ভোট পরবর্তী হিংসায় রক্তাক্ত চাকদহ। শুক্রবার রাতে চাকদহে খুন হন বিজেপি সমর্থক বলে এলাকায় পরিচিত সন্তু ঘোষ। বাড়ির কাছে একটি মাঠে ডেকে তাঁকে গুলি করে খুন করে দুষ্কৃতীরা। তার পর থেকেই উত্তপ্ত চাকদহ এলাকা।

শনিবার দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রানাঘাট-শিয়ালদহ শাখার তিনটি স্টেশনও বিজেপি সমর্থকেরা দীর্ঘক্ষণ অবরোধ করেন। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন নিত্যযাত্রীরা। পরে অবশ্য দোষীদের গ্রেফতারের আশ্বাস পেয়ে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘আমাদের কর্মীদের মারা হচ্ছে। পুলিশ-সরকারের দায়িত্ব নেওয়া উচিত। ভোটের কিছু দিন আগে সন্তু দলে যোগ দিয়েছিল। খুব খেটেছে। তাই ওকে টার্গেট করা হয়েছে।’’ এ দিকে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের দাবি, সন্তু তৃণমূল কর্মী ছিলেন। তৃণমূল খুনের রাজনীতি করে না। তা সমর্থনও করে না। পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।

আরও পড়ুন, সর্বাধিক ভোটে নুসরতের জয়ের মূলে বাম সমর্থনও

যদিও স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন সন্তু। শুক্রবার রাতে গৌড়পাড়া তপোবন স্কুলের কাছে একটি মাঠে তাঁকে গুলি করা হয়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। প্রতিবাদে শনিবার সকাল থেকেই শিমুরালি, চাকদহ ও মদনপুর স্টেশনে রেল লাইনে আবরোধ করেন বিজেপি সমর্থকেরা।

আরও পড়ুন, লক্ষ্য এ বার পুরসভা, কর্মীদের বলছেন দিলীপ

সন্তুর পরিচিতরা জানিয়েছেন, তিনি বড়বাজারে সোনার দোকানে কাজ করতেন। শুক্রবার রাতে বাড়ি ফিরে মাকে রুটি করতে বলেন। তখনও একটি ফোন পেয়ে চলে যান সন্তু। বাড়ির অদূরে একটি মাঠে তাঁর রক্তক্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। চাকদহ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। সন্তুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। দু’দলই দাবি করছে, সন্তু তাদের কর্মী। এ নিয়ে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

(মালদহ, দুই দিনাজপুর, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং সহ উত্তরবঙ্গের খবর, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা খবর পড়ুন আমাদের রাজ্য বিভাগে।)