মেয়েটির কোনও ছবি মজুত নেই। অথচ স্টেশনে ট্রেন দাঁড়াবে মাত্র দু’মিনিট। তার মধ্যে তাকে  খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। অগত্যা রেল কর্তৃপক্ষের সাহায্য চাইল বাঁকুড়া ‘চাইল্ড লাইন’। ট্রেন দাঁড়াল পাঁচ মিনিট। উদ্ধার হল ওড়িশার বছর তেরোর কিশোরী, বিয়ে দিয়ে যাকে বিহারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে দাবি। মঙ্গলবার ‘চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি’র নির্দেশে তাকে পুরুলিয়ার একটি হোমে পাঠানো হয়।

বাঁকুড়া ‘চাইল্ড লাইন’-এ সোমবার রাত ১০টা নাগাদ ফোন করে এক মহিলা জানান, খণ্ডগিরির বাসিন্দা এক নাবালিকাকে বিয়ের পরে, পুরী-পটনা বৈদ্যনাথধাম সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসের অসংরক্ষিত কামরায় পাচার করা হচ্ছে। ট্রেন বাঁকুড়ায় থামে দু’মিনিট। তাই বাঁকুড়া ‘চাইল্ড লাইন’-এর সদস্য শুভ্র শীট এবং সীমন্ত বাউরি প্রথমেই দ্বারস্থ হন বাঁকুড়ার স্টেশন ম্যানেজার সাধনকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

ট্রেন বাঁকুড়া স্টেশনে ঢোকে রাত ১২টা ৩ মিনিটে। নাম ধরে ডাকতে ডাকতে অসংরক্ষিত কামরাগুলিতে সন্ধান চালাতেই হদিস মেলে। বাঁকুড়া চাইল্ড লাইনের কাউন্সিলর সব্যসাচী তিওয়ারি পরে বলেন, “রেলকে ধন্যবাদ। ভাগ্যিস ফোনটা এসেছিল!’’

‘চাইল্ড লাইন’ সূত্রের দাবি, ট্রেনে মেয়ের সঙ্গে তার বাবা এবং এক যুবক (বর) ও তাঁর বাবা-মা (শ্বশুর-শাশুড়ি) ছিলেন। তাঁরা নাবালিকা বিয়ে এবং পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করেন। বাঁকুড়া রেল পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ না থাকায় ওই চার জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মেয়েটিকে রেল পুলিশের কর্মী এবং রেলরক্ষী বাহিনীর জওয়ানেরা বাঁকুড়ায় নামিয়ে নিচ্ছেন দেখেও তাঁরা আপত্তি করেননি।