সিআইডিকে আগেই চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন প্রাক্তন আইপিএসঅফিসার ভারতী ঘোষ। এবার তাঁর নির্দেশে স্বামীর জামিনের আবেদন জানিয়ে মামলা দায়ের হল কলকাতা হাইকোর্টে। ইতিমধ্যেই আদালত সেই মামলা গ্রহণও করেছে।

কাল বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানি হওয়ার কথা। ভারতীর স্বামী এমএভি রাজুর জামিন আটকাতে চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখাতে চায় না সিআইডি। গোয়েন্দারা আদালতে কী নথি পেশ করবেন, রাজুর আইনজীবীও বা কী নথি তুলে ধরবেন,তাই নিয়েই আইনজীবী মহলের কৌতূহল তুঙ্গে। ভারতী নিজেও এই মামলাকে চ্যালেঞ্জ হিসাবেই নিয়েছেন।

পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরে তোলাবাজির মামলায় হাইকোর্টের সামনে থেকেই সম্প্রতি রাজুকে গ্রেফতার করে সিআইডি। এর পর ভারতী দাবি করেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর স্বামীকে গ্রেফতার করেছেন গোয়েন্দারা। মিথ্যা মামলায় তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। যদিও সিআইডি-র এক অফিসারের দাবি, নির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই রাজুকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: চিট-ফান্ড কাণ্ডে রাজীব কুমার-সহ পুলিশ কর্তাদের জেরা করতে চায় সিবিআই

আপাতত মেদিনীপুর সংশোধনাগারের দোতলার সেলে এমএভি রাজু রয়েছেন। তাঁর সেল ঘিরে রয়েছে নিরাপত্তার বজ্রআঁটুনি। মাওবাদী ছাড়া, অন্য কোনও বন্দিকে ঘিরে এত নিরাপত্তা, সম্প্রতি দেখেনি মেদিনীপুর সংশোধনাগার।ভারতী তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, গ্রেফতারির পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন রাজু। সামাজের চোখে তাঁকে অপরাধী বানানো হচ্ছে।

সিআইডি অবশ্য এর মধ্যে কোনও দোষ দেখছে না। গোয়েন্দাদের যুক্তি, কেউ যদি অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাঁকে গ্রেফতার করতে অসুবিধা কোথায়।

আরও পড়ুন: আইটি সেলের জন্য দফতর খুঁজছে বিজেপি

রাজু পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। সেখান থেকে তিনি ইতিমধ্যেই ইস্তফা দিয়েছেন। এছাড়াও তাঁর বিভিন্ন ব্যবসা ছিল। তোলাবাজির মামলায় রাজুর নাম জড়িয়ে যাওয়ায়, ব্যবসাতেও তার প্রভাব পড়েছে।গ্রেফতারি এড়াতে আগাম জামিন নিয়ে ছিলেন রাজু। পরে সেই আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায়, গত ৭ অগস্টহাইকোর্ট থেকে বেরোনোর সময় তাঁকে গ্রেফতার করেন গোয়েন্দারা।

বাংলার রাজনীতি, বাংলার শিক্ষা, বাংলার অর্থনীতি, বাংলার সংস্কৃতি, বাংলার স্বাস্থ্য, বাংলার আবহাওয়া - পশ্চিমবঙ্গের সব টাটকা খবর আমাদের রাজ্য বিভাগে।