নবান্ন অভিযানে পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধের ঘটনার জেরে ধৃত ২৩ জন বাম যুব ও ছাত্রকে জামিন দিল আদালত। সিঙ্গুর থেকে নবান্ন অভিযানের দ্বিতীয় দিনে, শুক্রবার হাওড়ার মল্লিক ফটকে বাম মিছিলকে বাধা দিয়েছিল পুলিশ। সেখানেই তুলকালাম বাধে এবং ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয় ২২ জনকে। পরের দিন গড়িয়া থেকে আরও এক জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের শনিবার জেল হাজতে পাঠিয়েছিলেন হাওড়া আদালতের বিচারক। তবে সোমবার ওই ২৩ জন যুব ও ছাত্রকেই এক হাজার টাকা করে বন্ডের বিনিময়ে নিঃশর্ত জামিন দিয়েছে আদালত। 

বাম যুব নেতৃত্ব জানিয়েছেন, পুজোর পরেই তাঁরা আবার কর্মসূচি নিয়ে রাস্তায় নামবেন।

জেল থেকে এনে ২৩ জনকে আদালতে তোলা উপলক্ষে এ দিন হাওড়া আদালত চত্বরে জমায়েতের ডাক দিয়েছিল বাম যুব ও ছাত্র সংগঠনগুলি। অন্য আইনজীবীদের সঙ্গেই ধৃত সতীর্থদের হয়ে আদালতে সওয়াল করতে দাঁড়িয়েছিলেন এসএফআইয়ের রাজ্য সভাপতি প্রতীক উর রহমান। আদালত সকলকে জামিন মঞ্জুর করার পরে ওই এলাকায় মিছিলও করেন বাম যুব ও ছাত্রেরা। তবে আপাতত জামিন হলেও নবান্ন অভিযানে পুলিশের ‘হামলা’ নিয়ে সংঘাত অব্যাহত। ডিওয়াইএফআই নেতৃত্ব ইঙ্গিত দিয়েছেন, সে দিনের অভিযানে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তাঁরা পাল্টা আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন। বিশেষত, যুব ও ছাত্র সংগঠনের মহিলাদের উপরে পুরুষ পুলিশ দিয়ে ‘হামলা’র অভিযোগে তাঁরা সরব। রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কেও বিষয়টি রবিবার জানানো হয়েছিল।

মুক্তির পরে। বাম যুব ও ছাত্ররা। —নিজস্ব চিত্র।

ছাত্র সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সুজন চক্রবর্তী এ দিন বলেন, ‘‘কাজের দাবিতে মিছিল করতে গিয়ে যুব ও ছাত্রেরা মার খেয়েছিল, গ্রেফতার হয়েছিল। যাঁরা এই কাজ করেছেন, তাঁদেরই কেউ কেউ এখন গ্রেফতারি এড়াতে পালানোর পথ খুঁজছেন! কিন্তু কেউ পার পাবেন না।’’ ডিওয়াইএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক সায়নদীপ মিত্রের বক্তব্য, ‘‘রাস্তার লড়াই চলবে। ন্যায্য দাবি নিয়ে আমরা আবার পথে নামব।’’ বাম সূত্রে খবর, পুজোর পরে রেল দফতর অভিযানের ডাক দিতে পারে যুব সংগঠন।