• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বুদ্ধদেবকে তোপ রেজ্জাকের, নজর রাখছে সিপিএম

বহিষ্কৃত হওয়ার পর রেজ্জাক মোল্লা কোন পথে এগোন, সে দিকে নজর রাখছেন প্রকাশ কারাট-সীতারাম ইয়েচুরিরা। দিল্লিতে গত কাল ছিল সিপিএম পলিটব্যুরোর বৈঠক। আজ এবং আগামিকাল কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক। দলীয় সূত্রের খবর, রেজ্জাকের সম্ভাব্য পদক্ষেপ কী কী হতে পারে, নেতাদের কথায় সে প্রসঙ্গ উঠেছে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ঠিক এই সময়টাতেই রাজধানী এসে সিপিএম তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন রেজ্জাক। বুদ্ধদেববাবুর উত্থানের সময় থেকে দলে পচন ধরতে শুরু করেছিল বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

আজ এক সাক্ষাৎকারে রেজ্জাক বলেন, “১৯৮৭ পর্যন্ত পার্টি ঠিক পথেই চলছিল। তার পর যেই দলে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য গুরুত্ব পেতে শুরু করলেন, সব নষ্ট হয়ে গেল।” বুদ্ধবাবুর হাত ধরে ক্রমশ পুঁজিপতি এবং দালালদের অনুপ্রবেশ ঘটেছিল বলে অভিযোগ করে রেজ্জাক বলেন, “এ ভাবে তো সংগঠন চলে না। অনেক বার এ কথা আমি দলের নেতাদের বলেছি। এই দল শ্রমিক-কৃষকদের দল থেকে মালিক এবং পুঁজিপতিদের দল হয়ে উঠল। ঠান্ডা ঘরে বসে নেতারা তত্ত্ব বানাতেন এবং তা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হতো দরিদ্র মানুষের উপর।” আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বামফ্রন্টের ফলাফল খুবই খারাপ হবে বলে মনে করছেন রেজ্জাক। তাঁর কথায়, “ভাল ফলের কোনও প্রশ্নই ওঠে না। জঘন্য হবে ফলাফল।”

দলবিরোধী কার্যকলাপ এবং জনসমক্ষে দলের ভাবমূর্তিকে হেয় করার অভিযোগে রেজ্জাককে ছেঁটে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন সিপিএম নেতৃত্ব। দলের আদর্শগত অবস্থানের কারণেই এই পদক্ষেপ করতে হয়েছে পলিটব্যুরোকে। কিন্তু আদর্শগত অবস্থানের পাশাপাশি লোকসভা ভোটের আগে কৌশলগত দিকটিও মাথায় রাখতে হচ্ছে দলীয় নেতাদের। তাই কেন্দ্রীয় কমিটির ঘোষিত আলোচ্যসূচিতে না থাকলেও ঘরোয়া আলোচনায় রেজ্জাক-প্রসঙ্গ উঠেছে। এই সময়ে দিল্লিতে উপস্থিত রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ, কেরল এবং ত্রিপুরা সিপিএমের শীর্ষ নেতারা। রেজ্জাক দলের কোনও বিক্ষুব্ধ অংশের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন কি না, সে দিকে নজর রাখছে সিপিএম।

রেজ্জাক অবশ্য সিপিএমকে তোপ দাগলেও নিজের তাস এখনই দেখাতে চাইছেন না। সম্প্রতি ‘সামাজিক ন্যায়বিচার মঞ্চ’ গড়েছেন। কোনও রাজনৈতিক দল নয়, এই মঞ্চের মাধ্যমেই তিনি পিছিয়ে পড়া সংখালঘুদের জন্য কাজ করতে চান এখনও পর্যন্ত এটাই রেজ্জাকের ঘোষিত বক্তব্য। তাঁর কথায়, “৭২ সালে প্রথম বিধায়ক হই। আর নয়, অনেক হয়েছে। এ বার মুসলিম দলিতদের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে চাই।” আজ দিনভর একাধিক দলিত সংখ্যালঘু নেতা-কর্মীর সঙ্গে বৈঠক করেন রেজ্জাক। কথা বলেন বহুজন সমাজবাদী পার্টির কিছু নেতার সঙ্গেও। সূত্রের খবর, জেডিইউ-এর রাজ্যসভার সাংসদ আলি আনোয়ারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলছেন রেজ্জাক। আনোয়ার ইতিমধ্যেই রেজ্জাকের মঞ্চে যোগ দিয়েছেন। বিভিন্ন রাজ্যের দলিত ও পিছড়ে বর্গ সংখ্যালঘুদের সঙ্গে তাঁর মাধ্যমেই রেজ্জাক যোগাযোগ করছেন বলে জানা গিয়েছে।

অণ্ণা হজারে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জোট নিয়ে দিল্লি এই মুহূর্তে সরগরম। কী ভাবছেন বিষয়টি নিয়ে? রেজ্জাকের জবাব, “অণ্ণাকে ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। ডান দিকে যেতে চান না বাঁ দিকে! তবে এটা ঠিক, এর ফলে হয়তো মমতার লাভই হবে।

যদি এই জোটের ফলে পশ্চিমবঙ্গের বাইরে যদি দু’চারটে আসন বেশি পাওয়া যায়, তা হলে তো তৃণমূলের পক্ষে ভালই।”

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন