এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগে নাম জড়াল তৃণমূল নেতার ছেলের। সোমবার ডেবরা থানায় নিগৃহীতার বাবা অভিযোগ করেছেন। সাংসদ দীপক অধিকারীর (দেব) প্রতিনিধি তথা তৃণমূলের জেলা নেতা তথা অলোক আচার্যের ছেলে চন্দ্রকান্ত ওরফে ক্যাপ্টেন-সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ পাঁচজনকে ধরলেও রাত পর্যন্ত গ্রেফতার হয়নি চন্দ্রকান্ত।

বিকেল পর্যন্ত বছর আঠারোর তরুণীরও খোঁজ ছিল না। সন্ধ্যায় পুলিশ রাধামোহনপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করে। তাঁর মেডিক্যাল পরীক্ষা হয়েছে। ধৃতদের মেদিনীপুর জেলা আদালতে তোলা হলে ৯ দিন পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ হয়। খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজি সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, “ধর্ষণের মামলা রুজু করেছি। ৫ জন গ্রেফতার হয়েছে। অভিযুক্ত সকলের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

ওই তরুণী শোনপাপড়ি কারখানায় কাজ করেন। পরিবার সূত্রের খবর, রবিবার সন্ধ্যায় কাজ সেরে পাশের গ্রামে বান্ধবীর বাড়িতে গিয়েছিলেন তিনি। তার পরেই নিখোঁজ হয়ে যান। অভিযুক্তদের অন্যতম তরুণ সর্দারের দাবি, রবিবার সন্ধ্যায় তার সঙ্গে কথা বলছিলেন তরুণী। তখন কয়েকজন এসে তাকে মারধর করে। ওই যুবকেরাই তরুণীকে টেনে মাঠ লাগায়ো ডিপ টিউবওয়েলের পাম্পঘরে নিয়ে যায়। সেখানেই তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। তরুণের কথা মতো তল্লাশি চালিয়ে বাড়ি থেকেই সুধা দাস, শ্রীমন্ত দাস, কিঙ্কর মণ্ডল ও শুভঙ্কর দাসকে পাকড়াও করে পুলিশ। নির্যাতিতার দিদি বলেন, “অলোক আচার্যের ছেলের নামে বাবা অভিযোগ জানালেও কেন গ্রেফতার হয়নি বুঝতে পারছি না।” বিজেপির জেলা সভানেত্রী অন্তরা আচার্য বলেন, “তৃণমূলের নেতা বলে অলোক আচার্যের ছেলে গ্রেফতার হয়নি।” অলোক অবশ্য বলেন, “ক্যাপ্টেনের ছেলের ওই দিন অন্নপ্রাশন ছিল। রাত ১টা পর্যন্ত খাওয়া দাওয়া চলেছে। আমি ও ছেলে অতিথিদের নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। রাতে খবর পেয়ে মেয়েটির খোঁজ করেছি। এখন বিজেপি ছেলের নাম জড়িয়ে মূর্খের রাজনীতি করছে।”

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।