×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২১ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

মত বদলে মোহনবাগানে মেহতাব

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ২৪ মে ২০১৮ ০৪:৫৫

ইস্টবেঙ্গলে খেলে অবসর নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি। কিন্তু নাটকীয় ভাবে মত বদলে যোগ দিলেন মোহনবাগানে। তিনি— মেহতাব হোসেন। কিন্তু প্রায় ১১ বছর পরে তাঁর প্রত্যাবর্তনের দিনেই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল সবুজ-মেরুন শিবিরের বিভাজনের ছবি।

বুধবার দুপুর পৌনে তিনটে নাগাদ মোহনবাগান ক্লাব তাঁবুতে পৌঁছন মেহতাব। অথচ অন্যতম সেরা বাঙালি মিডফিল্ডারকে স্বাগত জানাতে কোনও সমর্থককেই দেখা যায়নি। শুধু তাই নয়। মোহনবাগান অন্দরমহলের খবর, কোচ শঙ্করলাল চক্রবর্তীকে অন্ধকারে রেখেই মেহতাবকে সই করিয়েছেন সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ফুটবল সচিব।

ইস্টবেঙ্গলে থেকে অবসর নেওয়ার কথা ঘোষণা করেও মত বদল করলেন কেন? সাংবাদিক বৈঠকে মেহতাব বললেন, ‘‘সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইটে যে ভাবে আমাকে গত কয়েক দিন ধরে আক্রমণ করা হয়েছে, তাতে আমি আঘাত পেয়েছি। এই কারণেই মোহনবাগানে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’’ মেহতাবের মান ভাঙাতে এ দিন সকালে তাঁর বাড়িতে গিয়েছেন লাল-হলুদের দুই কর্তা। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলে খেলতে রাজি হননি তিনি। যদিও মোহনবাগান ক্লাব তাঁবুতে সাংবাদিক বৈঠকেও মেহতাব দাবি করলেন, লাল-হলুদ জার্সি গায়েই ফুটবলকে বিদায় জানানোর পরিকল্পনা ছিল তাঁর। বললেন, ‘‘ইস্টবেঙ্গল থেকেই অবসর নিতে চেয়েছিলাম আমি। কিন্তু হঠাৎ রটিয়ে দেওয়া হয় আমি নাকি বিনা অর্থে ইস্টবেঙ্গলে সই করছি। যা আমার কাছে অত্যন্ত অসম্মানজনক। কারণ, গত মরসুমেও আমি ৫০ লক্ষ টাকায় জামশেদপুর এফ সি-তে সই করেছিলাম। বিশ্বের কোনও ফুটবলার বিনা অর্থে খেলে না।’’ শুধু তাই নয়। জানিয়ে দিলেন, এখনই অবসর নিয়ে ভাবছেন না। ছন্দ ধরে রাখতে পারলে আরও দু-তিন বছর খেলতে চান।

Advertisement

মেহতাবের দাবি অবশ্য উড়িয়ে দিচ্ছে লাল-হলুদ শিবির। এক শীর্ষ কর্তা বললেন, ‘‘মেহতাব বলেছিল ইস্টবেঙ্গলে খেলে অবসর নেবে। আমাদের কোনও আপত্তি ছিল না। ও নিজেই বলেছিল, ক্লাবের এই আর্থিক সঙ্কটে কোনও অর্থ নেবে না।’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘গত সোমবারও ক্লাবে এসেছিল মেহতাব। সচিব কল্যাণ মজুমদারের সঙ্গে আলোচনা করেছে। ঠিক ছিল, সাংবাদিক বৈঠক ডেকে ইস্টবেঙ্গল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে। এর আগেও মেহতাবের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েছি। এখনও দিচ্ছি।’’

মোহনবাগানে ২৩ নম্বর জার্সি পরে খেলতেন মেহতাব। এ দিন তাঁর হাতে একই নম্বরের জার্সি তুলে দেওয়া হয়। তবে সবুজ-মেরুন শিবিরে মেহতাবের প্রত্যাবর্তনের দিনেই অর্থ সচিবের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হল।

Advertisement