• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ছাত্রভোট রোখা স্বাধিকারেই হস্তক্ষেপ, রায় দিল যাদবপুর

Advertisement

কলকাতা-সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নানান বিষয়ে নাক গলিয়ে রাজ্য সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাধিকার ভঙ্গ করছে বলে অভিযোগ উঠছে।

এ বার যাদবপুরের ছাত্রছাত্রীরা গণভোটে রায় দিলেন, ছাত্র সংসদের নির্বাচনে নাক গলিয়েও তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকারে হস্তক্ষেপ করেছে সরকার। সেখানকার ৯০ শতাংশ প়ডুয়া মনে করেন, নির্দিষ্ট সময়ে ছাত্রভোট করতে না-দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকার রক্ষার পরিপন্থী। একই সঙ্গে নির্ঘণ্ট মেনে ছাত্র সংসদের নির্বাচন সেরে ফেলার পক্ষেই গিয়েছে যাদবপুরের ছাত্র-গণভোটের রায়।

নিয়ম মেনে প্রতি বছরই জানুয়ারিতে রাজ্যের সব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের নির্বাচন হয়। কিন্তু গত অক্টোবরে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, ছাত্রভোট কয়েক মাসের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ২৬ নভেম্বর উচ্চশিক্ষা দফতর এ ব্যাপারে রীতিমতো বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেয় মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা বোর্ডের পরীক্ষার জন্য স্থগিত রাখা হচ্ছে ছাত্র সংসদের নির্বাচনের সমস্ত প্রক্রিয়াই। রাজ্য সরকারের তরফে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি জারি না-করা পর্যন্ত এই নির্দেশ বলবৎ থাকবে।

সরকারের সেই বিজ্ঞপ্তির পরেও যাদবপুরের ছাত্রছাত্রীরা যথাসময়ে ভোটের দাবিতে মুখর হয়। প়ডুয়াদের চাপে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসমিতিও নির্দিষ্ট সময়ে ছাত্র সংসদের নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত রূপায়ণের পথে না-গিয়ে তারা সরকারের মুখাপেক্ষী হয়ে পড়ে। ঠিক সময়ে ছাত্রভোট করা যাবে কি না, সেই ব্যাপারে সরকারের অনুমোদন চেয়ে চিঠি পাঠান যাদবপুর-কর্তৃপক্ষ। বিতর্কের মুখে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ভূমিকাও। প্রশ্ন ওঠে, বিশ্ববিদ্যালয় স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও সরকারের অনুমতির অপেক্ষায় থাকবে কেন? এতে কি কর্তৃপক্ষই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকারে সরকারি হস্তক্ষেপকে আমন্ত্রণ জানালেন না?

সেই প্রশ্ন ও অভিযোগের সুরাহা হয়নি। যাদবপুর-কর্তৃপক্ষ অনুমোদন চেয়ে সরকারের কাছে যে-চিঠি পাঠিয়েছিলেন, তার জবাবে সরকার জানিয়ে দেয়, ওই ছাত্রভোটের সিদ্ধান্তে সম্মতি দেওয়া হচ্ছে না। কর্মসমিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া সত্ত্বেও ছাত্রভোট আটকে যাওয়ায় পড়ুয়াদের একাংশ উপাচার্য সুরঞ্জন দাসকে প্রায় ৫৪ ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখেন। রাজ্যপাল তথা আচার্য কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর সঙ্গে পড়ুয়াদের বৈঠকেও ছাত্রভোটের সেই জট খোলেনি।

তার পরেই ছাত্রছাত্রীরা গণভোটের আয়োজন করেন। তাতে মূলত দু’টি বিষয়ে পডুয়াদের মত জানতে চাওয়া হয়েছিল। • যথাসময়ে ছাত্র সংসদের নির্বাচন হওয়া উচিত কি না। • ছাত্র সংসদের নির্বাচন নিয়ে সরকারের বিজ্ঞপ্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকারের পরিপন্থী কি না।

গণভোটের এই ফলাফল নিয়ে যাদবপুরের ছাত্রছাত্রীরা কি আবার রাজ্যপাল-আচার্যের দ্বারস্থ হবেন?

‘‘বিশ্ববিদ্যালয়-কর্তৃপক্ষ সোমবার আমাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। তার পরে আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব,’’ শুক্রবার বলেন ছাত্র সংগঠন ফেটসু-র সাধারণ সম্পাদক স্বর্ণেন্দু বর্মণ।

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন
আরও খবর

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন