×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০৪ অগস্ট ২০২১ ই-পেপার

রোহিত ওপেন করবেন কি না, সিদ্ধান্ত হয়তো বড়দিনে

সুমিত ঘোষ 
মেলবোর্ন ২১ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৩:৪৯
ওপেন করার চ্যালেঞ্জ নিতে হতে পারে রোহিতকে।

ওপেন করার চ্যালেঞ্জ নিতে হতে পারে রোহিতকে।

অ্যাডিলেডে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৩। পার্‌থের দ্বিতীয় টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৬। দ্বিতীয় ইনিংসে ০।

চলতি সিরিজে এখনও পর্যন্ত ভারতীয় ওপেনিং জুটিতে ওঠা স্কোর। দেখা যাচ্ছে, অ্যাডিলেডের দ্বিতীয় ইনিংস বাদ দিলে কোনও রকম লড়াইয়ের ছিটেফোঁটাও নেই। এক জনে দুই টেস্টের চার ইনিংসে মোট রান করেছেন ৪৯। ইনি মুরলী বিজয়। যাঁর ব্যাট থেকে উপমহাদেশের বাইরে শেষ টেস্ট সেঞ্চুরি এসেছে চার বছর আগে। অন্য জনের দুই টেস্টের চার ইনিংসে মোট সংগ্রহ ৪৮। প্রথম জনের এখনও পর্যন্ত সিরিজে গড় ১২.২৫। দ্বিতীয় জন খুব পিছিয়ে নেই— ১২।

তাঁদের হোটেলের আশেপাশে যতই ক্রিসমাসের আবহ এসে পড়ুক, ওপেনারদের নিয়ে উৎসবের মেজাজে থাকার কথা নয় বিরাট কোহালিদের। এর মধ্যেই সব চেয়ে বড় ঝটকা লেগেছে পৃথ্বী শ সিরিজের বাইরে চলে যাওয়ায়। প্রস্তুতি ম্যাচে গোড়ালিতে চোট লাগার পরে মাঝে আশা তৈরি হয়েছিল যে, মেলবোর্নে বক্সিং ডে টেস্ট ম্যাচ থেকে হয়তো তাঁকে পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু মাঠে ফেরার স্বপ্নভঙ্গ হয় পৃথ্বীর। তাঁর জায়গায় নতুন ওপেনার হিসেবে মায়াঙ্ক আগরওয়ালকে উড়িয়ে আনা হয়েছে। কিন্তু অফ ফর্মে থাকা দুই ওপেনারের কারও জায়গায় সরাসরি মেলবোর্নেই মায়াঙ্ককে নামানোর ঝুঁকি নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

Advertisement

আরও পড়ুন: যত নজর এখন বাইশ গজে

তা হলে উপায় কী? ব্যর্থ সেই বিজয় এবং রাহুলকেই ফের সুযোগ দিয়ে দেখা? নাকি প্রথাগত ওপেনারদের ছেড়ে অন্য কিছু চেষ্টা করা হবে? মেলবোর্নে আসার পরে ভারতীয় দল থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তিন দিন তাদের বিশ্রাম চলবে। আগামী রবিবার থেকে বক্সিং ডে টেস্টের জন্য প্রস্তুতি শুরু করবে তারা। তাই রবিবারের আগে মেলবোর্নের সম্ভাব্য একাদশ নিয়ে খুব পরিষ্কার ছবি পাওয়া সম্ভব নয়।



ছয় নম্বরে হনুমার জায়গা পাকা।

তবুও মনে হচ্ছে, অন্য কাউকে দিয়ে ওপেন করানোর ভাবনা নিয়ে নাড়াচাড়া হতেই পারে। বিশেষ করে রোহিত শর্মাকে টেস্টেও ওপেন করতে বলা যায় কি না, মৃদু স্বরে হলেও সেই আলোচনা ইয়ারা নদীর তীরে শুরু হলে অবাক হওয়ার নেই।

রোহিত ওয়ান ডে এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিশ্বের অন্যতম সেরা ওপেনার। ওয়ান ডে-তে সর্বোচ্চ রানের বিশ্বরেকর্ডও রয়েছে। তাই ওপেন করার অভিজ্ঞতা নেই, বলা যাবে না। সমস্যাটা হচ্ছে, তিনি সাদা বলে ওপেন করেছেন। লাল বলে নয়। এবং যে কেউ মানবেন, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ওপেন করা আর টেস্টে নতুন বল খেলতে নামার মধ্যে অনেক তফাত রয়েছে। বিশেষ করে রোহিতের মতো ব্যাটসম্যানের ক্ষেত্রে, যাঁর টেস্ট যোগ্যতা নিয়েই সংশয় রয়েছে।

তেমনই হাতের কাছে বীরেন্দ্র সহবাগের উদাহরণও রয়েছে। ওপেনার না হয়েও তিনি সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন এবং ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা ওপেনারের মতো ঝকমকে কেরিয়ার নিয়ে শেষ করেন। ক্রমশ পরিষ্কার হয়ে উঠতে শুরু করেছে যে, রোহিতকে যদি টেস্ট দলে থাকতে হয়, ওপেন করার কথা ভেবে দেখতে হবে। ছয় নম্বরে হনুমা বিহারীর মধ্যে অনেক বেশি জমাট ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হনুমা ওভালে অভিষেক টেস্টে এবং পার্‌থে দেখিয়েছেন, তিনি ক্রিজে পড়ে থেকে ইনিংস গড়ে তোলার কাজ করতে সক্ষম। সঙ্গে পার্টটাইম অফস্পিনারের কাজও করে দিতে পারেন। ব্যাট হাতে শৃঙ্খলা এবং প্রত্যয় দেখানো হনুমাকে এই মুহূর্তে ছয় নম্বর থেকে সরিয়ে দেওয়া তাই বেশ কঠিন।

দেখা যাচ্ছে, রোহিতকে টেস্টে নিয়মিত সদস্য হতে গেলে ওপেন করার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা ছাড়া উপায় নেই। আর নয়তো যদি অজিঙ্ক রাহানের ফর্ম খারাপের দিকে যেতে থাকে, ফের তাঁর পরিবর্তে পাঁচ নম্বরে তাঁর নাম উঠতে পারে। কিন্তু সেই সম্ভাবনা এই মুহূর্তে খুবই ক্ষীণ। বড়দিনেই হয়তো ঠিক হয়ে যাবে ‘ওপেনার’ রোহিতের ভাগ্য। পরের দিন, অর্থাৎ বক্সিং ডে-তে টেস্ট শুরু।

মেলবোর্নে তিন দিনের ছুটি কাটিয়ে প্র্যাক্টিস ফিরলে তাই সব চেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারেন রোহিত। তাঁকে কি টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে বাজিয়ে দেখা হবে, ওপেন করতে রাজি আছেন কি না? প্রস্তাব দেওয়া হলে রোহিত কি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করবেন? যদিও তাঁর ফিটনেস নিয়ে সর্বশেষ আপডেট কী, তা এখনও জানানো হয়নি দলের পক্ষ থেকে। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক কোমরে চোট পেয়ে পার্‌থ টেস্টে খেলতে পারেননি। যদি তিনি তৃতীয় টেস্টের জন্য ফিট হয়ে যান, তা হলে মেলবোর্নের প্র্যাক্টিস সেশনে তাঁকে নতুন বলে ব্যাটিং অনুশীলন করানো হয় কি না, সেটাই দেখার।

অতীতে কয়েক বার ওপেনিং নিয়ে সঙ্কটে পার্থিব পটেল বিকল্প হিসেবে উদয় হয়েছেন। তিনিও স্কোয়াডে আছেন। কেউ কেউ তাঁর নামও তুলছেন। কিন্তু ঋষভ পন্থকে বসিয়ে পার্থিবকে খেলানোর সম্ভাবনা কম। ঋষভ এই সিরিজে কিপিং ভালই করেছেন। ইংল্যান্ডের মতো বল সুইং করছে না বলে অস্বস্তিতে দেখাচ্ছে না। সঙ্গে ব্যাটিংও খারাপ করছেন না। শেষের দিকে পার্টনারের অভাবে ভুগতে হয়েছে তাঁকে।

বরং এটা ধরে রাখা যায় যে, মেলবোর্নে তিন পেসার এবং এক স্পিনার খেলবেনই। ডেনিস লিলি আনন্দবাজারকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে যেমন ভবিষ্যদ্বাণী করে দিয়েছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, সেই একমাত্র স্পিনার কে হবেন? অশ্বিন নিশ্চয়ই প্রথম পছন্দ। কিন্তু তাঁরও তলপেটের পেশিতে চোট থাকায় আগের টেস্টে খেলতে পারেননি। পার্‌থ টেস্টের মধ্যে তাঁকে বোলিং প্র্যাক্টিস করতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু খুব জোরালো প্র্যাক্টিস সেশন বলা যাবে না। যদি পুরোপুরি সেরে ওঠেন, হয়তো তিনিই খেলবেন। আবার সাউদাম্পটনের তিক্ত স্মৃতিও রয়েছে। যেখানে দলের সেরা স্পিনার ফিট ধরে নিয়ে খেলানোর পরে দেখা যায়, তিনি পুরোপুরি ছন্দে নেই। পিচে ক্ষত তৈরি হলেও অশ্বিন তার ফায়দা তুলতে পারেননি সাউদাম্পটনে। ইংল্যান্ডের মইন আলি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে কোহালিদের ধ্বংস করে দেন, অথচ অশ্বিন তেমন প্রভাবই সৃষ্টি করতে পারেননি। ওভালের শেষ টেস্টে তাঁকে বসিয়ে খেলানো হয় রবীন্দ্র জাডেজাকে। কোনও সন্দেহ নেই, মেলবোর্নের পরীক্ষার জন্য অশ্বিন এক নম্বর পছন্দ হলেও বাঁ হাতি জাডেজাকেও তৈরি রাখা হবে।

—ফাইল চিত্র ।

Advertisement