• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বোম মারলে বারোটা বাজিয়ে দেবে পুলিশ, বলছেন সেই অনুব্রত

1
উদ্ধত তর্জনী। তৃণমূলের সভায় অনুব্রত মণ্ডল। রয়েছেন মনিরুল ইসলামও। রবিবার পাড়ুইয়ের সাত্তোরে। ছবি: বিশ্বজিৎ রায়চৌধুরী

পঞ্চায়েত ভোটের প্রচারে প্রকাশ্য মঞ্চ  থেকে দলীয় কর্মীদের বলেছিলেন, “পুলিশে উপরে বোম মারুন।” পুলিশ অবশ্য এ যাবৎ তাঁর টিকি ছুঁতে পারেনি। সেই তিনিই রবিবার বললেন, “পুলিশের উপরে বোম মারবেন না! পুলিশ আপনার বারোটা বাজিয়ে দেবে!” তবে এ যাত্রা আর নিজের দলের কর্মীদের নয়, জেলায় প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠা বিজেপির কর্মীদের এই ‘সদুপদেশ’ দিলেন তিনি অনুব্রত মণ্ডল।

ঘটনাস্থল সেই পাড়ুই, পঞ্চায়েত ভোটের আগে যেখানে পুলিশকে বোম মারার কথা বলেছিলেন বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতি অনুব্রত! তখন এই এলাকা ছিল তাঁর শক্ত ঘাঁটি। কিন্তু এখন বিজেপির উত্থানের দৌলতে তাঁর ‘গলার কাঁটা’! গত সপ্তাহেই পাড়ুইয়ের সাত্তোর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পার্টি অফিস খুলে সভায় শাসক দলকে ‘হুঁশিয়ারি’ দিয়েছিলেন বিজেপি নেতারা। তারই পাল্টা হিসেবে এ দিন একই জায়গায় সভা করে অনুব্রত বলেন, “যে সব বিজেপির গুন্ডা রাতের বেলায় লুঠ করছেন, পুলিশকে দেখে বোম মারছেন, তাঁদের বলব, বন্ধুরা আইন নিজের হাতে নিতে যাবেন না। পুলিশ ভয়ঙ্কর জিনিস! পুলিশ আমার নয়, আপনারও নয়। পুলিশ কিন্তু আপনার বারোটা বাজিয়ে দেবে!”

কেন অনুব্রতর গলায় উল্টো সুর?

বিজেপির বক্তব্য, পাড়ুইয়ে তাদের উত্থানে ভীত অনুব্রত। তাই এখন বিজেপির নিচুতলার কর্মী-সমর্থকদের পুলিশ-জুজু দেখিয়ে ভয় পাইয়ে পায়ের তলার জমি ফিরে পেতে তিনি। বীরভূমে অনুব্রত-বিরোধী এক তৃণমূল নেতার রসিকতা, “যে পুলিশের মাথায় উনি বোম মারতে বলেছিলেন, বিপাকে পড়ে সেই পুলিশকে দিয়েই বিরোধীদের বারোটা বাজিয়ে দেওয়ার ভয় দেখাচ্ছেন!”

বোলপুরের বিজেপি নেতা বলাই চট্টোপাধ্যায়ের কটাক্ষ, “আসলে শাসক দলের কর্মীরা পুলিশকে বোম মারলেও পুলিশ কিছু করতে পারবে না, সেটা অনুব্রত ভালই জানেন! তাই নিজের দলের কর্মীদের বলেন বোম মারতে, আর আমাদের কর্মীদের পুলিশ-জুজু দেখাচ্ছেন!” তাঁর অভিযোগ, এর আগে পুলিশকে বোম মারতে বলেছিলেন অনুব্রত। তার পরই এলাকা অশান্ত হয়ে ওঠে। সেই উস্কানির জেরেই সাগর ঘোষ খুন হন। এ বার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় বিজেপির বিরুদ্ধে উস্কানি দিলেন তিনি। বলাইবাবুর কথায়, “আমরা মামলার ভয় পাই না। আর পুলিশ তো বরাবরই ওদের সঙ্গে!” বিজেপির বীরভূম জেলা সভাপতি দুধকুমার মণ্ডলের দাবি, “তৃণমূলের এখন জনসমর্থন কমছে, তাই বেপরোয়া হয়ে পুলিশের একাংশকে সঙ্গে নিয়ে জমি ফিরে পেতে চাইছে।”

বস্তুত, দুধকুমার যা বলেছেন, তা পরোক্ষে মেনেও নিচ্ছেন তৃণমূলের বহু নেতা। পাড়ুইয়ে এখন তৃণমূলের সঙ্গে সমানে টক্কর দিচ্ছে বিজেপি। ফলে, সেখানে অনুব্রতর রাশ অনেকটাই আলগা হয়েছে। সম্প্রতি পাড়ুইয়ের চৌমণ্ডলপুরে বোমা উদ্ধার করতে গিয়ে বিজেপির হাতে আক্রান্ত হন পাড়ুই থানার ওসি প্রসেনজিৎ দত্ত। সে সময় পুলিশকে বোমা মারার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় বিজেপি নেতা সদাই শেখও তাঁর দলের বিরুদ্ধে। সে কথা মনে রেখেই এ দিন অনুব্রত ওই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বলে ধারণা জেলা তৃণমূলের নেতাদের।

এ দিনের সভায় ছিলেন বীরভূমের সভাধিপতি বিকাশ রায়চৌধুরী, লাভপুরের বিধায়ক মনিরুল ইসলাম, তৃণমূলের পাড়ুই থানা কমিটির সভাপতি মুস্তাক হুসেন, দলের ইলামবাজার ব্লক সভাপতি জাফারুল ইসলাম, সিউড়ি ২ ব্লক সভাপতি নুরুল ইসলাম এবং সাত্তোর অঞ্চল সম্পাদক শেখ মুস্তফার মতো খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত একাধিক নেতা। অনুব্রত নিজেও পাড়ুইয়ের সাগর ঘোষ হত্যা মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে যাঁর সতর্কবার্তা, “যে নেতারা উস্কানি দিচ্ছে, তারা দশটা কেস খেয়ে যাবে। তোমার পাশে সে নেতারা কেউ থাকবে না।”

এ দিনের সভায় মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ বিজেপিকে রুখতে গ্রামরক্ষী বাহিনী গঠনের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “সে রকম হলে আবার আমাদের সেই অতীতে ফিরে যেতে হবে। গ্রাম রক্ষা বাহিনী করে এই চোর ডাকাতকে আটকাতে হবে। এই চোর ডাকাতের পশ্চিম বাংলায় স্থান নেই।” পাড়ুই থানা কমিটির চেয়ারম্যান মুস্তাক হুসেন দাবি করেন, “দিন পনেরোর মধ্যে এলাকায় বিজেপির ঝান্ডা ধরার কোনও লোক থাকবে না।” আর অনুব্রতর চ্যালেঞ্জ, “বিজেপি জেলায় ১১টা বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে একটাও যদি পেয়ে যায়, আমি আর দল করব না বন্ধু!”

বিজেপি অবশ্য অনুব্রতর এই চ্যালেঞ্জকে তেমন গুরুত্ব দিতে নারাজ।  দুধকুমারের মন্তব্য, “এ-সব পাগলের প্রলাপ! মারধরের রাজনীতি আমরা করি না। ওরা করে।”

জেলা পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া অবশ্য এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে, এ দিনই পাড়ুই থানার যাদবপুর গ্রামে দু’টি ড্রাম বোঝাই ‘বোম’ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন