মালদহের চাঁচলের পর এ বার নৌকোডুবি বৈষ্ণবনগরে। মঙ্গলবার রাতে, দশমীর মেলা দেখতে যাওয়ার পথে নৌকো উল্টে মৃত্যু হল এক কিশোর ও দুই শিশুর। বৈষ্ণবনগরের কৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভুবনটোলা গ্রামের ঘটনা। মৃতেরা হল প্রেম মণ্ডল (১৩), খুশি মণ্ডল (৯) ও দেবরাজ মণ্ডল (৬)। দেবরাজ ও খুশি ভাইবোন। গঙ্গার জলে কয়েকদিন ধরেই প্লাবিত ওই গ্রাম। মেলায় যাওয়ার সময় সেই জলেই নৌকোটি উল্টে যায়। পুজোর মধ্যে এই দুর্ঘটনায় শোকস্তব্ধ গ্রাম। 

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত তিন জনেরই বাড়ি ভুবনটোলা গ্রামে। খুশি-দেবরাজের বাবা স্বপন পেশায় দিনমজুর। তাঁর ছয় ছেলেমেয়ের মধ্যে খুশি-দেবরাজই ছোট। প্রেম বৈষ্ণবনগরের এক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। তার বাবা বীরেশ পেশায় কৃষক। মঙ্গলবার রাতে তিন জনের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান মালদহের পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া। তিনি বুধবার বলেন, “ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গার জলে প্লাবিত হয়ে রয়েছে ভুবনটোলা গ্রাম। গ্রামের তিন শতাধিক বাড়ি জলমগ্ন। নৌকোতেই যাতায়াত করতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের। দশমীর সন্ধে ৬টা নাগাদ ওই তিন জন এবং গ্রামের আরও ন’জন মিলে পাশের কালীতলা গ্রামে দশমীর মেলা দেখতে যাচ্ছিল ছোট নৌকো করে। আচমকা গ্রামের মধ্যেই নৌকোটি উল্টে যায়। অনেকেই সাঁতরে আশপাশের উঁচু জায়গায় উঠতে পারলেও তলিয়ে যায় প্রেম, খুশি ও দেবরাজ। খবর পেয়ে উদ্ধারকাজে নামে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর। রাত ১১টা নাগাদ ওই তিন জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। খুশি-দেবরাজের বাবা স্বপন মণ্ডল বুধবার বলেন, “দশমীর রাতে আমার সর্বনাশ হয়ে গেল। আনন্দ করে ভাইবোন মিলে মেলা দেখতে বেরিয়েছিল। আর ফিরল না।” গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য কংগ্রেসের অশোক সরকার বলেন, “প্রশাসনের তরফে বর্ষায় সময় প্রচার চালানো উচিত। যাতে ছোট নৌকোগুলিতে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানো না হয়।” মালদহের জেলাশাসক কৌশিক ভট্টাচার্য বলেন, “প্রশাসনের তরফে ফেরিঘাটগুলিতে প্রচার চালানো হয়। এ বার প্রচার ও নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।”

মাত্র পাঁচ দিন আগেই  ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রী নিয়ে মহানন্দা নদী পেরোতে গিয়ে চাঁচলের জগন্নাথপুরে নৌকোডুবির ঘটনায় ন’জনের মৃত্যু হয়েছিল। বেশ কয়েক জনের দেহ এখনও উদ্ধার হয়নি। এরই মধ্যে ফের নৌকোডুবির ঘটনা ঘটল।