তিনসুকিয়া গণহত্যা নিয়ে বিজেপি-কে আক্রমণ করায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আইনি নোটিস পাঠানো হল। রাজ্য দফতরে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে সোমবার সে কথা জানানো হল বিজেপির তরফে।

অসমের তিনসুকিয়ায় গত ১ নভেম্বর রাতে পাঁচ জন বাঙালিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সেই হত্যাকাণ্ডের জেরে শুধু অসম নয়, বাংলার রাজনীতিও উত্তাল। বিজেপিশাসিত অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি যে ভাবে উত্তপ্ত হয়েছে, তার জেরেই এই গণহত্যা ঘটল বলে তৃণমূল, বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেস অভিযোগ তুলেছে। কলকাতায় তো বটেই, প্রতিটি জেলাতেও মিছিল করেছে এই দলগুলি। তবে, সে সব বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সবচেয়ে চড়া সুর ছিল সাংসদ তথা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। একাধিক সভা থেকে বিজেপির দিকে সরাসরি আঙুল তুলেছেন তিনি। তার প্রেক্ষিতেই অভিষেককে আইনি নোটিস পাঠিয়ে দিল রাজ্য বিজেপি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে গত ২ নভেম্বর দুপুরেই কলকাতায় মিছিল করেন অভিষেক। কালো পতাকা নিয়ে যাদবপুর এইট-বি থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত মিছিল হয়। মিছিল শেষে হাজরা মোড়ে ভাষণ দেওয়ার সময়ে অভিষেক তীব্র আক্রমণ করেন। তিনসুকিয়া গণহত্যার পিছনে বিজেপির ভূমিকা রয়েছে— এমনই মন্তব্য শোনা যায় অভিষেকের মুখে। পরে ৪ নভেম্বর পুরুলিয়ায় একটি সভা করেন অভিষেক। সেই সভা থেকেও বিজেপির বিরুদ্ধে অভিষেক একই রকম অভিযোগ তোলেন।

আরও পড়ুন: দক্ষিণেশ্বরের পথে উল্টে গেল মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ের গাড়ি, আহত দুই পুলিশকর্মী

সোমবার রাজ্য বিজেপির তরফে সাংবাদিক সম্মেলন করেন তৃণমূল থেকে বিজেপি-তে যোগ দেওয়া এক নেতা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণের একটি অংশ প্রোজেক্টরের মাধ্যমে দেখানো হয় সাংবাদিক সম্মেলনে। তার পরে তৃণমূল থেকে বিজেপি-তে যোগ দেওয়া নেতা বলেন, ‘‘আমাদের দলের নামে বার বার যে মিথ্যা বলা হচ্ছে, তাতে দলের ভাবমূর্তিতে আঘাত লাগছে। তাই যিনি এই সব মন্তব্য করেছেন, তাঁকে আমরা আইনি নোটিস পাঠিয়েছি।’’

আরও পড়ুন: আচমকা চাল-টাকা সব বন্ধ, ক্ষোভে ফুঁসছে জমি আন্দোলনের গর্ভগৃহ সিঙ্গুর

মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সাত দিনের মধ্যে ক্ষমা না চাইলে মানহানির মামলা করা হবে বলে বিজেপি হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য শুধুমাত্র বিজেপির দিকে আঙুল তুলেই থামেননি। ২ নভেম্বর হাজরা মোড়ে ভাষণ দেওয়ার সময় রাজ্য বিজেপির তিন শীর্ষনেতার নাম করে অভিষেক চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন যে, অসমে বাঙালি হত্যার জন্য ওই নেতারা হাতজোড় করে ক্ষমা না চাইলে বাংলায় বিজেপির রথের চাকা নড়তে দেওয়া হবে না।

সেই চ্যালেঞ্জের জবাব বিজেপির তরফে দেওয়া হয়েছে সোমবার। ‘‘বিজেপির গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রার কথা যে দিন থেকে শুনেছে, সে দিন থেকেই তৃণমূল ভীত। তাই বার বার যাত্রা আটকানোর কথা বলছে,’’— মন্তব্য ওই বিজেপি নেতার। অভিষেককে বিজেপির পাল্টা চ্যালেঞ্জ, ‘‘নির্ধারিত দিনে, নির্ধারিত সময়ে, নির্ধারিত পথ ধরেই রথ এগোবে। কেউ আটকাতে পারবে না।’’