• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বীরভূম-মুর্শিদাবাদে মনোনয়নেও ‘ভূত’

BJP, Congress and CPM

শাসক দলের সন্ত্রাসের জেরে তারা পঞ্চায়েত ভোটের মনোনয়ন জমাই দিতে পারছে না। বিরোধীদের এই অভিযোগ নিয়ে তরজা গড়িয়েছে আদালতেও। অথচ, সোমবারের  মনোনয়নের উপরি দিনে বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদে বিরোধীরা জানতেই পারল না, মনোনয়ন জমা পড়ে গেল তাদের নামেই!  বিজেপি, বাম এবং কংগ্রেসের দাবি, রাজ্যে গণতন্ত্র আছে, প্রমাণ করতে ওই সব ‘ভূতুড়ে’ মনোনয়ন জমা দিয়েছে তৃণমূলই।  

 বীরভূম জেলা পরিষদের মোট আসন ৪২। জেলা প্রশাসনের হিসেব বলছে, সোমবার সেখানে আরও ১৪টি আসনে মনোনয়ন জমা পড়েছে। তার মধ্যে আগের দফায় কেবলমাত্র তৃণমূলের তরফেই ৪২টিতে মনোনয়ন জমা পড়েছিল। সোমবার আরও চারটি আসনে মনোনয়ন জমা পড়ে। জেলা পরিষদের ১০টি আসনেও সোমবার বিরোধীদের মনোনয়ন জমা পড়েছে। তার মধ্যে সিপিএমের তিন, বিজেপি দুই, ফরওয়ার্ড ব্লক দুই, কংগ্রেস এক এবং নির্দলের পক্ষ থেকে দু’টি আসনে মনোনয়ন জমা পড়েছে।

সোমবারের আগে পর্যন্ত বীরভূম জেলা পরিষদে বিরোধীদের কোনও প্রার্থীই ছিলেন না! সে কথা মনে করিয়ে সিপিএমের জেলা সম্পাদক মনসা হাঁসদা বলছেন, ‘‘আমরা তো ব্লক কিংবা মহকুমাশাসকের অফিস— সোমবারও কোথাও পৌঁছতে পারিনি। অথচ আমাদের নামে মনোনয়ন জমা পড়েছে বলে শুনছি।’’ কী করে হল? বিজেপির জেলা সভাপতি রামকৃষ্ণ রায়ের কথায়, ‘‘শান্তিপূর্ণ মনোনয়নপর্ব দেখাতে তৃণমূলই বিরোধীদের নামে মনোনয়ন জমা করিয়েছে। এ সবই ওদের কারসাজি। গুন্ডা তৃণমূল দেখেছি, খুনি তৃণমূল দেখেছি। এ বার জালিয়াত তৃণমূলও দেখলাম।’’ বিরোধীদের ব্যাখ্যা, সোমবার মনোনয়ন জমা দেওয়া প্রার্থীরা আগামী দিনে যখন দলীয় চিহ্ন পাবে না, তখনই সব প্রমাণ হয়ে যাবে।

অভিযোগ মানতে চাননি তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব। তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের বক্তব্য, ‘‘আমরা কেন অন্য দলের হয়ে মনোনয়ন জমা দিতে যাব।’

মুর্শিদাবাদের হিসেব বলছে, সোমবার জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের তিনটি  স্তরেই প্রায় ২০০ আসনে বিরোধীদের মনোনয়ন জমা হয়েছে। অথচ তিন দলের নেতাদের দাবি, এর একটা বড় অংশেই তাঁদের প্রার্থী মনোনয়ন জমা করেননি। অন্য  কেউ তাঁদের নামে জমা করেছে।

সিপিএমের মুর্শিদাবাদ জেলা সম্পাদক মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্য জানান, ‘‘নিজেদের অপরাধ ঢাকতে বাকি আসনে আমাদের নামে প্রার্থী দাঁড় করিয়েছে তৃণমূল। পরে তুলে নেবে।’’

কংগ্রেসের জেলা সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘‘২৬টি ব্লকের মধ্যে ১৪টি ব্লকে আমাদের প্রার্থী নেই। সাত দিনে যেখানে আমরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারিনি, মাত্র চার ঘন্টায় এত জমা পড়ল কী করে? এর কোনও বাস্তবতা নেই। গোটাটাই তৃণমূলের লোকজন করেছে।’’

বিজেপি-র মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি গৌরীশঙ্কর ঘোষ জানান, সোমবার বহরমপুর মহকুমাশাসকের অফিসে গিয়ে তাঁরা জেলা পরিষদের একটি আসনে মনোনয়ন জমা দিতে পেরেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘এ ছাড়া আমরা জেলার আর কোথাও, কোনও গ্রাম পঞ্চায়েত বা পঞ্চায়েত সমিতিতে মনোনয়ন দিতে পারিনি।’’ মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূল সভাপতি সুব্রত সাহা বলেন ‘‘দু’একটা বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া মনোনয়ন জমা দেওয়ার মত পরিস্থিতি যে জেলায় ছিল।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন