• বিশ্বনাথ চক্রবর্তী
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

পঞ্চায়েতের অবশিষ্ট প্রতিযোগিতায় কোন দল কোথায় দাঁড়িয়ে

Flag

মনোনয়ন জমা দেওয়ার দীর্ঘ বিতর্ক এবং আদালতে আইনি ল়ড়াইয়ের পর অবশেষে সোমবার আংশিক ভাবে পঞ্চায়েত নির্বাচন হতে চলেছে। এই প্রথম কোনও পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৩৪ শতাংশ আসনের ভাগ্য আদালতের রায়ের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকল। ১৬৮১৪টি গ্রাম পঞ্চায়েত, ৩০৫৯টি পঞ্চায়েত সমিতি, ২০৩টি জেলা পরিষদ আসন তৃণমূল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হলেও আদালতের রায়ের উপরই এই জয় নির্ভর করবে। তবে এ কথা অনস্বীকার্য যে, রাজ্যের গ্রামাঞ্চলের তিন ভাগের এক ভাগ ভোটার নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে বাইরে থাকছে সোমবার। অবশিষ্ট যে ৬৬ শতাংশ আসনে পঞ্চায়েত নির্বাচন হচ্ছে, সেখানকার প্রতিযোগিতার চিত্রটাই বা কি দাঁড়াল?

জেলা পরিষদস্তরে ৮২৫টি আসনের মধ্যে সোমবার ৬২১টি আসনে ভোট নেওয়া হবে। এর প্রতিটি আসনেই তৃণমূল প্রার্থী দিয়েছে। তৃণমূলের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠা আসা বিজেপি ৬২১টি আসনের মধ্যে ৫৭৫টি আসনে লড়াইয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, ৩৪ বছর  রাজ্যে শাসন করা বামেরা মাত্র ৫৬২টি আসনে প্রার্থী দিতে সক্ষম হয়েছে। রাজ্যে ৪০ বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বৃত্তের বাইরে থাকা কংগ্রেস জেলা পরিষদে ৩৫৩ টি আসনে নামতে পেরেছে।

পঞ্চায়েত সমিতির ৯২১৭টি আসনের মধ্যে সোমবার ভোট হচ্ছে ৬১১৯টি আসনে। শাসক দল প্রতিটি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। বিজেপি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ৪৯৫০, বামের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে ৪৩৪১টি আসনে এবং কংগ্রেস ১৪০৮টি আসনে।

এ বারের নির্বাচনে গ্রাম পঞ্চায়েতস্তরের মোট আসন হল ৪৮৬৫০। ভোটগ্রহণ হচ্ছে ৩১৭৮৯ আসনে। এর মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে প্রার্থী রয়েছে ৩১৭০৯, বিজেপি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ২২৬৩৭টি আসনে, বামফ্রন্ট ১৬৬৯৯টি আসনে, কংগ্রেস ৫৯৩৪টি আসনে।

সামগ্রিক ভাবে ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে যে ৩৮৫২৯টি আসনে সোমবার ভোটগ্রহণ পর্ব চলবে, তার মধ্যে তৃণমূলের একারই প্রার্থী রয়েছে ৩৮৪৪৩। অর্থাৎ, মোট প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক আসনের নিরিখে ৯৯.৭৭ শতাংশ আসনে শাসক দলের প্রার্থী রয়েছে। পঞ্চায়েতের তিনটি স্তরে সর্বসাকুল্যে বিজেপির প্রার্থী ৩৮১৬২টি আসনে। যা মোট প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক আসনের ৭৩.০৯ শতাংশ। অন্যদিকে, বামেরা ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে ২১০৬২টি আসনে প্রতিযোগিতায় নামতে পেরেছে। যা মোট আসনের ৫৬.০৭ শতাংশ।

আরও পড়ুন: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের ইতিহাস গড়ে পৌনে ২ কোটি ভোটারকে বঞ্চিত করা হল

শাসক দলকে নিজের ছায়ার বিরুদ্ধেও লড়তে হচ্ছে

আপাতত যে কেন্দ্রগুলিতে ভোট হচ্ছে, সেগুলিতে তৃণমূলের প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপি হলেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শাসক দলকে কিন্তু নিজের ছায়ার বিরুদ্ধেও লড়তে হচ্ছে। অর্থাৎ, গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদ স্তরে তৃণমূলকে দলেরই বিক্ষুব্ধ অংশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে হয়েছে। আদালতে লড়াইয়ের ফলে শাসক দল অনেকটা সময় পেয়েছিল নিজের দলের বিক্ষুব্ধ প্রার্থীদের প্রতিযোগিতা থেকে সরিয়ে আনতে। কোথাও কোথাও অভিযোগও উঠেছিল, দলের বিক্ষুব্ধ প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র চাপ দিয়ে ওঠানোর, কোথাও কোথাও আবার পুলিশ প্রশাসনকে কাজে লাগানো হয়েছিল দলীয় বিক্ষুব্ধদের প্রতিযোগিতা থেকে সরাতে। মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের পর দেখা গিয়েছে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধদের মধ্যে জেলা পরিষদ স্তর থেকে প্রায় ১৩৪ জন প্রতিযোগিতা থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন, নেতৃত্বের চাপে ফলে বা আলোচনায়। সংখ্যাটি পঞ্চায়েত সমিতির ক্ষেত্রে ২৪০৭, গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষেত্রে ৭০৩৩। এর পরও হুগলি, বর্ধমান, মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের বহু আসনেই শাসক দলের প্রতীক বনাম আম-কাঠাল জো়ড়া পাতার চিহ্নের লড়াই দেখা যাচ্ছে। উত্তর দিনাজপুরের চোপড়াতে একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতে লড়াই শাসক দল বনাম শাসক দলের বিক্ষুব্ধদের মধ্যে। দলীয় প্রার্থী নির্বাচনে ব্যর্থ হওয়ায় জেলা নেতৃত্ব ও রাজ্যে নেতৃত্ব এই লড়াইকে মান্যতা দিয়েছে। দলীয় নেতৃত্ব স্থির করেছে, যাঁরা নির্বাচনে জিতে আসবেন, তাঁরাই সরকারি ভাবে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হবেন। তবে, বহু জায়গাতেই গৃহ বিবাদে ইতিমধ্যেই বহু রক্ত ঝরেছে। বিক্ষুব্ধ হওয়ার মাশুল দিতে হয়েছে অনেককেই। ভোটের দিন এই বিক্ষুব্ধ প্রার্থীর সঙ্গে সরকারি শাসক দলের প্রার্থীদের বিবাদ চরম আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা। এতে নষ্ট হতে পারে ভোটের পরিবেশও।

শাসক দলের বিরুদ্ধে বিজেপি কোথায় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে

রাজ্যের যে ২৩টি জেলায় সোমবার ভোটগ্রহণ, সেই ২৩টি জেলার মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যা, প্রচারের বহর এবং লড়াইয়ের মানসিকতার নিরিখে বিজেপি মাত্র ১০টি জেলাতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। এই দশটি জেলা হল— উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ এবং দক্ষিণবঙ্গের অন্য চারটি জেলা হল নদিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং পুরুলিয়া।

তফশিলি জনজাতি কেন্দ্রগুলিতে বিজেপির প্রভাব কি বাড়ল?

এ বারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র থেকে একটি বিষয় উঠে আসছে তা হল, রাজ্যের যে ১৬টি তফশিলি জনজাতির জন্য বিধানসভা কেন্দ্র সংরক্ষিত রয়েছে, তার অধিকাংশ আসনেই তৃণমূলের প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপি। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে, ২০১৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি মাদারিহাট উপজাতি কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিল। শুধু তাই নয়, সারা রাজ্যে দশ শতাংশের মতো ভোট বিজেপি পেলেও উপজাতি কেন্দ্রগুলিতে বিজেপির ভোট কিন্তু উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছিল। যেমন আলিপুরদুয়ার জেলায় প্রায় ২৪ শতাংশ ভোট পেয়েছিল বিজেপি, জলপাইগুড়িতে ১৪ শতাংশ। সমগ্র জঙ্গলমহল এলাকায় প্রায় ১৩ শতাংশের মতো ভোট পেয়েছিল বিজেপি। পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিধানসভাভিত্তিক প্রতিযোগিতা চিত্র থেকে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি তপশিলি জনজাতিদের জন্য সংরক্ষিত কেন্দ্রগুলিতে বামেদের ছাড়িয়ে তৃণমূলের সঙ্গে জবরদস্ত লড়াইয়ে সম্মুখীন হয়েছে— কুমারগ্রাম, কালচিনি, মাদারিহাট, নাগরাকাটা, মাল, তপন, হাবিবপুরের মতো উত্তরবঙ্গের আসনগুলিতে। অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গে জনজাতিদের জন্য সংরক্ষিত নয়াগ্রাম, বিনপুর, বান্দোয়ান, কেশিয়াড়ি, রানিবাঁধ, রায়পুর, মানবাজার কেন্দ্রগুলিতে।

বিজেপি কোথায় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেই

রাজ্যের ৩৩০টি পঞ্চায়েত সমিতির মধ্যে শাসক দল ইতিমধ্যেই ১২৫টি পঞ্চায়েত সমিতিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছে (যদিও সুপ্রিম কোর্টে এই জয়ের মীমাংসা হবে)। এর বাইরে দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ সংখ্যালঘু আসনে বিজেপি প্রার্থী দিতে পারেনি। ওবিসি-এ ক্যাটাগরিভুক্ত সংরক্ষিত দশ শতাংশ আসনের মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিজেপি কোনও প্রার্থী দিতে পারেনি। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর যেমন রয়েছে তেমনই দক্ষিণবঙ্গের বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা এবং এমনকী নদিয়ার সংখ্যালঘু প্রধান অধিকাংশ জায়গায় বিজেপি প্রার্থীর সংখ্যা হাতে গোনা। রাজ্যের ৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু মানুষকে এখনও বিজেপি শাসক বিরোধী লড়াইয়ে সামিল করতে পারেনি। সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় থেকে জ্যোতি বসু হয়ে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়— সকলেই রাজ্যপাটে বসেছিলেন সংখ্যালঘুদের বিপুল সমর্থন নিয়ে। সংখ্যালঘু সমর্থন বাদে বিজেপির পক্ষে রাজ্যে পরিবর্তন ঘটানো আদতেও কি সম্ভব?

আরও পড়ুন: সিপিএম পদ্ম আঁকছে, কটাক্ষ

আরও পড়ুন: ‘নিজের ভোট এ বারও নিজেই দেব’, শতবর্ষ পার করেও অবিচল বৃদ্ধ​

বামেরা কোথায় লড়াইয়ে রয়েছে

এক সময়কার বামেদের শক্ত ঘাঁটি কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ির মতো উত্তরবঙ্গের জেলাতেও যেমন বামেরা ৫০ শতাংশের বেশি আসনে প্রার্থী দিতে পারেনি, তেমনই দক্ষিণবঙ্গের লালদুর্গ বর্ধমান (পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান), বাঁকুড়া, হুগলি, হাওড়াতেও বামেদের প্রতিযোগিতার চিত্রে সাংগঠনিক রক্ত স্বল্পতা ধরা পড়েছে। পূর্ব বর্ধমানের ১১৩৩টি গ্রাম পঞ্চায়েত আসনের মধ্যে বামেরা ৬৮০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে পেরেছে। পশ্চিম বর্ধমানের ৩০১টি গ্রাম পঞ্চায়েত আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে তার মধ্যে ২১৪টি আসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে। যে জঙ্গলমহল এক সময় বামেরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা অধিকাংশ আসন জয় লাভ করত সেখানেও স্পষ্ট রক্তক্ষয় ধরা পড়েছে। ঝাড়গ্রামের যে ৭৮০টি গ্রাম পঞ্চায়েতে ভোট নেওয়া হচ্ছে, তাতে বামের কেবল ১৯৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে, যেখানে বিজেপি ৭০০টি আসেন, তৃণমূল ৭৮০ টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ২৩টি জেলা পরিষদের কোনও একটিতেও বামেদের সঙ্গে তৃণমূলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা নেই। প্রচারের নিরিখেও তৃণমূল এবং বিজেপির তুলনায় বামেরা ছিল জৌলুসহীন।

প্রতিযোগিতায় কংগ্রেস কোথায়

২০১১তে তৃণমূল রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর ২০১৩-এর পঞ্চায়েত নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ, মালদহ জেলা পরিষদ দখল করেছিল কংগ্রেস। ’১৩ নির্বাচনে কংগ্রেস জেলা পরিষদে প্রায় ১৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরের কংগ্রেস ৫৪৯৫টি আসন পায়। যা মোট গ্রাম পঞ্চায়েত আসনের ১১.২৭ শতাংশ। পঞ্চায়েত সমিতির কংগ্রেসের আসন ছিল ৯১৮টি। যা মোট আসনের দশ শতাংশ। জেলা পরিষদ স্তরে কংগ্রেস পেয়েছিল ৭৭টি আসন। যা মোট আসনের ৯.৩৪ শতাংশ। এ বার মনোনয়ন পর্বেই কংগ্রেস মুর্শিদাবাদ থেকে ছিটকে গিয়েছে। মুর্শিদাদের ৭০টি আসনের মধ্যে মাত্র ১৭টি আসনে প্রার্থী দিতে পেরেছে। অন্যদিকে মালদহে জেলা পরিষদের ৩৮টি আসনের মধ্যে ৩২টি আসনে প্রার্থী রয়েছে। জেলায় বিজেপির উত্থানের পর সংখ্যালঘুরা তৃণমূলের পক্ষে ভোট দিয়ে কংগ্রেস কতটা প্রতিযোগিতায় থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকবে। অন্যদিকে উত্তর দিনাজপুর জেলায় একের পর এক কংগ্রেস নেতা তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় দল যে দুর্বল হয়েছে তা মনোনয়নের নিরিখেই বোঝায় যা। ২৬টি জেলা পরিষদের আসনের মধ্যে কংগ্রেস কেবল ১৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এক সময় পুরুলিয়াতে কংগ্রেসের প্রভাব থাকলেও ক্রমে সেই প্রভাব ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। নেপাল মাহাতোর প্রভাব এক সময়ে ঝালদা-বাগমুন্ডি এলাকায় থাকলেও, এ বাবের পঞ্চায়েত কংগ্রেস অনেকটাই কোণঠাসা।

প্রচারের ধার ও ভার

বিরোধীরা যখন আদালতের দোরগোড়ায় নক করছিল, রাজ্যের শাসক দলের মন্ত্রিসভার সমস্ত সদস্যই (মুখ্যমন্ত্রী বাদে) রাজ্যজুড়ে একের পর এক জনসভা করে তৃণমূলের সমর্থনে ভোট প্রার্থনা করছিল। ব্যানার-পোস্টার, মিটিং–মিছিলের তৃণমূলের ধারের কাছে কোনও বিরোধী ছিল না। শাসক দলের শিক্ষক সংগঠন থেকে ঠিকাদার সংগঠন, ছাত্র সংগঠন থেকে মহিলা সংগঠন, সাংস্কৃতিক মঞ্চ থেক খেলার মঞ্চ সবাইকে ভোট প্রচারে নামাতে সক্ষম হয়েছিল। সঙ্গে ছিল টালিগঞ্জ পাড়ার একাধিক অভিনেতা-অভিনেত্রী। তৃণমূলের প্রচারের মূল স্লোগান ছিল স্থানীয় স্তরের উন্নয়ন এবং বিরোধীদের কুৎসা-অপপ্রচার। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী পক্ষ হিসেবে বিজেপির তরফে রাজ্য সভাপতি জেলায় জেলায় ঘুরলেও কেন্দ্রীয় নেতাদেরকে সেই ভাবে পঞ্চায়েত নির্বাচনে নামাতে পারেনি। বামেদের প্রচার ভাবনাতেও নতুনত্বের কোনও ছোঁয়া ছিল না। গতানুগতিক কর্মী সভাতেই সীমাবদ্ধ ছিল সূর্যকান্ত মিশ্র-সুজন চক্রবর্তীদের প্রচার। সব মিলিয়ে এ বারের পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রচারের ধার-ভারে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধীদের থেকে সহস্র যোজন এগিয়ে ছিল।

শেষ পর্যন্ত ভোটটা নির্বিঘ্নে হবে তো?

ঘটনাবহুল ঐতিহাসিক পঞ্চায়েত নির্বাচন, মনোনয়ন পর্বে যে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম দেখেছে তা রাজ্য রাজনীতির ইতিহাসে কলঙ্কজনক এক অধ্যায়। প্রচার পর্বেও মৃত্যুর মিছিল অব্যাহত ছিল। এমনকী, নিরাপত্তা সংক্রান্ত হাইকোর্টের চূড়ান্ত অবস্থার পর ভোট গ্রহণের আগে বিগত ৪৮ ঘণ্টায় রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ গিয়েছে চার জনের। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন অন্তত দশ জন। বহু বাড়ি-সম্পত্তি এই ৪৮ ঘণ্টায় ধ্বংস হয়েছে। এর পরই লাখ টাকা প্রশ্ন, ভোটের দিন যে সব ভাগ্যবান ভোটার ভোট দেবার সুযোগ পেয়েছেন, তাঁরা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন তো? বিগত নির্বাচনগুলির মতো পাড়ার মোড়ে মোড়ে লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে থাকা কর্মীদের বাধায় বাড়ি ফিরে আসতে হবে না তো? বুথে গিয়ে শুনতে হবে না তো আপনার ভোট হয়ে গিয়েছে? হাতে কালি লাগিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেবে না তো? ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ বা দলীয় কর্মীরা নির্দিষ্ট চিহ্নে ভোট দিতে বাধ্য করবে না তো ? বুথ জ্যাম করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রেখে মানুষকে বাড়ি ফিরিয়ে দেবে না তো? ভোটের আগের দিন রাতে বাড়িতে এসে ভোটদান থেকে বিরত রাখতে হুঁশিয়ারি দিয়ে যাবে না তো কেউ?  তার পরও যদি কেউ ভোট দেয়, বাড়ি আক্রমণ করবে না তো? সংশয় অনেক। ভয়ের কারণও অনেক। হাইকোর্টের রায়ের প্রেক্ষিতে পুলিশ আধিকারিকরা ভোটের দিন তাঁদের দায়িত্ব পালন করবেন তো? ভোটারদের অবস্থা অনেকটা ‘ঘর পোড়া গরু, সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়’ এমন। বার বার একই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয় ভোটারদের, এর থেকে মুক্তির উপায় কী?

গ্রাফিক: শৌভিক দেবনাথ

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন