কৃষকদের সমস্যা মেটাতে বিজেপির মতোই তৃণমূলের কোনও আন্তরিক উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ করলেন সর্বভারতীয় কিসান কংগ্রেসের সভাপতি নানা পাটোলে। তৃণমূলের সরকারের কৃষক-নীতির সমোলোচনা করেই বৃহস্পতিবার বর্ধমানের জামালপুরে আত্মঘাতী আলু চাষি গোলাম আম্বিয়া মল্লিকের বাড়িতে গিয়েছিলেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সংগঠনের ওই নেতা। তাঁর দাবি, তিন রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরে কংগ্রেসের সরকার কৃষকদের দুর্দাশা ঘোচাতে তৎপর হয়েছে। কেন্দ্রে ক্ষমতায় এলেও কংগ্রেস একই ভাবে কৃষকদের পাশে থাকবে।

বিধান ভবনে এ দিন পাটোলে বলেন, ‘‘উৎপাদনের খরচ মাথায় রেখে কংগ্রেসের সরকার এখন ধানের জন্য সহায়ক মূল্য দিচ্ছে কুইন্টাল প্রতি ২৭৫০ টাকা। সেই সঙ্গে তিনশো টাকা ইনসেনটিভ। এ রাজ্যে তৃণমূলের সরকার তো তার চেয়ে অনেক কম টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেছে।’’ সম্প্রতি কলকাতায় এসে সহায়ক মূল্য নিয়ে একই কথা বলেছিলেন সিপিএমের কৃষক সভার সর্বভারতীয় সভাপতি অশোক ধওয়েলেও। কংগ্রেসের পাটোলের আরও অভিযোগ, ‘‘তৃণমূলের সরকারের মুখে কৃষকের কথা বলে। কিন্তু বাংলায় কৃষক-রাজ চলছে না, চলছে দালাল-রাজ!’’ বিধান ভবন থেকেই বর্ধমানে যান পাটোলে। বাংলায় কৃষকদের অবস্থা সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট তাঁর দেওয়ার কথা এআইসিসি-কে। যার প্রেক্ষিতে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য, লোকসভা ভোটের আগে রাজ্যে তৃণমূলের প্রতি ‘নরম’ মনোভাব নিচ্ছে না এআইসিসি। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্রিগে়ড সমাবেশে আসার আহ্বানে সাড়া না দেওয়ার জন্য প্রদেশ নেতৃত্বের আর্জি নিয়ে রাহুল গাঁধী এখনও কোনও কথা বলেননি।

পাটোলের অভিযোগ খারিজ করে তৃণমূলের তরফে অবশ্য পাল্টা বলা হয়েছে, ‘ফড়ে-রাজ’ খতম করতে নিজেই সক্রিয় হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। কৃষকদের হাতে সরাসরি ফসলের দাম পৌঁছে দেওয়ার জন্য ‘নিজের চেক নিজে নিন’ প্রকল্পে জোর দেওয়া হচ্ছে।