শরীর বেজায় কাবু তাঁর। সে খবর মিলেছিল বুধবার রাতেই। আর সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ ছড়িয়েছিল সম্ভবত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপি-তে। যত বার অমিত শাহের বাংলা সফর নির্ধারিত হচ্ছে, তত বারই বাতিল হয়ে যাচ্ছে কোনও না কোনও কারণে। এ বারও কি তেমনই হবে? উদ্বেগে ছিল মুরলীধর সেন লেন। কিন্তু তিনি নিজেও যে সমান উদ্বেগে, এইমস থেকে বার্তাটা আসার আগে তা বোধহয় বুঝতে পারেনি বঙ্গ বিজেপি। বিন্দুমাত্র সংশয়ে থাকার দরকার নেই, ২০ জানুয়ারি তিনি বাংলায় অবশ্যই পৌঁছচ্ছেন— বাংলার বিজেপি নেতৃত্বকে এমনটাই জানিয়ে দিয়েছেন অমিত শাহ।

বুধবার সকালের বৈঠকে স্থির হয়েছিল যে ২০, ২১ এবং ২২ জানুয়ারি বাংলায় মোট পাঁচটি সভা করবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। বুধবার রাতে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় এবং জানা যায় যে তিনি সোয়াইন ফ্লুয়ে আক্রান্ত।

প্রাক-ভোট মরশুমে রোজই ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে বিজেপি সভাপতির। এইমসে যে ক’দিন ভর্তি থাকবেন, সেই দিনগুলোর নির্ধারিত সূচি স্বাভাবিক ভাবেই বাতিল হবে বা পিছিয়ে যাবে। ফলে ২০ জানুয়ারির আগে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও বাংলা সফরের কর্মসূচি অবিকৃত থাকবে, নাকি পিছবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছিল। কিন্তু বিজেপি সভাপতির তরফ থেকে বাংলার বিজেপি নেতৃত্বকে বুধবার রাতেই জানিয়ে দেওয়া হয় যে, কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়া বা বাতিল করার কথা ভাবার কোনও প্রয়োজন নেই। ২০ জানুয়ারি মালদহে, ২১ জানুয়ারি সিউড়ি ও ঝাড়গ্রামে এবং ২২ জানুয়ারি কৃষ্ণনগর ও জয়নগরে জনসভা হবেই।

সর্বভারতীয় সভাপতির তরফ থেকে আসা এই আশ্বাস স্বস্তি এনে দেয় রাজ্য বিজেপিতে। বৃহস্পতিবার সকালেই মালদহ, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম, নদিয়া ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় পৌঁছে সভার প্রস্তুতি শুরু করে দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত রাজ্য বিজেপির শীর্ষনেতারা নিয়েছিলেন, সে সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।

আরও পড়ুন: দেশের ৯৩ শতাংশ রাজনৈতিক চাঁদাই গিয়েছে বিজেপির তহবিলে, প্রকাশ নয়া রিপোর্টে

রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ বৃহস্পতিবার পৌঁছে যান দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরে। ২২ জানুয়ারি সেখানে অমিত শাহের সভা হওয়ার কথা। দলের জেলা নেতৃত্বকে নিয়ে সেখানে প্রস্তুতি বৈঠক করেছেন দিলীপ।

রাজ্য বিজেপির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক মুকুল রায় এবং রাজ্য সাধারণ সম্পাদক রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় গিয়েছেন মালদহে প্রস্তুতি বৈঠক করতে। কৃষ্ণনগরে চলে গিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিংহ। ঝাড়গ্রামে প্রস্তুতি বৈঠক সেরেছেন রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু। আর সিউড়ি গিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়, রাজ্য সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) সুব্রত চট্টোপাধ্যায় এবং বিশ্বপ্রিয় রায়চৌধুরী।

আরও পড়ুন: যদি ভাল না লাগে, দল ছাড়ুন শত্রুঘ্ন, হুঁশিয়ারি বিজেপির

ঝাড়গ্রাম থেকে ফোনে সায়ন্তন বসু বললেন, ‘‘অমিতজির হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নিয়ে অবশ্যই আমাদের উদ্বেগ রয়েছে। কিন্তু জনসভা বাতিল হওয়ার কোনও সম্ভাবনাই নেই। অমিতজি-ই বার্তা পাঠিয়েছেন, যে কোনও মূল্যে ২০, ২১ এবং ২২ জানুয়ারি মেগা জনসভার আয়োজন করতে হবে পাঁচ জেলায়। তাই আমরা পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছি।’’ অমিত শাহের কর্মসূচি ফের বাতিল হচ্ছে, এমন কোনও বার্তা তিনি নিজেও আর দিতে চাইছেন না বলে বিজেপি সূত্রের খবর। তাই আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবারই পাঁচ জেলায় বৈঠক করে পূর্ণ উদ্যমে কর্মী-সমর্থকদের মাঠে নামানোর কাজ শুরু করে দিলেন বিজেপি নেতারা।

(পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার খবর এবং বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাংলায় খবর পেতে চোখ রাখুন আমাদের রাজ্য বিভাগে।)