নিজের দফতরের কর্মীদের মন দিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিতে গিয়ে নিজেরই উদাহরণ দিলেন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।

শনিবার খাদ্য দফতরের তৃণমূল সমর্থিত রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের প্রথম রাজনৈতিক সম্মেলন়ের মঞ্চে তিনি বলেন, ‘‘আপনাদের অফিস আসার আগে আমি কিন্তু অফিসে ঢুকে যাই। আপনারা জানেন সেটা? সকলকে ভাল কাজ করতে হবে। সময় মেনে চলতে হবে। কাজের সময় মিটিং-মিছিল করা যাবে না। আমি ফাঁকি মারি না। আপনাদের ক্ষেত্রেও একদম ফাঁকি দেওয়া যাবে না!’’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সরকারি দফতরগুলিতে কর্মসংস্কৃতি ফেরানোর উপরে জোর দিচ্ছেন। কাজের সময় মিটিং-মিছিল কার্যত এই সরকারের আমলে বন্ধই হয়ে গিয়েছে। খাদ্য দফতরের এক শ্রেণির কর্মচারীর কর্মসংস্কৃতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা মহলে অভিযোগ রয়েছে। এ দিন খাদ্যমন্ত্রীর কথাতেও তা কিছুটা স্পষ্ট। তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের গায়ে অনেক কালি লেগে গিয়েছে। ফেডারেশন করার পরও খাদ্য দফতরের কাজের কর্মী হিসাবে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে হবে। মিছিল নিশ্চয় করবেন, কিন্তু নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে করতে হবে।’’

শাসক দলের কর্মী ফেডারেশনের সম্মেলন হলেও খাদ্যমন্ত্রী আসলে দফতরের সব কর্মীদের জন্যই এই বার্তা দিয়েছেন বলেই ধরে নেওয়া যায়। তবে মন্ত্রী এ দিন শুধু মন দিয়ে কাজ করার কথাই বলেননি, কর্মচারীদের জন্য কিছু সুযোগ-সুবিধার কথাও ঘোষণা করেছেন। যেমন, ধান সংগ্রহের কাজে যে সমস্ত সরকারি কর্মীরা যুক্ত থাকেন, তাঁরা নিজেদের ব্লকেই কাজ করবেন। অন্য কোথাও যেতে হবে না। একই সঙ্গে ধান সংগ্রহের কাজে অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হলে কর্মচারীদের কিছু আর্থিক সুবিধা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী। 

ফেডারেশনের সম্মেলনের অভ্যর্থনা কমিটির চেয়ারম্যান সমীরণ রায় জানান, ধান সংগ্রহের কাজে অনেক সময় রাত হয়ে যায়। ফলে অন্য জেলায় কাজে যেতে
হলে বাড়ি ফিরতে কর্মীদের সমস্যা হত। পাশাপাশি বেশি সময় কাজ করলে কিছু আর্থিক সুবিধাও পাওয়া যাবে বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে এই ঘোষণা ‘বড় প্রাপ্তি’ বলেই তাঁর মত।