আবার মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে দেরি করে কলকাতায় নামার অভিযোগ উঠল ইন্ডিগোর বিরুদ্ধে। এ বার বিমানটি বাগডোগরা থেকে কলকাতায় আসে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরে ঘনিষ্ঠ মহলে অভিযোগ করেন, বিমানটি নেমেছে আধ ঘণ্টা দেরিতে।

২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে ইন্ডিগোর বিমান পটনা থেকে দেরি করে কলকাতায় নামার পরে মমতা অভিযোগ করেন, ইচ্ছা করে দেরি করিয়ে, জ্বালানি ফুরিয়ে ফেলে তাঁকে হত্যার চক্রান্ত করা হয়েছিল। সেই ঘটনা নিয়ে সরব হয় সংসদ। থানায় মামলা হয়। বসিয়ে দেওয়া হয় তিন পাইলটকে।

কলকাতা বিমানবন্দর সূত্রের খবর, শুক্রবার বিকেলে বাগডোগরা থেকে নির্ধারিত সময়ের (৪টে ৩৫ মিনিট) এক মিনিট আগেই মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে গড়াতে শুরু করে ইন্ডিগোর বিমান। ওড়ে ৪টে ৩৯ মিনিটে। বিমানটি (ফ্লাইট নম্বর ৬ই ৫৩৪)-র কলকাতায় নামার নির্ধারিত সময় ছিল বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিট। তার চার মিনিট পরে, ৫টা ৪৯ মিনিটে বিমানটি মহানগরীর মাটি ছোঁয়। কিন্তু টার্মিনালে গিয়ে যাত্রীদের নামাতে নামাতে ৫টা ৫৮ মিনিট হয়ে যায়।

আপাতদৃষ্টিতে চার মিনিট দেরি মনে হলেও বিমানবন্দর সূত্রে জানানো হয়, বাগডোগরা থেকে বিমানটি উড়ে বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ চলে আসে কলকাতার আকাশে। আগের বার পটনা থেকে আসা ইন্ডিগোর বিমান আকাশে অপেক্ষমাণদের লাইনে ন’নম্বরে ছিল। এ দিনও ঠিক সেই ন’নম্বরেই অপেক্ষা শুরু করে ইন্ডিগো। এখানে অপেক্ষা অর্থে চক্কর। মমতার ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, বিমান যে কলকাতার উপরে চলে এসেছে, সেটা মুখ্যমন্ত্রী বুঝে যান। তখন থেকে আধ ঘণ্টা পরে মুখ্যমন্ত্রী বিমান থেকে নেমে আসেন। সেই জন্যই আধ ঘণ্টা দেরির কথা বলেন তিনি।

কেন চক্কর? বিমানবন্দরের খবর, সকাল থেকে প্রধান রানওয়েতে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছিল। বিমান ওঠানামা করছিল দ্বিতীয় রানওয়ে থেকে। মুখ্যমন্ত্রীর বিমানও সেখানে নেমেছে। প্রধান রানওয়েতে ঘণ্টায় ৩৫টি বিমান ওঠানামা করতে পারে। দ্বিতীয় রানওয়েতে ১৫টি। ফলে এ দিন সকাল থেকেই কলকাতায় নামার আগে আকাশে চক্কর কাটতে হয় বেশির ভাগ বিমানকে। ব্যতিক্রম হয়নি মুখ্যমন্ত্রীর বিমানেরও।

বিমানবন্দরে নেমে সোজা নবান্নে যান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে গুজরাতের নেতা হার্দিক পটেলের দেখা করার কথা ছিল। নবান্নে ঢোকার মুখে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ওই তো আবার দেরি হয়ে গেল! ৩৫ মিনিট চক্কর কাটতে হল। কেন হল, জানি না।’’