মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। ‘বাংলার মুখ্যমন্ত্রী খুনি মুখ্যমন্ত্রী’— মঙ্গলবার সন্দেশখালি ঘুরে এসে মন্তব্য মুকুল রায়ের। সন্দেশখালির পরিস্থিতিকে এ দিন নন্দীগ্রাম কাণ্ডের সঙ্গে তুলনা করেছেন মুকুল। আর বাংলার তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সঙ্গে তুলনা করেছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

সন্দেশখালির পরিস্থিতি নিয়ে মুকুল রায় গোড়া থেকেই অত্যন্ত সরব। তিনিই সর্বাগ্রে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করে পরিস্থিতি নিয়ে প্রাথমিক রিপোর্ট দেন। শনিবার সন্ধ্যার হত্যাকাণ্ডের পরে রবিবার সকালেই দিল্লি থেকে কলকাতায় ফেরেন মুকুল। প্রথমে স্থির হয়েছিল, সে দিনই মুকুল সন্দেশখালি যাবেন। কিন্তু পরে বিজেপি সংসদীয় প্রতিনিধিদল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাই মুকুলের সফর বাতিল হয়। কিন্তু সন্ত্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার সকালে মুকুল রায়কে সন্দেশখালিতে পাঠায় বিজেপি। সেখান থেকে কলকাতায় ফিরে এ দিন মুকুল রায় সাংবাদিক সম্মেলন করেন এবং তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রীকে।

মুকুল রায় এ দিন বলেন, ‘‘সন্দেশখালিতে আমাদের যে কর্মীরা খুন হয়েছেন, আমি আজ তাঁদের বাড়ি গিয়েছিলাম, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে এসেছি। সেখানে একটাই আওয়াজ উঠছে— খুনি মুখ্যমন্ত্রীর শাস্তি চাই।’’তিনি নিহত সুকান্ত মণ্ডল এবং প্রদীপ মণ্ডলের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থ সাহায্য দিয়েছেন। দুই পরিবারের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার ভারও নিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: বিদ্যাসাগর মূর্তি উন্মোচনের মঞ্চ থেকে ফের বিজেপিকে বিঁধলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়​

এক বার নয়, নিজের সাংবাদিক সম্মেলনে এ দিন অনেকবারই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘খুনি মুখ্যমন্ত্রী’ বলে সম্বোধন করেছেন মুকুল রায়। তিনি বলেন, ‘‘বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হচ্ছেন খুনি মুখ্যমন্ত্রী। নন্দীগ্রামের সময়ে যেমন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সারা গায়ে রক্তের দাগ লেগে গিয়েছিল, এখন তেমনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাড়িতে রক্তের দাগ লেগে গিয়েছে, সন্দেশখালির রক্তের দাগ।’’

আরও পড়ুন:  অশান্তি থামছেই না রাজ্যে, ফের রাজনৈতিক খুন, এ বার ভাটপাড়ায় হত ২ তৃণমূলকর্মী​

বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী এখনও নিখোঁজ সন্দেশখালিতে, এ দিন ফের দাবি করেছেন মুকুল রায়। যাঁরা নিখোঁজ, তাঁদের দেহ লোপাট করে দেওয়া হয়েছে বলেই বিজেপি সন্দেহ করছে— মুকুল এ দিন সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘বাদুড়িয়ায় বস্তার মধ্যে কিছু মাংস পাওয়া গিয়েছে। পুলিশ বলছে, ওটা পশুর মাংস। কিন্তু পশুর মাংস ওই ভাবে বস্তার মধ্যে রাখা হয়, এ রকম আমরা কখনও দেখিনি।’’

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের YouTube Channel - এ।