ভাটপাড়া থেকে পাত্রসায়র— যেখানে যেখানে গুলি চলেছে এবং বিজেপি কর্মী বা সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন, সেই সব ঘটনাতেই সিবিআই তদন্ত দাবি করছে বিজেপি। পাশাপাশি, লোকসভা ভোট পরবর্তী হিংসার প্রতিবাদে রাজ্যের সব পুলিশ সুপারের দফতরের সামনে আজ, সোমবার ধর্না দেবে তারা। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল অবশ্য অভিযোগ করছে, যে কোনও ঘটনায় সিবিআই তদন্ত দাবি করে বিজেপি আসলে আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ ডেকে আনতে চাইছে।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষ রবিবার বলেন, ‘‘শুধু ভাটপাড়া নয়, পাত্রসায়রেও গুলি চলেছে। খণ্ডঘোষ, আমডাঙা-সহ রাজ্যের সর্বত্রই প্রায় প্রতি দিন আমাদের দলের কোনও না কোনও কর্মীকে খুন করা হচ্ছে। তাই এ সব ক্ষেত্রে সিবিআই তদন্ত চাইছি।’’

লোকসভা ভোটের পর থেকে রাজ্যের নানা প্রান্তে অশান্তি বাধছে। দিলীপবাবুর অভিযোগ, তৃণমূলের প্রতি মানুষের যে ক্ষোভ রয়েছে, তার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে পুলিশের উপরে তাদের আক্রমণে। পুলিশ অসুরক্ষিত হয়ে পড়ছে। সেই সুযোগে দুষ্কৃতীরা তাণ্ডব চালাচ্ছে। দিলীপবাবু বলেন, ‘‘রাজ্যের এই পরিস্থিতিতে গোটা দেশ উদ্বিগ্ন। আমরা ৩৫৬ ধারার প্রয়োগ চাইনি। কিন্তু আইনশৃঙ্খলার এই রকম অবনতি চলতে থাকলে মানুষই রাষ্ট্রপতি শাসন চাইবে।’’

তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পাল্টা বক্তব্য, ‘‘যত অশান্তি, সব ২৩ মে-র পর থেকে কেন? তার মানে তো একটা নির্দিষ্ট দল অশান্তি করছে। তার পরে সিবিআইয়ের নাম করে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ চাইছে।’’ ভাটপাড়ার উদাহরণ দিয়ে পার্থবাবু বলেন, ‘‘অর্জুন সিংহ যত দিন আমাদের দলে ছিলেন, এমন অশান্তি তো হয়নি। দল সবটা নিয়ন্ত্রণ করতে জানত। বিজেপিতে গিয়ে উনি জেতার পর থেকে গোলমাল হচ্ছে, কারণ বিজেপি সেটাই চাইছে।’’ তাঁর আরও দাবি, ‘‘সিপিএমের সঙ্গে আমাদের লড়াই ছিল আদর্শগত। বিজেপির কোনও আদর্শ নেই। তারা যে অশান্তির রাজনীতি করছে, আমরা তা কখনও করিনি। দু’টো লড়াইয়ের মধ্যে ফারাক আছে।’’

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।