তৃণমূলে দলীয় কোন্দল নিতান্তই চেনা ঘটনা। নির্বাচনের মুখে, দলের অন্দরেই তা নিয়ে ভুরি ভুরি অভিযোগও উঠতে দেখা গিয়েছে।

তবে দুয়ারে নির্বাচন, তাই সে  ব্যপারে ‘অভিযুক্ত’কে সতর্ক করা ছাড়া শীর্ষ নেতৃত্ব তেমন কড়া পদক্ষেপ করেছেন, এমন নজির ছিল না। ফল প্রকাশের পরেই সে ছবিটা বদলে গিয়েছে দ্রুত। দল-বিরোধী কাজের জন্য, সরিয়েই দেওয়া হল নদিয়া জেলা সভাধিপতি বাণীকুমার রায়কে।

ফল প্রকাশের পরের দিনটাই সভাধিপতি পদে তাঁর শেষ দিন— নদিয়া জেলা জুড়ে দলীয় নেতাদের মোবাইলে খবরটা ছড়িয়ে গিয়েছিল রাতারাতি। বাণী শেষ চেষ্টা করেছিলেন, পরের দিন সাত সকালেই ছুটে গিয়েছিলেন কালীঘাটে। কাজে দেয়নি। তিরস্কারের পরে, তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিতটা সে দুপুরেই পেয়ে গিয়েছিলন তিনি। আর দিনান্তে স্পষ্ট হয়ে যায়, গুজব নয়, বাস্তবিকই সরতে হচ্ছে বাণীকুমার রায়কে।

বুধবার যখন দলনেত্রী কালীঘাটের বৈঠক থেকে জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন, বাণী তখনও বসে জেলা পরিষদে নিজের চেম্বারে। ফাইলে মুখ গুজে কাজ করছিলেন তিনি। বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমে দলনেত্রীর নির্দেশের কথা জানতে পারেন। বৃহস্পতিবার সকালে, সে কথাই, তাঁকে আনুষ্ঠানিক ভাবে জানিয়ে দেন দলের জেলা সভাপতি গৌরিশঙ্কর দত্ত। এ দিন বাণী বলেন, “দলনেত্রীর নির্দেশ দলের জেলা সভাপতি আমাকে জানিয়েছেন। আমি সোমবার পদত্যাগপত্র জেলাশাসকের কাছে জমা দিয়ে দেব।”

কি অভিযোগ বাণীর বিরুদ্ধে? তৃণমূল সূত্রের খবর এ বার, বিধানসভা নির্বাচনে বাণী দলের বিক্ষুদ্ধদের মদত দিয়ে অন্তর্ঘাত করেছেন। যার জেরেই হেরে গিয়েছেন, রানাঘাট (দক্ষিণ) কেন্দ্রের প্রার্থী আবির বিশ্বাস এবং রানাঘাট (উত্তর পশ্চিম) কেন্দ্রের পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায়। আবীর এবং সমীর পোদ্দার (রানাঘাট -উত্তরপূর্ব কেন্দ্রের প্রার্থী) বাণীর বিরুদ্ধে দল-বিরোধী কাজে মদত দেওয়ার অভিযোগ এনেছিলেন আগেই। শান্তিপরে অজয় দে’র পরাজয়ের পিছনের বাণীর হাত রয়েছে বলে দলের একাংশ মুখ ভার করেছিল। এমনকী ওই এলাকায় প্রকাশ্যে জোট প্রার্থীর হয়ে কাজ করার অভিযোগও ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। প্রচারে মমতা নদিয়া এলে তাঁকেও শুনতে হয়েছিল ওই অভিযোগ। সে বার, মমতা যে বাণীকে সতর্কও করেন, দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে তা-ও। ‘‘তবে তাতে বিশেষ হেলদোল হয়নি বাণীদার’’, বলছেন জেলা নেতাদেরই এক জন।