বিনেশ ফোগাটকে এশিয়ান গেমসের ট্রায়ালে নামার অনুমতি দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেন বিজেপি নেত্রী তথা প্রাক্তন কুস্তিগির ববিতা ফোগাট। সম্পর্কে তিনি বিনেশের খুড়তুতো বোন। তিনি জানিয়েছেন, আদালতের সিদ্ধান্ত সঠিক এবং সকলকে মানতে হবে।
উল্লেখ্য, প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ তথা কুস্তি সংস্থার প্রাক্তন নেতা ব্রিজভূষণ শরণ সিংহের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনেছিলেন বিনেশ-সহ কয়েক জন মহিলা কুস্তিগির। কিছু দিন আগে বিনেশ জানান, নির্যাতিত হয়েছিলেন তিনিও। এর পরই জাতীয় কুস্তি সংস্থা জানিয়ে দেয়, বিনেশ এশিয়াড এবং কমনওয়েলথের ট্রায়ালে নামতে পারবেন না। এখনও কুস্তি সংস্থায় ব্রিজভূষণের প্রভাব আছে বলে মনে করা হয়। সেখানে বিজেপি নেত্রী ববিতার মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ।
তিনি সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, “আমি আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। আদালত সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মামলা যা-ই হোক না কেন, আদালত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছে। আদালতের থেকে কেউ বড় নয়। তাই আমাদের সকলের উচিত আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো।”
দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি ডিকে উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ বিনেশকে ট্রায়ালে নামার অনুমতি দিয়েছে। বিচারপতিরা বলেন, “খেলাধুলো ও ন্যায়বিচারের কথা মাথায় রেখে বিনেশ ফোগাটকে এশিয়ান গেমসের যোগ্যতা অর্জন পর্বে নামার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, বিনেশের সন্তান হওয়া ও ভারতীয় কুস্তি সংস্থার নতুন নিয়মের কারণেই এই প্রতিযোগিতায় বিনেশ নামতে পারছেন না। এই দুই পরিস্থিতিই তাঁর নিয়ন্ত্রণে ছিল না। তাই বিনেশকে ট্রায়ালে নামার অনুমতি দেওয়া উচিত বলেই আদালতের মনে হয়েছে।”
আদালতের মনে হয়েছে, বিনেশের মতো এশিয়ান ও কমনওয়েলথ গেমসে সোনাজয়ী কুস্তিগিরের ক্ষেত্রে নিয়মের কড়াকড়ি একটু কমানো যেতে পারে। বিচারপতিরা বলেন, “বিনেশের মতো কিংবদন্তি কুস্তিগিরদের ক্ষেত্রে কুস্তি সংস্থার নতুন নিয়মে একটু ছাড় দেওয়া যেতেই পারে। এটা স্পষ্ট, অন্তঃস্বত্ত্বা অবস্থায় কেউ কুস্তির আখাড়ায় নামতে পারেন না। কিন্তু তার জন্য তাঁর কেরিয়ার নষ্ট করে দেওয়া উচিত নয়। বিনেশের মতো কিংবদন্তি কুস্তিগিরকে কিছু ছাড় দেওয়া উচিত। বিনেশকে ট্রায়ালে নামতে না দিলে তা দেশের পক্ষে লজ্জার। তাই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
আরও পড়ুন:
বিচারপতিরা আরও নির্দেশ দিয়েছেন, পুরো ট্রায়ালের ভিডিয়ো রেকর্ডিং করা হবে। কেন্দ্রীয় ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রক দু’জন নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষককে সেখানে পাঠাবে। তাঁরা পুরো ট্রায়াল খতিয়ে দেখে দিল্লি হাই কোর্টে একটি রিপোর্ট জমা দেবেন।