পেট্রল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবারও অব্যাহত রইল বিরোধীদের কর্মসূচি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এ দিন ফের সরব হলেন পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে। শিলিগুড়িতে উত্তরকন্যায় এ দিন মমতা বলেন, ‘‘দেশে মূল্যবৃদ্ধি যে ভাবে বাড়ছে, তাতে মানুষের নাজেহাল অবস্থা। এই যে ১৬ দিন ধরে পেট্রলের দাম বাড়ল, এখন ১ পয়সা কমাচ্ছে, এটা দেশের মানুষকে অপমান করা ছাড়া কিছু নয়!’’

কলকাতায় এ দিন বেলা একটা থেকে দেড়টা কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির ডাকা অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেয় বামফ্রন্ট-সহ ১৭টি বামপন্থী দল। পুলিশ জানায়, হাজরা, যাদবপুর, পার্কসার্কাস, কালীঘাট, রাসবিহারী মোড়, গড়িয়াহাট, শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়, মানিকতলা, উল্টোডাঙা, মৌলালি মোড়-সহ শহরের বিভিন্ন রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবরোধের জেরে বেশ কিছু ক্ষণের জন্য গাড়ি চলাচল থমকে যায়। মৌলালির কর্মসূচিতে ছিলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র। পাশাপাশি, পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এ দিন তৃণমূল বিক্ষোভ দেখায় বারাসতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলাশাসকের দফতরের সামনে। সেখানে ছিলেন মন্ত্রী তথা জেলা তৃণমূলের সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, বিধায়ক পার্থ ভৌমিক-সহ এক ঝাঁক নেতা। একই বিষয়ে দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেস এ দিন বিক্ষোভ দেখায় রাজভবনের সামনে। লালবাজারের এক কর্তার দাবি, ‘‘শহরের বিভিন্ন প্রান্তে অবরোধ চললেও তা বেশি ক্ষণ ধরে না হওয়ায় যানজট ছিল না।’’

প্রতিবাদ কর্মসূচির জেরে এ দিন যানজট হয় উত্তর ও পূর্ব শহরতলি, হাওড়া এবং উত্তর ২৪ পরগনাতেও। হাওড়া বঙ্কিম সেতুর নীচ থেকে তৃণমূলের মিছিলের জেরে পঞ্চাননতলা, হাওড়া ময়দান চত্বর, মল্লিকফটকে যানজট হয়। হাওড়ার দাশনগর, বালিটিকুরি, বেনারস রোডে যানজট হয় বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনের অবরোধের জেরে। ব্যারাকপুর চিড়িয়ামোড়, টবিন রোড, নৈহাটি স্টেশন মোড়, বারাসত চঁপাডালি মোড়, বনগাঁ রামনগর-সহ উত্তর ২৪ পরগনার ১৬টি জায়গায় ‘রাস্তা রোকো’ কর্মসূচি নেয় জেলার বামপ্রন্থী শ্রমিক সংগঠনগুলি। বামেদের অবরোধের জেরে যানজটে ফেঁসে যায় বাগুইআটি, লেকটাউন, ভিআইপি এলাকা। বেশি ভোগান্তি হয় এয়ারপোর্ট এক নম্বর গেট এলাকার মানুষজনের।