সঙ্ঘশ্রী হাতছাড়া হয়েছে। আদি দক্ষিণ কলকাতা বারোয়ারির দখলও শেষ পর্যন্ত নিতে পারেনি বিজেপি। কলকাতার ক’টা উল্লেখযোগ্য পুজো কমিটির নিয়ন্ত্রণ বিজেপি নিজের হাতে নিতে পারবে, তা স্পষ্ট নয়। কিন্তু দুর্গোৎসবকে ঘিরে জনসংযোগের চেষ্টা যে বিজেপি ক্রমশ বাড়াচ্ছে, তা পরিষ্কার হয়ে গেল মহিলা মোর্চার ঘোষণায়। মহালয়া থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত একাধিক কর্মসূচি ঘোষণা করলেন মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী তথা সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়।

রবিবার রাজ্য বিজেপির সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করেন লকেট। ‘দুয়ারে দুয়ারে পদ্মের আগমনী’— এই নামের একটি জনসংযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করেন লকেট। কর্মসূচির পোস্টার প্রকাশ করে তিনি জানান, মহালয়ার দিন বিভিন্ন পুজো মণ্ডপ থেকে প্রভাব ফেরি বার করবে মহিলা মোর্চা। সংশ্লিষ্ট এলাকার মহিলাদের নিয়েই ওই প্রভাত ফেরির আয়োজন হবে। বিজয়া দশমীতে আবার বিভিন্ন মণ্ডপে মহিলা মোর্চা আয়োজন করবে সিঁদুর খেলার।

তবে ‘দুয়ারে দুয়ারে পদ্মের আগমনী’ শুধু এতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। রাজনৈতিক কর্মসূচিও রয়েছে এর আওতায়। মোদী সরকার যে সব জনমুখী প্রকল্প চালু করেছে, এখন থেকে মহিলা মোর্চার কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই সব প্রকল্পের কথা তুলে ধরবেন বলেও লকেট জানান। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত, উজ্জ্বলা যোজনা, জনধন যোজনা, মুদ্রা লোন, স্বচ্ছ ভারত— এই সব প্রকল্পের কথা তুলে ধরা হবে।

আরও পড়ুন: আক্রান্ত অর্জুন সিংহ, ফাটল মাথা, পার্টি অফিস দখল ঘিরে রণক্ষেত্র গোটা ব্যারাকপুর

এই জনসংযোগ কর্মসূচির সঙ্গে দুর্গোৎসবকে সচেতন ভাবেই যে জুড়ে নেওয়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট। প্রথমত, এ রাজ্যে দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জনসংযোগের চেষ্টা নতুন নয়। দ্বিতীয়ত, বিজেপি সরকার এ রাজ্যের দুর্গোৎসবকে আয়কর বিভাগের কোপে ফেলতে চাইছে বলে যে আক্রমণ তৃণমূল করছে, তার জবাব দেওয়ার জন্যও দু্র্গাপুজোয় আরও বেশি করে অংশ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছে বিজেপি নেতৃত্ব। বিভিন্ন পুজোর নিয়ন্ত্রণ হাতে নেওয়ার চেষ্টা তো চলছেই। সঙ্গে মহিলা মোর্চাকেও নামানো হচ্ছে পুজো-কেন্দ্রিক জনসংযোগ অভিযানে।

আরও পড়ুন: অশালীন মিম! তৃণমূলের অধ্যাপক নেতার বিরুদ্ধে লালবাজারে অভিযোগ বৈশাখীর