বীরভূমের মহম্মদবাজার ব্লকে দেউচা-পাঁচামি খনি প্রকল্পের জন্য জমির কোনও সমস্যা হবে না জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারের জমিতেই প্রকল্পটি গড়ে উঠবে বলে জানান তিনি।

দেউচা খনিতে ২২০ কোটি টনের মতো কয়লা মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় কয়লা মন্ত্রক। এর মধ্যে ১ কোটি টন পাবে পশ্চিমবঙ্গ। তা ছাড়াও বিহার, কর্নাটক, পঞ্জাব, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ এবং শতদ্রু জল বিদ্যুৎ নিগম কয়লার ভাগ পাবে। কেন্দ্রীয় সরকার খনিটি রাজ্যকে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ায় প্রস্তাবিত সাগরদিঘি ও কাটোয়া তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পে কয়লার কোনও অভাব হবে না বলে জানিয়েছেন রাজ্য বিদ্যুৎ দফতরের কর্তারা।

সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পে ১২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে। কর্মসংস্থান হবে কয়েক হাজার মানুষের। প্রকল্পটি হলে বাঁকুড়া, বীরভূম, বর্ধমান ও  মুর্শিদাবাদের কিছু অংশের আর্থ-সামাজিক চেহারা বদলে যাবে।

প্রকল্পের জন্য রাজ্য কি জমি অধিগ্রহণ করবে? ওই ব্লকের ছ’টি মৌজায় যে বনাঞ্চল ও আদিবাসীদের গ্রাম রয়েছে, তাদের কী হবে?

জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকার নিজের জমিতেই খনি প্রকল্প গড়বে। জোর করে কোনও মানুষের জমি নেওয়া হবে না। এ ব্যাপারে সরকারের নির্দিষ্ট জমি নীতি রয়েছে।” এই প্রকল্পে যে সংস্থা কয়লা উত্তোলনের দায়িত্ব পাবে, তারাই ১২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে বলে জানান বিদ্যুৎ দফতরের এক কর্তা।

রাজ্য প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, “বীরভূমের মহম্মদবাজার ব্লকের যে গ্রামগুলির মাটির তলা থেকে কয়লা তোলা হবে, সেখানে চাষ-আবাদ প্রায় হয় না। প্রকল্পের জন্য প্রথম পর্যায়ে যে ১ হাজার একর জমির প্রয়োজন, তার মধ্যে ৫০-৬০ একরে এক ফসলি চাষের জমি রয়েছে। বাকি জমি রুক্ষ এবং পতিত। রয়েছে সরকারের কিছু খাস জমিও।” ওই কর্তা আরও জানান, প্রকল্প এলাকার আদিবাসী গ্রামগুলিতে গড়ে ৮০-৯০টি করে পরিবার রয়েছে। এই পরিবারগুলিকে অন্য জায়গায় সরিয়ে বিকল্প আয় এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে বলে প্রাথমিক ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, ওই খনি প্রকল্পের বেশির ভাগ জমিই রয়েছে দেউচা-হিংলো-ভাঁরকাটা-কাপিষ্ঠা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মধ্যে। সেখানে ৩০-৩৫টি আদিবাসী গ্রাম রয়েছে। আদিবাসী গ্রামের জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে যেহেতু আইনি জটিলতা রয়েছে, তাই রাজ্যকে এই জমি নেওয়ার ক্ষেত্রে ভেবেচিন্তে পদক্ষেপ করতে হবে। জেলা প্রশাসনের কর্তাদের মতে, সত্তরের দশকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে ওই অঞ্চলের প্রায় ৫০০ একরের মতো জমি নিজেদের হেফাজতে নিয়েছিল সরকার। এরই একটি অংশের জমির মালিকদের এখনও বাৎসরিক ক্ষতিপূরণ দেয় পশ্চিমবঙ্গ খনিজ উন্নয়ন ও বিত্ত নিগম।

মুখ্যমন্ত্রীর এ দিনের ঘোষণা নিয়ে বীরভূম আদিবাসী গাঁওতা সংগঠনের সম্পাদক রবীন সোরেন জানান, খনি প্রকল্পের জন্য তাঁদের জমি দিতে কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু প্রতিটি পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসন দিতে হবে সরকারকে। তাঁর দাবি, জমি নিতে গেলে প্রশাসনকে সরাসরি তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে হবে।