চার ধারে এত নেতিবাচক কথা আর ভাল লাগে না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি নিজে সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক ভাবেন। অন্যেরাও যাতে ওই পথ নেন, বৃহস্পতিবার নবান্ন সভাঘরে বিশ্ব বাংলা পুজোর পুরস্কার বিতরণের অনুষ্ঠানে সেই অনুরোধ জানান মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, ‘‘চার বছরেই কার্নিভালের কথা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। দেখিয়ে দিয়েছি যে, আমরা পারি। তার পরেও সমালোচনা!’’ মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, ‘‘সমালোচনা হোক। তাতে আমার কোনও আপত্তি নেই। উচিত সমালোচনা মানতে আমি রাজি। কিন্তু চার দিকে শুধু নেতিবাচক কথা। শুধু নেগেটিভ কথা। আমি ইতিবাচক কথা শুনতে চাই। এত নেতিবাচক কথা আর ভাল লাগে না।’’

যাঁরা নেগেটিভ চিন্তা করেন, সেই সব মানুষকে যে তাঁর ভাল লাগে না, সেটা স্পষ্ট জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘আমি কোনও নেগেটিভ জিনিস পছন্দ করি না। আমি সব সময় পজিটিভ চিন্তা করি। বাংলার কৃতী ছেলেমেয়েরা বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছেন। ভাষা থেকে নাসা— সব জায়গায় আছেন বাঙালিরা। বাংলাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’’ মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের প্রতি ‘খোঁচা’ দেখছেন অনেকেই। যদিও এ দিন বিশেষ কারও নাম করেননি মমতা।

পুজো কার্নিভাল দেখে অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা হলেও তিনি ব্যথিত বলে মন্তব্য করেছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। তাঁর বক্তব্য ছিল, আমন্ত্রণ জানিয়েও তাঁকে যথাযোগ্য সম্মান দেয়নি রাজ্য সরকার। প্রশাসনের অনেকে মনে করছেন, বৃহস্পতিবার নবান্ন সভাঘরে ঘুরিয়ে তার জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে একটি বারের জন্যও কারও নাম মুখে আনেননি তিনি। 

‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’, ‘পাবলিক সেফটি’ থিমের ভিত্তিতে যাঁরা পুজো করেছেন, এ দিন ওই মঞ্চেই তাঁদের পুরস্কার দেয় কলকাতা পুলিশ। সেরার সেরা হিসেবে ২৭টি পুজো কমিটি, বিশ্ব বাংলার বিশেষ পুরস্কার হিসেবে ২২টি পুজো কমিটি এবং বিভিন্ন থিমের জন্য কয়েকটি কমিটিকে পুরস্কার দেওয়া হয়।

মুখ্যমন্ত্রী এ দিন শহরের সেরা পুজো, সেরা প্রতিমা, সেরা পরিবেশ, সেরা আলোকসজ্জা, সেরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সেরা ট্যাবলো-সহ বিভিন্ন সেরা দুর্গাপুজো কমিটিকে পুরস্কার দেন। তিনি বলেন, ‘‘কার্নিভাল অনেক দেশেই হয়। কিন্তু কলকাতার দুর্গাপুজোর কার্নিভালকে আমরা বিশ্বের কাছে নিয়ে গিয়েছি। চার বছর হল, আমরা কার্নিভাল করছি। ‘ইউনেস্কো’ আগামী বছর পুজোকে নিচ্ছে।’’ মুখ্যমন্ত্রী জানান, শুধু বড় বড় ক্লাবই পুজো করে না। 

ছোট ক্লাব সুন্দর সুন্দর পুজো করছে। আরও ভাল পুজো করতে হবে। লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হয় পুজোর মধ্য দিয়ে।