মোর্চার ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়াই করে কালিম্পং কলেজের ছাত্র সংসদ দখল করতে চলেছে হরকাবাহাদুর ছেত্রীর দলের ছাত্র সংগঠন জন আন্দোলন স্টুডেন্ট ইউনিয়ন।

বুধবার পাহাড়ের তিনটি কলেজে ভোট হয়। তার মধ্যে কালিম্পং কলেজে ২২টি আসনের মধ্যে ১২টিতে জিতেছে হরকাবাহাদুর ছেত্রীর দলের নেতৃত্বাধীন জেএএসইউ’র ছাত্ররা। মোর্চার ছাত্র সংগঠন বিদ্যার্থী মোর্চা পেয়েছে ১০টি আসন। কার্শিয়াং কলেজে ২২টি আসনের মধ্যে ৪টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেতেন টিএমসিপি সমর্থিত প্রার্থীরা। তবে প্রথমে তা টের পেতে দেননি। ফল প্রকাশের পর তৃণমূলের মিছিলে তাঁরা যোগ দেন। বাকি ১৮ টি আসনে এ দিন ভোট হয়। তার মধ্যে ১৫টিতে জিতেছে বিদ্যার্থী মোর্চা। ২টি টিএমসিপি সমর্থিত প্রার্থীরা। সব মিলিয়ে টিএমসিপি-র দখলে এখনও পর্যন্ত ৬টি আসন। এ ছাড়া আরও একটি আসনে দু’জন সমান ভোট পেয়েছেন। দু’জনেই টিএমসিপি-র সমর্থক বলে দাবি করা হয়েছে। সোনাদা ডিগ্রি কলেজের ১১টি আসনের মধ্যে ৪টি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেতেন বিদ্যার্থী মোর্চার ছাত্ররা। ৭টি আসনে এ দিন ভোট হলেও মোর্চার প্রার্থীরাই জিতেছে বলে দাবি করেছে। এখানে টিএমসিপি প্রার্থী দিলেও আসন পায়নি।

দিল্লিতে অহলুওয়ালিয়ার সঙ্গে জাপ সমর্থকেরা। 

এ দিন হরকাবাহাদুর বলেন, ‘‘এই জয় ঐতিহাসিক। এলাকার মানুষ যে আমাদের দিকে রয়েছেন, সেটা স্পষ্ট হল। এই কলেজে আগে ভোট হত না। শাসক দলের ছাত্র সংগঠনের প্রার্থীরাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে আসছেন।’’ ২০১১ সাল থেকে কালিম্পং কলেজের ছাত্র সংসদের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক রয়েছেন বিদ্যার্থী মোর্চার রোশন ছেত্রী। তাঁর দাবি, মাঝে তিন বছর ভোট হয়নি। তাঁর দাবি, বাস্তবে জেএএসইউ ৮টি আসনে জিতেছে। বাকি চার জন বিদ্যার্থী মোর্চার সঙ্গেই রয়েছেন। ছাত্র সংসদ গঠনের সময়ই তা প্রমাণিত হবে। রোশনের অভিযোগ, ‘‘তৃণমূল কলেজের ভোটেও টাকা ছড়িয়েছে। আমাদের ভোটারদের কিনেছে।’’ মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি বলেন, ‘‘কালিম্পং কলেজে ছাত্র সংসদ আমরাই গঠন করব।’’  

তবে টিএমসিপি-র জেলা সভাপতি নির্ণয় রায় বলেন, ‘‘পাহাড়ে মোর্চার পায়ের তলা থেকে জমি হারাচ্ছে, তা স্পষ্ট।’’ পাহাড়ে তৃণমূলের মুখপাত্র বিন্নি শর্মার মতে মাস খানেক আগে কলেজের ভোট ঘোষণার পর এই সময়ের মধ্যে তাদের প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। তবে মোর্চার ছাত্র সংগঠনের নেতা সন্দীপ ছেত্রী বলেন, ‘‘রাজনীতিতে জেতা হারা রয়েছে। আগামীতে সমস্ত আসনে আমরাই জিত।’’