ব্যবধান শুধু একটি মাসের। সেই একই অভিযোগ। পাল্টে গিয়েছে শুধু অভিযোগকারী। 

অভিযোগ, ভয় দেখিয়ে দলে টানা। এক মাস আগে এই অভিযোগ করেছিল তৃণমূল। অভিযোগের তির ছিল বিজেপির দিকে। এ বার অভিযোগকারী বিজেপি। অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। 

মঙ্গলবার হালিশহরের পরে বৃহস্পতিবার কাঁচরাপাড়া পুরসভার পাঁচ কাউন্সিলর ফিরলেন তৃণমূলে। যদিও তাতে এই পুরসভা তৃণমূলের হাতে এল না। তবে তৃণমূলের দাবি, বোর্ড দখলে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক কাউন্সিলর তাঁদের রয়েছে। দু’-এক দিনের মধ্যে আরও কয়েকজন বিজেপি ছেড়ে ঘাসফুল শিবিরে ফিরবেন। বিজেপির অভিযোগ, ভয় দেখিয়ে তাদের কাউন্সিলর ভাঙাচ্ছে তৃণমূল। প্রয়োজনের সময়ে তাঁরা বিজেপিতেই ফিরবেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কাঁচরাপাড়া পুরসভার পাঁচ কাউন্সিলর বিধানসভায় আসেন। উত্তর ২৪ পরগনার নেতাদের সঙ্গে দেখা করেন। পরে তাঁদের নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। ফিরহাদ বলেন, ‘‘বিজেপি জোর করে, ভয় দেখিয়ে, সন্ত্রাস করে আমাদের কাউন্সিলরদের দিল্লি নিয়ে দলে যোগ দিতে বাধ্য করেছিল। কিন্তু ওই দলে তাঁরা থাকতে চাননি। কাঁচরাপাড়া পুরসভা আমাদের হাতে ছিল, আছে, থাকবে।’’ কিন্তু প্রয়োজনীয় সংখ্যক কাউন্সিলর তো এখনও তাঁদের হাতে নেই? তৃণমূলের উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানান, আরও কয়েকজন কাউন্সিলর তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাঁরাও ফিরবেন। 

দলবদল প্রসঙ্গে বিজেপির এ রাজ্যের পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেন, ‘‘তৃণমূল ভয় দেখিয়ে, বাড়িতে গুন্ডা পাঠিয়ে আমাদের লোকেদের দলে টানছে। তাঁরা ফের বিজেপিতেই আসবেন। তৃণমূলের অনেক নেতা ও জনপ্রতিনিধিও আমাদের দলে আসবেন।’’ একই কথা বলেছেন ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিংহও।

লোকসভা ভোটের ফল ঘোষণার চার দিনের মধ্যে বিজেপি নৈহাটি-কাঁচরাপাড়া-হালিশহরের সিংহভাগ কাউন্সিলরকে দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে তাদের দলে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করে। যে পাঁচ জন এ দিন তৃণমূলে ফিরলেন, তাঁরাও দিল্লিতে গিয়েই বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।