সেপ্টেম্বরে সূচনার কয়েকটা দিন বাদ দিলে পশ্চিমবঙ্গে ইভিপি বা ভোটার তথ্য যাচাই কর্মসূচি ধারাবাহিক ভাবে ঝড় তুলেছিল। কিন্তু পুজোর সময় তাতে কিয়দংশে ছেদ পড়ে। পুজো কাটলেও গতি আর বাড়েনি। নির্বাচন কমিশনের হিসেব বলছে, এ রাজ্যে গতি হারিয়েছে তথ্য যাচাই কর্মসূচি।

সংখ্যার নিরিখে ইভিপি-তে একদা উত্তরপ্রদেশকে অনেকটাই পিছনে ফেলে দিয়েছিল বাংলা। এখন ঠিক তার উল্টো। রবিবার সকাল পর্যন্ত বাংলায় ৩.১১ কোটি ভোটার তথ্য যাচাই করেছেন। শতাংশের হিসেবে যা প্রায় ৪৫। উত্তরপ্রদেশে ৫.৯৯ কোটি ভোটার নাম, ঠিকানা, বয়স-সহ নানান তথ্য যাচাই করেছেন। কমিশন সূত্রের খবর, শতাংশের হিসেবে তা ৪১। ইভিপি-র সূচনালগ্ন থেকে ধারাবাহিক ভাবে ভাল করছিল রাজস্থান। তা বজায় রেখে ৩.৮০ কোটি ভোটার  (৭৮%) এতে যোগ দিয়েছেন। ইভিপি-তে উত্তর-পূর্বের মিজোরাম, মণিপুর, ত্রিপুরা শতাংশের নিরিখে বহু রাজ্যকে পিছনে ফেলে দিয়েছে। 

সব রাজ্যকে টেক্কা দিয়ে কর্মসূচি প্রায় শেষ করে ফেলেছে গোয়া। সেখানের ৯৭ শতাংশ ভোটার তথ্য যাচাই করেছেন বলে কমিশন সূত্রের খবর। কমিশনের এক কর্তার মতে, ‘‘ছোট হলেও এত দ্রুত ৯৭ শতাংশ ভোটারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা যথেষ্ট কৃতিত্বের। গোয়া তা করে দেখিয়েছে। অনেকেই ভাল করছে।’’

একদা বাংলায় দৈনিক গড়ে ১০-১২ লক্ষ ভোটার এই তথ্য যাচাই করছিলেন। তা এখন অর্ধেকে নেমে এসেছে। বাংলার এমন অবস্থা কেন?

কমিশনের অনেক কর্তার মতে, পশ্চিমবঙ্গে পুজোর জন্য ইভিপি-র গতি শ্লথ হয়ে গিয়েছিল। তা আর বাড়েনি। কর্তাদের অন্য একটি অংশের মতে, শুরুতে আমজনতা ঝাঁপিয়ে পড়ে ইভিপি-র মাধ্যমে তথ্য যাচাই করেছিল। এখন তাতে ভাটা পড়েছে। তা কাটাতে যে-প্রশাসনিক তৎপরতার প্রয়োজন ছিল, তা এখনও শুরু হয়নি। প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো গেলে পশ্চিমবঙ্গ ফের অন্যদের টেক্কা দিতে পারবে। এ রাজ্যে ইভিপি পর্বে সংশোধনের জন্য আট নম্বর ফর্ম (যার মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় করা সংশোধন হয়) জমা দিয়েছেন অন্তত ৭০ লক্ষ ভোটার।

অনলাইনে ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) অ্যাপের মাধ্যমে ইভিপি-র কাজ চলছে রাজস্থানে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে হাতে গোনা কয়েকটি জেলা ছাড়া বিএলও অ্যাপের মাধ্যমে ইভিপি-র কাজ শুরুই হয়নি বলে জানাচ্ছেন কমিশনের একাংশ। কয়েক দিনের মধ্যে বিএলও অ্যাপের কাজ শুরু করা যাবে বলে কমিশনের কর্তাদের আশা। আজ, সোমবার দুপুরে ভোটার তথ্য যাচাই কর্মসূচির অগগ্রতি নিয়ে জেলাশাসকদের সঙ্গে ভিডিয়ো-সম্মেলনে আলোচনা করার কথা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী অফিসার (সিইও) এবং অন্য নির্বাচন-কর্তাদের।