• সুপ্রকাশ মণ্ডল
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

আমপান ক্ষতিপূরণ: ৮৭ জনকে শো-কজ

Amphan
ফাইল চিত্র।

ঝড়ের পরে ফের ঝড় উঠেছিল। আমপানে ক্ষতিপূরণ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগের সেই ঝড়ে নাম জড়ায় শাসক দলের বহু নেতা ও  জনপ্রতিনিধির। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরে অনেকে টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর। এ বার কয়েক জনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করল উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূলও। জেলার ৮৭ জন নেতা এবং জনপ্রতিনিধিকে শো-কজ করা হয়েছে বলে দলের একটি সূত্রের খবর। অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাঁচ জনের কমিটি তৈরি হয়েছে। আমপানের পরে ক্ষতিগ্রস্তদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ক্ষতিপূরণের টাকা জমা পড়া শুরু হতে না হতেই উঠতে থাকে অভিযোগ। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত না হয়েও তৃণমূলের নেতা-নেত্রী, পঞ্চায়েত বা পঞ্চায়েত সমিতির জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের বা আত্মীয়দের নামে টাকা তুলেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। 

জেলা তৃণমূল সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানান, স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে ৮৭ জনকে শো-কজ করা হয়েছে। এঁদের সকলেই হয় দলের পদাধিকারী, না হলে পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি বা পুরসভার জনপ্রতিনিধি। তবে জ্যোতিপ্রিয় জানান, ৮৭ জনের মধ্যে ৮২ জনই টাকা ফেরত দিয়েছেন। বাকি পাঁচজন শো-কজের জবাব দেননি। এই পাঁচজনকে দল থেকে ছেঁটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তবে তা চূড়ান্ত হবে পাঁচ সদস্যের কমিটির সিলমোহরের পরে। যে ৮২ জন শো-কজের জবাব দিয়েছেন, টাকাও ফেরত দিয়েছেন, তাঁদের কি তবে দোষ মাফ হয়ে গেল? 

যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গুরুতর, তাঁদের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি।  অভিযোগের বহরের তুলনায় দল যাঁদের শো-কজ করেছে, সেই সংখ্যাটা নেহাতই কম বলে মনে করছেন দলের নেতাদের একাংশ। বিরোধীদেরও তাই মত। জ্যোতিপ্রিয় বলেন, “যাঁদের নামে তাঁদের কাছে অভিযোগ এসেছে বা সংবাদমাধ্যম থেকে যাঁদের কথা জানা গিয়েছে, তাঁদেরই শো-কজ করা হয়েছে। এরপরে কারও নামে অভিযোগ এলে তা-ও খতিয়ে দেখা হবে।” 

জেলা নেতৃত্ব জানিয়েছেন, এর বাইরে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রশাসনকে তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। তার মধ্যে পঞ্চায়েত ও পুরসভার অন্তত ৫০ জন কর্মী রয়েছেন বলে দলীয় সূত্রের খবর।

বিজেপির বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় বলেন, “যাঁরা দোতলা বাড়িতে বসে ঝড় দেখলেন, তাঁরা ক্ষতিপূরণ পেলেন। সেই সংখ্যাটা কয়েক হাজার। লোকদেখানো ৮৭ জনকে শো-কজ করা হল!” জবাবে জ্যোতিপ্রিয় বলেন, “আমাদের দলে স্বচ্ছতা আছে বলেই পদক্ষেপ হচ্ছে।’’ কিছু ক্ষেত্রে অনৈকিক ভাবে ক্ষতিপূরণের টাকা নেওয়ায় নাম জড়িয়েছে বিজেপিরও। এ প্রসঙ্গে জ্যোতিপ্রিয় বলেন, ‘‘ওঁদের নেতারা ক্ষতিপূরণের টাকায় তিনতলা বাড়িতে বসে আছেন।” 

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন