Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৯ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

খেলা

কেমন হল কলকাতা নাইট রাইডার্স দল? দেখুন আইপিএল গাইড

নিজস্ব প্রতিবেদন
০৪ এপ্রিল ২০১৮ ১৫:০২
দল বাছার আগে থেকেই উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। ৭ এপ্রিল মহাযজ্ঞ শুরুর আগে গ্যালারির পাতায় দেখে নিন  আইপিএল-এর সবচেয়ে আলোচিত কেকেআর দলের খুঁটিনাটি।

ইতিহাস: আইপিএলের সব চেয়ে আলোচিত দল। মালিকের নাম শাহরুখ খান হলে সেটা হওয়াই স্বাভাবিক। আইপিএল শুরু হয়েছিল শাহরুখ-সৌরভ জুটি দিয়ে। তার পরে অবশ্য নিলামে সৌরভের নাম ডাকার সময় নিশ্চুপ হয়ে বসে থাকা কেকেআর-কে নিয়ে বিতর্কের ঝড় বয়ে গিয়েছে। তিন বছর হয়ে যাওয়ার পরেও ট্রফির খোঁজ না পেয়ে শাহরুখের দল অধিনায়ক করে নিয়ে আসে গৌতম গম্ভীর-কে। দিল্লির বাঁ হাতি ওপেনার এসে দু’বার চ্যাম্পিয়ন করেন নাইটদের। এ বার সেই গম্ভীরকেও ছেড়ে দেওয়া হল। নিলামে শাহরুখের দলের চমক দেওয়া চলছেই। খুব জনপ্রিয় কোনও ক্রিকেটার এ বারেও তারা নেয়নি। বরং নিলামে মিতব্যায়ী হয়ে কাটিয়েছে বলে সমালোচিত হয়েছে। যেখানে সর্বাধিক ২৫ জনকে দলে রাখা যায়, সেখানে নাইট রাইডার্স এ বারে রেখেছে ১৯ জনকে।
Advertisement
সেরা আকর্ষণ: অধিনায়ক হিসেবে দীনেশ কার্তিক-কে বেছে নেওয়া দেখে শুরুতে অনেকে বিস্মিত হয়েছিলেন। নিলামের পরে কথাও উঠেছিল, কেন বাংলার ঋদ্ধিমান সাহার জন্য দর হাঁকাহাঁকিতে গিয়েও সরে এল নাইট রাইডার্স। ঋদ্ধির চেয়ে কি কার্তিক ভাল? শ্রীলঙ্কায় নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে শেষ বলে ছক্কা মেরে জেতানো এবং ঝোড়ো ব্যাটিং করে কার্তিক সেই সব অস্বস্তিকর প্রশ্নের উত্তর আপাতত দিতে পেরেছেন। রাতারাতি তিনিই হয়ে উঠেছেন কেকেআরের জনপ্রিয় মুখ।

শক্তি: নাইট রাইডার্সের ব্যাটিং বেস জমাট এবং অভিজ্ঞ। শুরুতে গৌতম গম্ভীর না থাকলেও ক্রিস লিন ঝড়ের সঙ্গে রবিন উথাপ্পার পরিণত ব্যাটিংয়ের যুগলবন্দি জমে উঠতে পারে। সঙ্গে চমক হিসেবে থাকতে পারেন ব্যাটসম্যান সুনীল নারাইন-ও। গত আইপিএলেও বোলিং অ্যাকশনে ত্রুটি ধরা পড়ে যখন বল করতে পারছিলেন না নারাইন, ব্যাট হাতে ওপেন করতে তাঁকে নামিয়ে দিয়েছিল কেকেআর। এবং, শুরুতে পাওয়ার প্লে-র সুবিধে নিয়ে বড় শট খেলে চমকে দিয়েছিলেন নারাইন। কেকেআরের স্পিন বিভাগ আইপিএলের অন্যতম সেরা। শারুখের দলের অন্যতম প্রধান ভরসা হয়ে উঠতে পারেন বড় শট নিতে দক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল। ব্যাটে-বলে তিনি অনেক ম্যাচ জিতিয়েছেন নাইটদের।
Advertisement
দুর্বলতা: ইডেনের পিচ আগের মতো আর মন্থর, স্পিন-সহায়ক নেই। বরং, এখন পেসাররাই বেশি সাহায্য পান। সে কথা মাথায় রেখেই কেকেআর নিলাম থেকে প্রচুর টাকায় অস্ট্রেলিয়ার বাঁ হাতি মিচেল স্টার্ক-কে নিয়েছিল। কিন্তু চোটের জন্য স্টার্ক গোটা আইপিএল থেকেই ছিটকে গিয়েছেন। সেটা একটা বড় ধাক্কা। আর এক অস্ট্রেলীয় মিচেল জনসন আছেন, কিন্তু আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে অবসর নেওয়ায় ক্রিকেটের বাইরে। তাই তাঁর ফর্ম নিয়ে চিন্তা থাকবেই। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভাল বল করা কমলেশ নাগারকোটি এবং শিভম মাভি-কে নিয়েছে কেকেআর। কিন্তু টি-টোয়েন্টির অনভিজ্ঞতা তাঁদের বিরুদ্ধে যেতে পারে। আইপিএলের মতো মঞ্চে সীমাহীন চাপ থাকবে নাগারকোটিদের উপর। মিডল-অর্ডার ব্যাটিং খুব মজবুত না হওয়াটাও চিন্তায় রাখছে। মণীশ পাণ্ডে-কে ছেড়ে দেওয়ায় ভুগতে হতে পারে। ইডেনে নিজেদের ঘরের মাঠে অতিরিক্ত গতি এবং বাউন্স সামলানোর মতো দক্ষ ব্যাটসম্যান নাইটদের দলে আছে কি না, সেই প্রশ্নও থাকছে।

স্পিন বিভাগ: বরাবর কেকেআরের সাফল্যে বড় ভূমিকা নিয়েছেন স্পিনাররা। সুনীল নারাইন অ্যাকশনের জন্য আটকে না গেলে এখনও টি-টোয়েন্টিতে সব চেয়ে কার্যকরী স্পিনার। চায়নাম্যান কুলদীপ যাদবের সঙ্গে আছেন পীযূষ চাওলা। পিচে স্পিন ধরলে যে কোনও দলকে সমস্যায় ফেলার ক্ষমতা রাখে এই স্পিন ত্রয়ী। বিশেষ করে ভারতের হয়ে সম্প্রতি সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দারুণ সফল কুলদীপ হয়ে উঠতে পারেন প্রধান স্পিন অস্ত্র।

নজরে তারুণ্য নীতি: শাহরুখের দল তরুণ এবং অনভিজ্ঞ ক্রিকেটার কেনার নকশা নিয়েছিল নিলামে। ব্যাটিংয়েও তারা অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সফল শুভমান গিল-কে কিনেছিল। অনভিজ্ঞ গিলের কঠিন পরীক্ষা হতে যাচ্ছে আইপিএলে। এত বেশি তারুণ্যের উপর নির্ভর করে আন্তর্জাতিক মানের সমতুল্য একটি টুর্নামেন্টে খেলতে নামাটা সঠিক রণনীতি কি না, সেটাও দেখার অপেক্ষায় বিশেষজ্ঞ। দল ভাল না করতে পারলে কিন্তু নিলামে মিতব্যায়ী থাকার নীতির দিকেই আঙুল উঠবে। তবে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে খেলে নজর কাড়া বাঁ হাতি আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান নীতিশ রানা-কে নিয়ে আশাবাদী অনেকে।

সম্ভাব্য সেরা প্রথম একাদশ: ক্রিস লিন (বিদেশি), সুনীল নারাইন (বিদেশি), রবিন উথাপ্পা, দীনেশ কার্তিক (অধিনায়ক), নীতিশ রানা, আন্দ্রে রাসেল (বিদেশি), শুভমান গিল, টম কুরান (বিদেশি, স্টার্কের পরিবর্ত) পীযূষ চাওলা, কুলদীপ যাদব এবং মিচেল জনসন।

আইপিএলে কেকেআরের ম্যাচ, কবে কী: ৮ এপ্রিল: বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর (কলকাতা), ১০ এপ্রিল: বনাম চেন্নাই সুপার কিংস (চেন্নাই), ১৪ এপ্রিল: বনাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (কলকাতা), ১৬ এপ্রিল: বনাম দিল্লি ডেয়ারডেভিলস (কলকাতা), ১৮ এপ্রিল: বনাম রাজস্থান রয়্যালস (জয়পুর), ২১ এপ্রিল: বনাম কিংস ইলেভেন পঞ্জাব (কলকাতা), ২৭ এপ্রিল: বনাম দিল্লি ডেয়ারডেভিলস (দিল্লি), ২৯ এপ্রিল: বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর (বেঙ্গালুরু), ৩ মে: বনাম চেন্নাই সুপার কিংস (কলকাতা), ৬ মে: বনাম মুম্বই ইন্ডিয়ান্স (মুম্বই), ৯ মে: বনাম মুম্বই ইন্ডিয়ান্স (কলকাতা), ১২ মে: বনাম কিংস ইলেভেন পঞ্জাব (ইনদওর), ১৫ মে: বনাম রাজস্থান রয়্যালস (কলকাতা), ১৯ মে: বনাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (হায়দরাবাদ)।