ঢাকের বাদ্যিতে তখন কান পাতা দায়। সঙ্গে চলছে শঙ্খধ্বনি।

তারই মধ্যে তারাপীঠ মন্দিরের ভিআইপি প্রবেশপথের সামনে গাড়ি থেকে নামলেন অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার ঘড়িতে তখন ১১টা ২৫ মিনিট। মন্দিরের আশপাশে হোটেল, লজ, বাড়ির ছাদে তখন কৌতূহলী মানুষের ভিড়। এক পলক তাঁদের দিকে হাত নেড়েই মূল মন্দিরে ঢুকে যান বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি।

আম, কলা, নারকেল, বেদানা সহ পাঁচ রকমের ফল ছিল তাঁর নৈবদ্যের থালা। ছিল পদ্ম, জবা, আকন্দ ফুলের মালা, এক কিলোগ্রাম পেঁড়া, শৃঙ্গার সামগ্রী। মন্দির সূত্রে খবর, সবুজ রঙের বেনারসী, চুরণি দেবীমূর্তিতে নিজের হাতে জড়িয়ে দেন অমিত। মায়ের চরণ স্পর্শ করে শুরু করেন আরতি। পুরোহিতদের জানান, দেশের মঙ্গলকামনাতেই পুজো দিলেন। পুজোর পরে নৈবদ্যের থালা থেকে ফল, মিষ্টি দেবীকে নিজের হাতে খাইয়ে সেই প্রসাদ গ্রহণ করেন তিনি।

বিজেপির শীর্ষনেতার পাশে ছিলেন তারাপীঠের পুরোহিত বামাচরণ মুখোপাধ্যায়, নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়, বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়, পুলক চট্টোপাধ্যায়, অশোক মুখোপাধ্যায়। মন্দির থেকে বেরিয়ে আসার আগে সেবায়েতদের তরফে মা তারার প্রতিকৃতি ও তারাপীঠের ইতিহাস সম্বলিত কয়েকটি বই অমিতের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

তারাপীঠ মন্দিরে দলের শীর্ষনেতার সঙ্গে ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, কেন্দ্রীয় নেতা সুরেশ পুজারি, বীরভূম জেলা পর্যবেক্ষক সমীরণ সাহা, রাজ্য সম্পাদক রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়। অমিত শাহের তারাপীঠ সফরের জেরে নিরাপত্তাজনিত কারণে এ দিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে মন্দিরে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য পুজো দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছিল। বিজেপি নেতা থেকে চলে যাওয়ার পরে মন্দিরের দরজা সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়। পুজোর পরে তারাপীঠের পুরোহিতদের সঙ্গে আলোচনার জন্য মন্দির লাগোয়া কার্তিক মঞ্চে ব্যবস্থা থাকলেও ১১টা ৫০ মিনিটে অমিত শাহ মন্দির থেকে বেরিয়ে চলে যান।

গত রাতের বৃষ্টির পরে এ দিন সকালে দলের শীর্ষনেতার কর্মসূচি সফল করা নিয়ে চিন্তায় ছিলেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা। এ দিন সকালে বৃষ্টি বন্ধ হতেই কড়কড়িয়া, তারাপুর, তারাপীঠ, ফুলিডাঙা, সাহাপুর, মল্লারপুরের আট থেকে আশি ভিড় জমান সরস্বতী শিশুমন্দির স্কুলের মাঠে। সেখানেই নামে অমিতের হেলিকপ্টার। হেলিপ্যাডের বাঁশের ব্যারিকেডের বাইরে জমে ভিড়। ১১টা কুড়ি মিনিটে অপেক্ষা শেষ হয়। হেলিকপ্টার থেকে নামেন অমিত শাহ, দিলীপ ঘোষ। সরস্বতী শিশুমন্দির থেকে তারাপীঠ মন্দির পর্যন্ত সাঁইথিয়া-রামপুরহাট সড়কের পাশে কড়কড়িয়া মোড়, ফুলিডাঙা মোড়, তারাপীঠ-পালপাড়া মোড়, তিনমাথা মোড়, পাণ্ডাপাড়া মোড়ে তাঁকে দেখতে দাঁড়িয়েছিল জনতা।