বেসরকারি সংস্থার ভাড়া করা বিমানে আজ, বুধবার পশ্চিমবঙ্গ সফরে কলকাতা আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে কলকাতা থেকে তারাপীঠ বা পুরুলিয়ায় দলীয় কর্মসূচিতে তাঁর হেলিকপ্টারে যাওয়ার কথা। দু’দিনের সফর সেরে আবার বৃহস্পতিবার বিকেলে অন্ডাল বিমানবন্দর থেকে চার্টার্ড বিমানেই তাঁর দিল্লি উড়ে যাওয়ার কথা।

ফ্যালকন ২০০০ গোত্রের চার্টার্ড বিমানে শাহ আসছেন। ৮-১০ আসন বিশিষ্ট ওই ধরনের বিমানে ২৪ ঘণ্টার জন্য খরচ আনুমানিক ১৯ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে ল্যান্ডিং, পার্কিং, যাত্রী পরিষেবা এবং বিমানচালক ও বিমানের অন্য কর্মীদের থাকা-খাওয়ার খরচও ধরা হয়। এখনও পর্যন্ত শাহর যে সফরসূচি বিজেপির তরফে দেওয়া হয়েছে, তাতে আজ বেলা ১১টায় কলকাতায় পৌঁছনোর কথা তাঁর। আবহাওয়া ও অন্য সব পরিস্থিতি ঠিকঠাক থাকলে কাল বিকেল পাঁচটায় অন্ডাল থেকে বিমান ধরার কথা শাহর। ফলে প্রায় ৩০ ঘণ্টা রাজ্যে থাকছেন শাহ। এই ৩০ ঘণ্টার জন্য চার্টার্ড বিমানে স্বভাবতই খরচ ১৯ লক্ষ টাকার থেকে খানিক বেশি হওয়ার কথা।

তার উপর কলকাতা থেকে তারাপীঠ এবং পুরুলিয়া হেলিকপ্টারে যাওয়া-আসা করলে তার আলাদা খরচ রয়েছে। এমনকী, যদি তিনি হেলিকপ্টার ব্যবহার নাও করেন, তা হলেও তা ভাড়া নিয়ে রাখার জন্যও খরচ দিতেই হবে। এটাই নিয়ম। কী ধরনের হেলিকপ্টার শাহর জন্য নেওয়া হচ্ছে, তা অবশ্য এখনও স্পষ্ট নয়।

আরও পড়ুন: রাজ্যে আজ শাহ, নজরে পুরুলিয়াই

বিজেপির নেতার যাতায়াতের জন্য এই বিপুল খরচের জোগান নিয়ে প্রশ্ন তুলল তৃণমূল। দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় মঙ্গলবার বলেন, ‘‘যারা এত অর্থিক সংস্কারের কথা বলে, তাদের নেতার জন্য এত বিপুল অর্থের জোগান কোথা থেকে আসছে? নেতার যাতায়াতের মতোই এক এক রাজ্যে ভোটে হোসপাইপের মতো এত টাকা কী ভাবে একটি রাজনৈতিক দল খরচ করছে?’’ বিজেপিকে আক্রমণ করে পার্থবাবু বলেন, ‘‘দুর্নীতি রয়েছে বলে অন্য দলের পিছনে নানা সংস্থা লাগিয়ে দিচ্ছে, আর নিজেরা বিপুল অর্থব্যয় করছে। মানুষকে বিভ্রান্ত করে ক্ষমতা দখল করতে চাইছে ওরা। মানুষ তো এই টাকার উৎস জানতে উৎসুক।’’

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের পাল্টা জবাব, ‘‘ মানুষের দেওয়া টাকা। সংগঠন নেতার সফরের জন্য খরচ করছে। ওঁর সময় কম। তাই বিমান, হেলিকপ্টার ব্যবহার করছেন।’’