এত দিন যে নাম নিয়ে প্রচুর গুঞ্জন ছিল, সেই বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে এ বার প্রকাশ্যেই মুখ খুললেন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। জানিয়ে দিলেন, বৈশাখী তাঁর পারিবারিক বন্ধু। বিপদের দিনে বৈশাখী ও তাঁর পরিবার যে ভাবে শোভনের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা তিনি কখনওই ভুলবেন না।

মঙ্গলবার কলকাতা পুরসভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন শোভন। সেখানেই এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বৈশাখী সম্পর্কে মন্তব্য করেন, “ওই মানুষটা আমার বিপদের বন্ধু!”

শোভন কলকাতা পুরসভার মেয়রের পাশাপাশি রাজ্যের তিনটি দফতরের মন্ত্রীও বটে। সম্প্রতি জল্পনা শুরু হয়, এই সব গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পাশাপাশি তিনি দলও ছেড়ে দিতে চলেছেন। কিন্তু, সেই সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে এ দিন মেয়র জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ফোন করেছিলেন। যে যে দায়িত্ব তিনি সামলাচ্ছেন, সেগুলো তাঁকে চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে, মমতার সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় বৈশাখী-প্রসঙ্গ ওঠেনি বলেই জানিয়েছেন শোভন।

আরও পড়ুন
দ্বন্দ্ব মেটাল দল-শোভন

গত নভেম্বরে স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করেন শোভন। তার পর থেকেই মেয়রের সঙ্গে নাম জড়িয়েছে কলেজ শিক্ষিকা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বিভিন্ন মহলের জল্পনা ছিল, বৈশাখীর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে শোভনের। এ দিন অবশ্য সে সমস্ত জল্পনাকে উড়িয়ে দিয়েছেন শোভন। তাঁর কথায়, “বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করার পর থেকে বৈশাখী যে ভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা আমার স্ত্রী রত্নাও জানেন। আমি সে সব কখনই ভুলব না। বৈবাহিক জীবনে রত্না এবং আমি যে ভাবে বৈশাখী ও তাঁর পরিবারের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত সাহায্য পেয়েছি, তা বাইরে থেকে কেউ উপলব্ধি করতে পারবেন না।” তিনি আরও বলেন, “আমার বিপদের দিনে যিনি পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই বিপদের বন্ধুর পাশে থাকব, তাঁর উপর যদি আঘাত আসে, তা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।’’

আরও পড়ুন
ভুল কেন্দ্রে ছাত্রী, বাইকে বসিয়ে ছুটল পুলিশ

সম্প্রতি তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠন ওয়েবকুপা-র রাজ্য কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ফলে কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন ওয়েবকুপা-র সাধারণ সম্পাদক বৈশাখী। এ প্রসঙ্গে মেয়রের মন্তব্য, “ওয়েবকুপা দলের একটি শাখা সংগঠন। ওয়েবকুপা ভেঙে দল তা নতুন করে গড়লে, আমার কোনও বক্তব্য নেই। তবে, আমার সঙ্গে কারও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার জন্য বা পাশে দাঁড়ানোর জন্য ওয়েবকুপা ভেঙে দেওয়া হয়, আমাকে স্বাভাবিক ভাবেই তা মর্মাহত করে। আমি চাইব, এর প্রতিকার হোক।”

আরও পড়ুন
ছেলে দিচ্ছে মাধ্যমিক, তাই ভোজ

‘ব্যক্তিগত সম্পর্ক’ ছাড়াও দলীয় দায়িত্ব নিয়ে তাঁর গাফিলতির অভিযোগে সম্প্রতি শিরোনামে শোভন চট্টোপাধ্যায়। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই কার্যত কাউন্সিলরের টিকিট পাওয়া। তবে, ইদানীং তৃণমূল তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ছে কি না, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়। নজরুল মঞ্চে দলের কোর কমিটির বৈঠকে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে অনুপস্থিত থাকা, পুর বাজেটে দেরি করে আসা, কলেজ শিক্ষিকা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নাম জড়িয়ে যাওয়া— নানা ভাবেই অস্বস্তিতে পড়েছেন শোভন। ইতিমধ্যে তাঁর জেড ক্যাটেগরির নিরাপত্তাও চলে গিয়েছে। তবে এ সব নিয়ে এ দিন কোনও মন্তব্য করেননি তিনি।