আমেরিকায় নয়। মেক্সিকোয় বিশ্বকাপ ফুটবলের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেবে ইরান। প্রথমে অ্যারিজ়োনায় শিবির করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ইরানের ফুটবল কর্তারা। দলের নিরাপত্তার কথা ভেবে শিবির সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মেক্সিকোর তিজুয়ানায়।
বিশ্বকাপের প্রতিটি দল প্রতিযোগিতা শুরুর আগে দুই বা তিন সপ্তাহের প্রস্তুতি শিবির করে। আয়োজক দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি চূড়ান্ত রণকৌশল তৈরি করা হয় শিবিরে। সেই মতোই অ্যারিজ়োনায় প্রস্তুতি শিবির করার কথা ভেবেছিলেন ইরানের ফুটবল কর্তারা। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে শিবির সরিয়ে মেক্সিকোয় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মেক্সিকো আসন্ন বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ হলেও গ্রুপ পর্বে ইরানকে সব ম্যাচই খেলতে হবে আমেরিকার মাটিতে। ইরানকে শিবির সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে ফিফা।
ইরানের সংবাদমাধ্যমে সে দেশের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ বলেছেন, ‘‘ভিসা পাওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া সমস্যার জন্য আমরা প্রস্তুতি শিবির আমেরিকা থেকে মেক্সিকোয় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আবেদন করেছিলাম। ফিফা সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে। আমরা প্রশান্ত মহাসাগরের কাছে তিজুয়ানায় শিবির করব। এই শহরটির কিছুটা অংশ আমেরিকার মধ্যে থাকলেও প্রশাসনিক ভাবে মেক্সিকোর অন্তর্গত। সেখানে শিবিরের সব আয়োজন করা হয়েছে।’’ ভিসা সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি যাতায়াতের ক্ষেত্রেও সুবিধা হবে বলে জানিয়েছেন তাজ। মেক্সিকোয় শিবির হলে ইরান এয়ারের বিমানে যাওয়ার সুযোগ থাকবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল যৌথ সামরিক হামলা শুরু করে ইরানে। পাল্টা জবাব দেয় পশ্চিম এশিয়ার দেশটিও। বর্তমানে সংঘর্ষ বিরতি চললেও দু’দেশের মধ্যে রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক উত্তাপ রয়েছে। হুমকি-পাল্টা হুমকি দিচ্ছে দু’পক্ষই। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণই এক সময় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। ফিফার হস্তক্ষেপে সেই সমস্যা মিটেছে।
আরও পড়ুন:
এই মুহূর্তে ইরানের জাতীয় দল তুরস্কে প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার ফুটবলার এবং সাপোর্ট স্টাফদের ভিসার জন্য আমেরিকার দূতাবাসে আবেদন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হবে বিশ্বকাপ। গ্রুপ পর্বে ইরানের প্রতিপক্ষ নিউ জ়িল্যান্ড, বেলজিয়াম এবং মিশর।