• বরুণ দে
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বিরোধী নেই, বোমাবাজি তবু থামে না

বিতর্ক, অশান্তির ইতিবৃত্ত, দৈনন্দিন জীবনে রাজনীতির টানাপড়েন— বিভিন্ন এলাকার ভোটচিত্রের তথ্যতালাশ আজ শুরু

Bombing

পঞ্চায়েত সমিতি দখলে এসেছে ভোটের আগেই। ব্লকের বেশিরভাগ গ্রাম পঞ্চায়েতেও শাসক দলের আধিপত্য নিরঙ্কুশ। তবু এখনও রাতবিরেতের বোমাবাজি ঘুম কাড়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের।

এলাকাবাসীর একটা বড় অংশের অভিজ্ঞতা, প্রায় বিরোধীশূন্য কেশপুরে লড়াইটা এখন তৃণমূল বনাম তৃণমূলেই! কে কত বড় নেতা, কার প্রভাব কত বেশি তা নিয়ে বোমাবাজি শুরু হয় যে কোনও সময়। স্থানীয় বাসিন্দা রূপসানা খাতুনের কথায়, “বোমা-গুলির শব্দে রাতে ঘুমোতে পারি না!” তবে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ‘তত্ত্ব’ খারিজ করে তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতির দাবি, “দলে তেমন কোনও দ্বন্দ্ব নেই।”

চলতি বছরের গোড়ায় শাসক দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে কেশপুরের কেঁওসা গুলি-বোমায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খুন হন চিত্ত ভুঁইয়া নামে এক তৃণমূলকর্মী। তৃণমূলের অন্দরের খবর, এলাকায় দল পরিচালনায় এক দিকে রয়েছেন ব্লক সভাপতি সঞ্জয় পান। প্রাক্তন ব্লক সভাপতি শেখ মহিউদ্দিন, চিত্ত গড়াইরা বিপক্ষ গোষ্ঠীর নেতা। চিত্ত ভুঁইয়া ছিলেন মহিউদ্দিনদের গোষ্ঠীতে। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এক সময় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল, যে প্রায় এক বছর নিজের এলাকায় ঢুকতে পারেননি বিধায়ক শিউলি সাহা। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সমঝোতা-সূত্র বেরনোর পরেও সম্প্রতি এলাকায় যেতে দলেরই একাংশ তাঁকে হেনস্তা করে বলে অভিযোগ।

পঞ্চায়েত সমিতির ৪৫টি আসনের মধ্যে ২৪টিতে শুধু তৃণমূলেরই প্রার্থী রয়েছে। বাকি ২১টি আসনে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন ৫৩ জন। বিজেপি সেখানে দুই, নির্দল এক। গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৩০টি আসনের মধ্যে ১৮৮টিতে শুধু তৃণমূলের প্রার্থী রয়েছে। বাকি ৪২টিতে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন ৯৩ জন। নির্দল এক জন। কেবল জেলা পরিষদের তিনটি আসনে তৃণমূলের পাশাপাশি বিরোধীদের প্রার্থী রয়েছে।

বাম-আমলে কেশপুরের ‘প্রাণকেন্দ্র’ ছিল সিপিএমের কেশপুর জোনাল কমিটির অফিস, জামশেদ আলি ভবন। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পরে সম্প্রতি ধুলো সরিয়ে সেখানে বসতে শুরু করেছেন বাম-কর্মীরা। তবে মাঝেমধ্যেই সে পার্টি অফিসে তালা ঝোলে। বিরোধীদের এমন অবস্থার পরেও কেশপুরে সংঘর্ষ থামছে না কেন? সঞ্জয়বাবু বলেন, “কী থেকে, কী হয় সব পুলিশ জানে! কেউ গোলমাল করলেই গোলমাল হবে!” আর মহিউদ্দিনের বক্তব্য, “সঞ্জয় পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে নিজের মতো করে দল চালান। পুলিশ শুধু ওঁর কথাই শোনে।” পক্ষপাতের অভিযোগ মানেনি পুলিশ। তবে দুই নেতার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, কেশপুরে ‘লড়াই’ জারি রয়েছে।

যদিও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অস্তিত্ব না মেনে কেশপুর পঞ্চায়েত সমিতির  সভাপতি তৃণমূলের শুভ্রা দে সেনগুপ্ত দাবি করেন, “শান্তির থেকে বড় কিছু হয় না। কেশপুরে এখন সেটা আছে!”

তাই কি?

হাসেন ফেরিওয়ালা শেখ শাহজাহান।  তাঁর কথায়, “আগের আমলে (বাম) এলাকায় গোষ্ঠী ছিল না, বিরোধী ছিল। তাই ঝামেলা হত। এখন সবাই একই দলের। তবু বোমাবাজি থামে না!’’

 

(চলবে)

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন