হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে স্কুলের ব্যানার পোস্টার খুলতে গিয়ে এ দিনও রীতিমতো ব্যর্থ হয়েই ফিরতে হল প্রশাসনকে। সোমবার অবশ্য স্কুলের ব্যানার খোলা নিয়ে একপ্রস্থ নাটক হয়। গত কয়েক দিন ধরে বাধা দিলেও মহকুমাশাসক নিহতদের পরিবারের লোকদের সঙ্গে কথা বলে এ দিন ব্যানার খোলাতে রাজি করান। সেই মতো নিহত রাজেশ সরকার এবং তাপস বর্মনের বাবা নীলকমল সরকার এবং বাদল বর্মন ব্যানার খুলতে যান। কিন্তু সে সময় ব্যানার খুলতে বাধা দেন পড়ুয়াদের একাংশই। 

সেই পড়ুয়াদের সঙ্গে ছিলেন নিহত রাজেশের বোন মৌ-ও। তিনি বলেন, ‘‘স্কুলের ব্যানার আমাদের কোনও সমস্যা করছে না। আমাদের দাদাদের ব্যানার খুলতে হলে আমাদের মেরেই খুলতে হবে।’’ স্কুলের কিছুটা দূরেই পুলিশ পিকেট ছিল। তবে ছাত্রছাত্রীদের বাধার মুখে কোনও জোর খাটাতে চায়নি প্রশাসন। নিহত তাপসের মা মঞ্জু বর্মন ও রাজেশ সরকারের মা ঝর্না সরকার বলেন, ‘‘আদালতকে সম্মান জানিয়ে এ দিন ওই পোস্টার খুলে দিতে রাজি হই আমরা। ছাত্রছাত্রীরা যদি ব্যানার না খুলতে দেয় তা হলে আমাদের কী করার আছে।’’

সে কারণে আদালতের নির্দেশ মেনে স্কুল থেকে ব্যানার সরানো সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে মহকুমা প্রশাসনের তরফে ওই ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে পড়ুয়াদের বোঝাতে বলা হয়েছে। ইসলামপুরের মহকুমাশাসক মণীশ মিশ্র বলেন, ‘‘আদালত ব্যানার সরাতে বলেছে। এর আগেও এসে নিহতদের পরিবারকে এবং পড়ুয়াদের বুঝিয়েছি। এ দিন ফের তাদের বোঝানো হয়েছে। অভিভাবকেরা মেনে নিয়েছে। ছাত্রছাত্রীরাও ব্যানার খোলার বিষয়টি মেনে নেবে বলেই আমরা আশাবাদী।’’

এ দিন ছাত্রছাত্রীদের ব্যানার খুলতে বাধা দেওয়ার বিষয়টি পরিকল্পনা করেই করা বলে তৃণমূলের একাংশ মনে করছেন। এ সবের পিছনে বিজেপির হাত রয়েছে বলেই শাসকদলের অনেক নেতার ধারণা। বিজেপির জেলা সহকারী সভাপতি সুরজিৎ সেন বলেন, ‘‘শাসক দলের মিথ্যা, ছল-চাতুরি ধরা পড়ে গিয়েছে। মানুষের মন ঘোরাতে বিজেপিকে তারা দোষারোপ করছে। আমরা আদালতের নির্দেশকে সম্মান করি। নিহতদের পরিবারের ন্যায্য দাবির পিছনে আমরা সব সময় রয়েছি।’’

বৃহস্পতিবার আদালত প্রশাসনকে নির্দেশ দেয় স্কুল থেকে ব্যানার পোস্টার খোলার। পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ রাখতে ব্যবস্থা নেওয়ার। স্কুলের চারপাশে পুলিশ পিকেট বসাতে। ওই দিন বিডিও গিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ব্যর্থ হয়েই ফিরতে হয় তাঁকে। শনিবার মহকুমাশাসকও ঘণ্টাখানেক সেখানে থেকে ব্যর্থ হয়ে ফেরেন। সোমবার সকালে মহকুমাশাসককে নিহতদের পরিবারের লোকেরা জানিয়েছিলেন স্কুলের থেকে ব্যানার খুলে নেওয়ার বিষয়ে। দুপুর আড়াইটে নাগাদ মহকুমাশাসক মণীশ মিশ্র দাড়িভিট স্কুলে পৌঁছন। আলোচনায় বসেন নিহতদের পরিবারের সঙ্গে। স্কুলের অন্য ব্যানার খুললেও গেটে থাকা ব্যানার ও স্কুলের মাঠের ধর্নামঞ্চ তারা সরাবেন না বলে জানান। বিকেলে ব্যানার খুলতে যান নিহত দুই ছাত্রের রাজেশ ও তাপসের বাবা। তখনই মাঠে থাকা পড়ুয়ারা তাদের বাধা দেন। ছাত্রছাত্রীদের পক্ষে জয়ন্তী মণ্ডল বলেন, ‘‘আমাদের স্কুলের পোস্টার আমাদের পড়াশোনার কোনও বিঘ্ন ঘটাচ্ছে না। সিবিআই তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ব্যানার থাকবে।’’