আবেগ থাকতে হয়। রবিবার রাতে ম্যাচের পর লিওনেল মেসিকে কিন্তু কাঁদতে দেখলাম না। অসংখ্য আর্জেন্তিনা সমর্থক মারাকানার গ্যালারির সঙ্গে যখন বিশ্বজুড়েও কাঁদছেন, তখন মেসি আর পাঁচজনের সঙ্গে মাথা নিচু করে বেরিয়ে গেল। হতে পারে এটাই তার আবেগের বহিঃপ্রকাশ মাত্র।

মারাকানায় ফাইনালের পর। ছবি: উৎপল সরকার

মারাকানায় ফাইনালের পর। ছবি: উৎপল সরকার

সুব্রত ভট্টাচার্য
কলকাতা শেষ আপডেট: ১৫ জুলাই ২০১৪ ০৩:০৬
Share: Save:

চব্বিশ বছর আগের কাপ ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে পেনাল্টিতে হারার পর দিয়েগো মারাদোনার ফুঁপিয়ে-ফুঁপিয়ে কান্না মনে আছে? অসহায় যন্ত্রণার কান্নাটা বিদ্ধ করেছিল আমার মতো অনেককেই। খেলার মাঠে চেষ্টা করলেই কাঁদা যায় না। জাতীয় দলের জন্য আবেগ থাকতে হয়।

Advertisement

রবিবার রাতে ম্যাচের পর লিওনেল মেসিকে কিন্তু কাঁদতে দেখলাম না। অসংখ্য আর্জেন্তিনা সমর্থক মারাকানার গ্যালারির সঙ্গে যখন বিশ্বজুড়েও কাঁদছেন, তখন মেসি আর পাঁচজনের সঙ্গে মাথা নিচু করে বেরিয়ে গেল। হতে পারে এটাই তার আবেগের বহিঃপ্রকাশ মাত্র।

ফাইনালে জার্মানির কড়া ট্যাকল এবং মার্কিংয়ের সামনে পড়া মেসিকে কেমন যেন অসহায় লাগছিল। কেমন যেন গুটিয়ে রয়েছে। দি মারিয়া না থাকায় এমনিতেই ওর একটু অসুবিধা হচ্ছিল। ইগুয়াইন, পেরেজরা ওকে বেশি বল দিতে পারছিল না। বার্সেলোনায় জাভি-ইনিয়েস্তাদের পাশে খেলার সময় যে সাহায্য পায় বিশ্বকাপে আগেরোদের পাশে খেলে সেটা পায়নি। ফলে রবিবার সারা ম্যাচে দু’টো ফাইনাল পাস দিল মেসি। নিজে ওয়ান-টু-ওয়ান অবস্থায় একটা গোলের সুযোগও নষ্ট করেছে। নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে তো মেসি ব্যর্থ। কঠিনতম মঞ্চে যদি কোনও ফুটবলার নিজেকে না মেলে ধরতে পারে তা হলে তাকে সর্বকালের সেরার তালিকায় রাখব কী করে? কী ভাবে বসাব মারাদোনার সঙ্গে একই মঞ্চে? না পারছি না।

মেসি বড় ফুটবলার তা নিয়ে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই। দারুণ গোল চেনে, ফ্রিকিকে দুর্দান্ত, অসাধারণ ড্রিবল করতে পারে। ক্লাব ফুটবলে ওর ধারাবাহিক অসাধারণ পারফরম্যান্সকে কুর্নিশ করি। কিন্তু সেই তো মহানায়ক, বিস্ময়কর প্রতিভা হয়, যে একার কৃতিত্বে ম্যাচ জেতায়। যেমন জেতাতেন পেলে, মারাদোনা। গ্রুপ লিগে চার গোল করেছে মেসি। সব কটাই খুব ভাল। কিন্তু সেখানে তো ইরান, বসনিয়া, নাইজিরিয়ার মতো টিম। যারা মেসিকে সমীহ করে। ভয় পায়। কিন্তু কড়া ধাতের জার্মানরা বা ডাচরা, যারা কাপটা নিতে এসেছে তারা ছাড়বে কেন?

Advertisement

ফাইনালে সোয়াইনস্টাইগারকে মেসির সঙ্গে ডাকটিকিট করে দিয়ে লামরা পালা করে চর্তুভুজ বানিয়ে শুরু থেকেই ওকে প্রায় বোতলবন্দি করে দিয়েছিল। ফান গলের পর জোয়াকিম লো-ও ‘মিশন মেসি’-তে সফল। যে চক্রব্যূহ থেকে বেরোবার জন্য মেসি বল পেলে ড্রিবল করার ঝুঁকি না নিয়ে কাউকে বলটা দিয়ে নিজে ফাঁকায় গিয়ে সেকেন্ড বলটা নেওয়ার চেষ্টায় ছিল। কিন্তু এটা তো চ্যাম্পিয়ন ফুটবলারের পথ নয়। বরং চাপের মুখে সে-ই তো পুরো টিমকে উদ্বুদ্ধ করবে, মারাদোনার মতো জান লড়িয়ে দেবে জেতার জন্য। তবেই তো সে কিংবদন্তি! মেসি সেটা পারল কোথায়? ও কি পুরো ফিট ছিল না? না কি নীল-সাদা জার্সি পরলেও মেসির মন পড়েছিল বার্সেলোনায়? যেখানে কোটি কোটি টাকা পায় মেসির মতো ফুটবলাররা। সে জন্যই কি লামদের কড়া ট্যাকলের সামনে পড়ে নিজেকে কিছুটা হলেও গুটিয়ে রাখছিল মেসি? মাস দেড়েক পরেই তো শুরু হবে লা লিগা।

জার্মানদের প্রচণ্ড গতির পাসিং ফুটবলের সামনে টিম আর্জেন্তিনা যখন লড়ছে, মেসি তখন যেন সেই দলের একজন ফুটবলার মাত্র। মেসি অসম্ভব প্রতিভাবান হলেও সর্বোচ্চ মানের পরিশ্রমী নয়। ফাইনালে ওকে একটা সময় দেখলাম প্রায় হাঁটছে। যা সত্যিই আমাকে অবাক করেছে। ও কি ফাইনালে পুরো ফিট ছিল না?

মারাদোনা বিশ্বকাপ জিতেছে। মেসি পারল না। আর কবে পারবে জানি না। ওকে যে কেন গোল্ডেন বল দেওয়া হল তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। ওটা আর্জেন রবেনের প্রাপ্য ছিল। না হলে, সোয়াইনস্টাইগার বা টমাস মুলার। বিশ্বকাপ না পাওয়ায় ফিফা কি মেসিকে সান্ত্বনা পুরস্কার দিল?

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.