Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৭ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

আজ যেন কলকাতা বনাম কলকাতা

যুদ্ধের দামামা এক সপ্তাহ আগে বাজিয়ে গিয়েছেন স্বয়ং ধোনিই

কলকাতা বনাম কলকাতা! বলজিত্‌ বনাম খাবরা! কিংশুক-অর্ণব বনাম জেজে-বলবন্ত! কেভিন লোবো বনাম ডেনসন! এই পর্যন্ত শুনে আন্না সালাইয়ের হায়াত রিজেন্সি

দেবাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
চেন্নাই ০৪ নভেম্বর ২০১৪ ০১:৪৬
Save
Something isn't right! Please refresh.
Popup Close

কলকাতা বনাম কলকাতা!

বলজিত্‌ বনাম খাবরা!

কিংশুক-অর্ণব বনাম জেজে-বলবন্ত!

Advertisement

কেভিন লোবো বনাম ডেনসন!

এই পর্যন্ত শুনে আন্না সালাইয়ের হায়াত রিজেন্সি হোটেলের লবিতে চেন্নাইয়ান এফসি-র হরমনজ্যোত্‌ খাবরা বলে উঠলেন, “তা হলে গার্সিয়া বনাম মাতেরাজ্জি? মেন্ডোজা বনাম হোসেমি? এলানো বনাম বোরহা? এই ফুটবল-যুদ্ধগুলোও গেল কোথায়?”

এ বার মুখ খুললেন পাশেই দাঁড়ানো রমনিক। খাবরার স্ত্রী। মঙ্গলবার আইএসএলের এক বনাম দুইয়ের মহালড়াই দেখতে রবিবারই চেন্নাই উড়ে এসেছেন কলকাতা থেকে। “ও যা-ই বলুক, ম্যাচটা তো কলকাতা বনাম কলকাতা-ই! কাল মনের কিছুটা বলজিত্‌ভাইয়ের দলের জন্য আর বাকিটা চেন্নাইয়ানের জন্য থাকবে।”

এর পর খাবরার কথায় আরও বেশি করে বেরিয়ে এল কলকাতা বনাম কলকাতার ঝাঁঝটা। “বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে জার্মানি যখন ব্রাজিলকে সাত গোল দিচ্ছিল, তখন গোটজেরা কি উল্টো দিকে ওদের বায়ার্ন-সতীর্থ দাতের দুঃখে নিজেদের ভাল খেলাটা বন্ধ করে দিয়েছিল? শুনে রাখুন, কাল বলজিত্‌ আমাদের ডিফেন্সে এলে ওকে আমিই ট্যাকল করব। জানি ওর কী মাইনাস পয়েন্ট।”

যে ‘মাইনাস পয়েন্ট’-এর কথা উঠতেই লাঞ্চ সেরে লিফ্‌টে ওঠার মুখে চেন্নাইয়ানের ডেনসন আর শিল্টনকে দেখে আটলেটিকো দে কলকাতার কিংশুক আর লোবো হাসতে হাসতে প্রশ্ন করলেন, “কী রে, তোরা নাকি আমাদের ব্যাপারে সব পুঙ্খানুপুঙ্খ উগরে দিচ্ছিস। দাঁড়া, ক্লাবের প্র্যাকটিসে...।”

আর বলজিত্‌? খাবরার প্রশ্ন শুনে তিনি মধ্যাহ্নভোজ সারতে যাওয়ার আগে টিম হোটেলের রেস্তোরাঁর সামনে বলে গেলেন, “খাবরা মাঠে নামুক, তার পর আমার কিছু প্লাস পয়েন্টও ও পাবে। সেগুলো কিন্তু ওর অজানা। ও-ই যে আমাকে ট্যাকল করবে সেটাও জানি। আমার কাজ ওদের সবাইকে টপকে গোল করে চেন্নাই থেকে কলকাতাকে তিন পয়েন্ট এনে দেওয়া। ”

দুই ফ্র্যাঞ্চাইজির ময়দানি কুশীলবদের এহেন দিনভর মনস্তাত্বিক যুদ্ধের মধ্যেই সোমবার সকালেও এখানে একবার মুষলধারে বৃষ্টি হয়ে গেল। যার ধাক্কায় কলকাতার আটলেটিকোর সন্ধের প্র্যাকটিসও বাতিল হয়ে যায়! মাতেরাজ্জিরা যখন ইস্টকোস্ট রোডের গেটওয়ে ন্যাশনাল স্কুলের মাঠ থেকে প্র্যাকটিস সেরে এলেন, তখন অত দূর সকালে বিমানযাত্রার ধকলের পর আসতে-যেতে ঘণ্টাতিনেক ব্যয় হবে ভেবে অনুশীলন না করে টিম হোটেলেই সাংবাদিক সম্মেলন সেরে নিলেন আটলেটিকোর মার্কি ফুটবলার লুই গার্সিয়া।

চোট সারিয়ে এই ম্যাচেই ফিরছেন। “আইএসএলের নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচ ভেন্যুতেই তো আমাদের প্র্যাকটিস করার কথা! কী আর করব? প্র্যাকটিস হলে মাঠটায় বলের বাউন্স, সারফেস, সব বোঝা যেত,” বলছিলেন গার্সিয়া। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক আটলেটিকোর এক শীর্ষকর্তাও বলছিলেন, “নভেম্বর-ডিসেম্বরে এখানে বৃষ্টি তো হয়ই। তার পরেও বিকল্প কিছু ওরা ভাববে না?” কোচ হাবাস তো জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামেই পাঠিয়ে দিলেন ম্যানেজার রজত ঘোষ দস্তিদারকে। তিনি ফিরে মাঠের ‘আঁখো দেখা হাল’ টিমকে দিলেনও রাতের দিকে।

টুর্নামেন্টে এখনও অপরাজিত কলকাতা পাঁচ ম্যাচে এগারো পয়েন্টে যখন আইএসএল শীর্ষে, তখন এক ম্যাচ কম খেলে ন’পয়েন্টে চেন্নাইয়ান নিঃশ্বাস ফেলছে কলকাতার ঘাড়ে। মঙ্গলবার জিতলেই আইএসএল টেবিলের শীর্ষে চলে যাবেন বলবন্ত-জেজেরা। কিংশুক-অর্ণবদের টপকে। চেন্নাইয়ানকে তাই উদ্বুদ্ধ করতে মঙ্গলবার সাতসকালে স্ত্রী ঐশ্বর্যা রাই-বচ্চনকে নিয়ে টিম হোটেলে ঢুকে পড়বেন দলের মালিক অভিষেক বচ্চন।

কলকাতা কোচ হাবাস আবার মুম্বই-চেন্নাই ম্যাচের ভিডিও ক্লিপিংস দেখে মেন্ডোসা-এলানো-জেজে (না খেললে বলবন্ত) ত্রিভুজ মুছে দেওয়ার গেমপ্ল্যান তৈরিতে ব্যস্ত। যার একপ্রস্ত আলোচনা এ দিন লাঞ্চ টেবিলেও করেছে দল। মাতেরাজ্জিরা ৩-৪-৩ ছকে খেলে দিল্লির কাছে হারার পরের ম্যাচ খেলেছেন ৪-১-২-৩ ছকে। গৌরমাঙ্গীদের ব্যাক ফোরের সামনে দাঁড়িয়ে মুম্বই আক্রমণ দুমড়ে দিয়েছিলেন মাতেরাজ্জি। তাঁর সামনে খাবরা আর ডেনসন। এক জন আক্রমণে উঠলে অন্য জন রক্ষণে নামেন। ফলে সব সময় চেন্নাইয়ান ডিফেন্সিভ থার্ডে ছ’জন। যার অ্যান্টিডোট আবার বলছে খাবরাদের দুই সাইড ব্যাক বেশ নড়বড়ে। আক্রমণ শানাও সে দিক দিয়ে।

আর এলানো-মেন্ডোজাদের ত্রিভুজ? তার আবার হাবাস-দাওয়াই নাকি এ রকম চেন্নাই রক্ষণ থেকে মাতেরাজ্জিদের লং বল উড়ে আসার সময় পিছনে বাড়তি জায়গা দেওয়া চলবে না ব্রাজিলিয়ান-কলম্বিয়ান জুটিকে। টিম সূত্রের খবর, গার্সিয়াদের নির্দেশ কোচের মাঝমাঠে সেকেন্ড বল ধরো। এলানোর ফ্রি কিক আটকাতে নিজেদের বক্সের আশেপাশে কোনও ফাউল নয়। মেন্ডোজার বাড়তি গতি আটকাতে ডাবল কভারিং।

এর পরেও অবশ্য চেন্নাইয়ের জেজে বলে গেলেন, “এলানো বল পেলে কী করতে পারে কেউ জানে না।” যা শুনে অর্ণব মণ্ডল বলছেন, “এক নম্বর জায়গাটা ধরে রাখা নিয়েই ভাবছি। ওরা আমাদের জেনে থাকলে, আমরাও ওদের সব জানি।”

মুম্বইকে উড়িয়ে দেওয়ার পর চেন্নাইয়ানের দুই সদস্য শিল্টন পাল আর হরমনজ্যোত্‌ সিংহ খাবরা টিমের এক প্রভাবশালী কর্তার সামনে নিজেদের পরিচয় দিয়ে বলেছিলেন, “আমরা মোহনবাগান আর ইস্টবেঙ্গল ক্যাপ্টেন।” যা শুনে সেই কর্তাটি তাঁদের বলে দেন, “ও সব এখন বাদ দাও। তোমরা কলকাতার। পরের ম্যাচটা কলকাতার বিরুদ্ধেই। ওই দিন কিন্তু তিন পয়েন্ট চাই আমাদের।”

কে তিনি?

তিনি চেন্নাইয়ানের অন্যতম সেলিব্রিটি মালিক। মহেন্দ্র সিংহ ধোনি।

কলকাতা বনাম কলকাতা-র সলতেতে এক সপ্তাহ আগেই হয়তো দেশলাই ধরিয়ে গিয়েছেন এমএসডি!

সবিস্তার দেখতে ক্লিক করুন...





Something isn't right! Please refresh.

আরও পড়ুন

Advertisement