• 8
  • নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ঘেরাও উপাচার্য, ফের অভিযুক্ত তৃণমূলের ছাত্ররা

  • 8

শিক্ষামন্ত্রীর কড়া বার্তা অগ্রাহ্য করে ফের ঘেরাও, অবস্থান-বিক্ষোভ। কাঠগড়ায় সেই তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (টিএমসিপি)। ঘটনাস্থল রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। টিএমসিপি অভিযোগ অস্বীকার করেছে। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় অবশ্য ঘটনার নিন্দা করেছেন।

ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রধান বৃষ্টি বসুর পদত্যাগের দাবি তুলে সোমবার বেলা সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সওয়া পাঁচটা পর্যন্ত একদল পড়ুয়া ঘেরাও করে রাখেন উপাচার্য-সহ কয়েক জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে। ঘেরাওকারীরা সকলেই টিএমসিপি-র সমর্থক বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর। নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ দাস ওরফে বাপ্পা। যাঁর বিরুদ্ধে পরীক্ষায় নকলে বাধা দেওয়ায় শিক্ষককে মারধর, ক্যাম্পাসের ভিতরে এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি-সহ নানা অভিযোগ।

হঠাৎ বিভাগীয় প্রধানের পদত্যাগের দাবি কেন?

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, জানুয়ারির গোড়ায় যে সেমেস্টার পরীক্ষা শুরু হবে, সেখানে পাঠ্যক্রমের বাইরে থেকে প্রশ্ন করে পড়ুয়াদের বিপাকে ফেলতে চাইছেন ইংরেজি বিভাগের প্রধান। তা ছাড়া, অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় যে পরীক্ষা নেয়, সেখানে ছাত্রছাত্রীদের রোল নম্বরের পাশাপাশি নামও লেখা বাধ্যতামূলক করছেন বিভাগীয় প্রধান। আন্দোলনকারীদের দাবি, পরীক্ষার খাতায় নাম লেখা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-র নিয়মের পরিপন্থী। এই দুই কারণে বিভাগীয় প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, ইংরেজিতে স্নাতক-স্নাতকোত্তরে প্রত্যেক পত্রে তিনটি করে কাব্য, গদ্য বা নাটক পাঠ্য আছে। কয়েক বছর ছাত্রছাত্রীদের উপর চাপ কমাতে তিনটির বদলে দু’টি করে কাব্য, গদ্য, নাটক পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় ইংরেজি বিভাগ। কিন্তু বর্তমান বিভাগীয় প্রধান বৃষ্টি বসু জানান, পরীক্ষায় তিনটি পাঠ্যই থাকবে। প্রশ্নও হবে তিনটি থেকে। এতেই ‘পাঠ্যক্রম বহির্ভূত’ প্রশ্ন করে ছাত্রছাত্রীদের ‘বিপাকে ফেলা’র ষড়যন্ত্র দেখছেন আন্দোলনকারীরা।

যার প্রতিবাদে ৩ ডিসেম্বর থেকেই টিএমসিপি-র এই সমর্থকেরা বিক্ষোভ শুরু করেছেন। এমনকী, তাঁরা বৃষ্টিদেবীকে নানা ভাবে তাঁকে হেনস্থাও করছেন বলে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একটা বড় অংশের দাবি। সোমবার সকাল থেকে সেই বিক্ষোভ ঘেরাওয়ের আকার নেয়। সকাল থেকে উপাচার্য সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরীর ঘরের বাইরে ওই বিভাগের স্নাতক এবং স্নাতকোত্তরের একদল পড়ুয়া বৃষ্টিদেবীর পদত্যাগের দাবি তুলে স্লোগান দিতে থাকেন।

কিন্তু পাঠ্যক্রমের তিনটি পাঠ্য পড়তে আপত্তি কোথায়? আন্দোলনকারীদের দাবি, বৃষ্টিদেবী আগে জানাননি যে তিনটি-ই পড়তে হবে। আচমকা অতিরিক্ত পাঠ্য যোগ হলে পরীক্ষায় ফল খারাপ হতে পারে। যদিও ইংরেজি বিভাগ সূত্রের খবর, বৃষ্টিদেবী দায়িত্ব নেওয়ার পর ‘বোর্ড অব স্টাডিজ’-এর বৈঠকে আলোচনা করেই পাঠ্যক্রম চূড়ান্ত হয়। ফ্যাকাল্টি কাউন্সিলেও বিভাগীয় প্রধান চিঠি দেন বলে সূত্রের খবর।

অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের খাতায় নাম লিখতে বলায় ছাত্রছাত্রীদের আপত্তি কেন, তা-ও বোধগম্য হচ্ছে না শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অনেকেরই। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্তা বলেন, “অন্য বিভাগে অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে নাম লেখার দরকার হয় না। তবে এ নিয়ে ইউজিসি-র কোনও নিয়ম নেই।” উপাচার্য সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরী অবশ্য কোনও মন্তব্য করতে চাননি। এ দিন রবীন্দ্রভারতীর ক্যাম্পাসে গিয়ে বৈঠকে ব্যস্ত বৃষ্টিদেবীর সঙ্গে দেখা করা যায়নি। পরে বারবার টেলিফোন করেও যোগাযোগ করা যায়নি তাঁর সঙ্গে। জবাব আসেনি এসএমএস-এর।

শিক্ষামন্ত্রী ঘটনার নিন্দা করে বলেন, “ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ থাকতে পারে। কিন্তু ঘেরাও করা, কারও পদত্যাগের দাবি তোলা ছাত্র সুলভ আচরণ নয়।” সেই সঙ্গেই টিএমসিপি-সভাপতি অশোক রুদ্রর কাছে রিপোর্ট তলব করা হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। অশোকবাবু জানিয়েছেন, মন্ত্রীকে সবিস্তার রিপোর্ট দেওয়া হবে। তবে এই ঘটনায় টিএমসিপি-র কেউ জড়িত নয় বলে তাঁর দাবি। যদিও এ দিন রবীন্দ্রভারতী পৌঁছে দেখা যায়, বাপ্পাই নির্দেশ দিয়ে সংগঠিত করছেন ঘেরাও-আন্দোলন। অশোকবাবুর দাবি, “বাপ্পা ওখানকার ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক। তাই যেতেই পারে। তবে এই আন্দোলন সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের।” একই কথা বলেছেন বাপ্পা নিজেও।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন